শিরোনাম
◈ ১৪টি ১২ তলা ভবন নিয়ে নতুন সচিবালয়, থাকছে যেসব সুবিধা ◈ কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩৯০ কোটি টাকা দেবে কানাডা ◈ মাঝ আকাশে দরজা খুলে ঢাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জরুরি অবতরণ, রোগীর মৃত্যু ◈ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে বিস্তারিত যে তথ্য চাইলো ঢাকা ◈ মেসির জোড়া গোলে ইন্টার মিয়ামির দাপু‌টে জয় ◈ চিকিৎসা নিতে এসে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ঢামেকের রোগীরা ◈ ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি, স্বাগত জানালেন বাফুফে সভাপতি ◈ গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিচ্ছে সরকার, যেভাবে মিলবে ◈ বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি ◈ মাতারবাড়ী বন্দরকে শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে চায় জাপান, যুক্ত হবে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল

প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:০২ রাত
আপডেট : ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:০৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঘরে বসেই ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করবেন যেভাবে, জানুন খরচ ও নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে এখন আর আবেদন থেকে শুরু করে ফি জমা দেওয়ার প্রতিটি ধাপে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে যেতে হয় না। সংস্থাটির অনলাইন সেবা পোর্টালের মাধ্যমে ঘরে বসেই শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের আবেদন, ফি পরিশোধ, পরীক্ষার ফল দেখা এবং স্মার্ট কার্ড লাইসেন্সের জন্য পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।

তবে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে শেষ হয় না। লাইসেন্স পেতে নির্ধারিত তারিখে দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যোগ্যতা, ফি ও পরীক্ষার নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি।

বিআরটিএর সেবা পোর্টাল: bsp.brta.gov.bd। এখান থেকে শিক্ষানবিশ ও স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন, নবায়ন এবং অন্যান্য সেবা নেওয়া যায়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কী যোগ্যতা লাগবে?

Advertisement

ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে নির্ধারিত বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। সাধারণভাবে অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং পেশাদার লাইসেন্সের জন্য ২১ বছর। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অন্তত অষ্টম শ্রেণি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার বিষয়টিও প্রমাণ করতে হয়।

আবেদনের আগে যেসব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) স্ক্যান কপি
  • নিবন্ধিত চিকিৎসকের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট
  • সাম্প্রতিক তোলা ছবি
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ

এনআইডির ঠিকানার সঙ্গে বর্তমান ঠিকানা না মিললে ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ইউটিলিটি বিল বা গ্রহণযোগ্য নথি

কাগজপত্র স্ক্যান করে পোর্টালে নির্ধারিত ফাইলের ধরন ও আকার অনুযায়ী আপলোড করতে হবে। ভুল তথ্য বা অস্পষ্ট নথির কারণে আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

যেভাবে অনলাইনে লার্নার লাইসেন্সের আবেদন করবেন

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম ধাপ হলো শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্স। এ জন্য কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।

১. পোর্টালে নিবন্ধন: প্রথমে বিআরটিএর সেবা পোর্টালে প্রবেশ করে নিবন্ধন করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগের তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

২. প্রোফাইল পূরণ: অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।

৩. আবেদন ফরম পূরণ: ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন অপশন থেকে লাইসেন্সের ধরন ও যানবাহনের ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে। যেমন, মোটরসাইকেল বা হালকা মোটরযান। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে।

৪. কাগজপত্র আপলোড: মেডিকেল সার্টিফিকেট, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি নির্ধারিত নিয়মে আপলোড করতে হবে। বর্তমান ঠিকানা এনআইডির ঠিকানা থেকে আলাদা হলে প্রযোজ্য ঠিকানার প্রমাণও দিতে হবে।

৫. ফি পরিশোধ: আবেদন সম্পন্ন হলে পোর্টালে প্রদর্শিত নির্ধারিত ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। বিআরটিএর সেবা পোর্টালে অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়।

৬. লার্নার লাইসেন্স সংগ্রহ: আবেদন ও ফি পরিশোধের পর পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষানবিশ লাইসেন্স সংগ্রহ বা ডাউনলোড করতে হবে। পরীক্ষার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে।

প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার নিয়ম

লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার পর গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এরপর বিআরটিএ নির্ধারিত তারিখ ও কেন্দ্রে দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। পরীক্ষায় লিখিত, মৌখিক এবং ব্যবহারিক অংশ থাকতে পারে।

পরীক্ষার দিন শিক্ষানবিশ লাইসেন্স, পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা ভালো। পরীক্ষার ফল বিআরটিএর সেবা পোর্টালে প্রকাশ করা হলে সেখানে লগইন করে ফল জানা যাবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাবে।

স্মার্ট কার্ড লাইসেন্সের জন্য আবেদন

দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিআরটিএর সেবা পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন ও ফি পরিশোধ করতে হবে।

পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী ডোপ টেস্টের সনদসহ অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হয়। আবেদন গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স বা কার্ড সংগ্রহের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের সময় সম্পর্কে পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা এবং এসএমএস অনুসরণ করা উচিত। আবেদন করার সময় ঠিকানা সঠিকভাবে দেওয়া জরুরি।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে?

বিআরটিএর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ও স্মার্ট কার্ডের জন্য আলাদা ফি দিতে হয়। তবে আবেদনকারীর ক্যাটাগরি, সেবার ধরন এবং সর্বশেষ ফি নির্ধারণের ওপর মোট খরচ নির্ভর করে।

বিআরটিএর প্রকাশিত সেবা-তথ্যে উল্লেখিত ফি অনুযায়ী:

  • লার্নার লাইসেন্স: একটি ক্যাটাগরিতে ৫১৮ টাকা এবং দুটি ক্যাটাগরিতে ৭৪৮ টাকা।
  • অপেশাদার স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স: ৪ হাজার ৪৯৭ টাকা; মেয়াদ ১০ বছর।
  • পেশাদার স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স: ২ হাজার ৭৭২ টাকা; মেয়াদ ৫ বছর।
  • ডাকযোগে কার্ড বিতরণ: অতিরিক্ত ৬০ টাকা।

এগুলো বিআরটিএর প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া অঙ্ক। ফি পরিবর্তিত হতে পারে এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। তাই টাকা জমা দেওয়ার আগে বিআরটিএর সেবা পোর্টালের ফি ক্যালকুলেটর থেকে সর্বশেষ ফি যাচাই করতে হবে।

লাইসেন্সের আবেদন ও বৈধতা যাচাই করবেন যেভাবে

আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে বিআরটিএর সেবা পোর্টালে লগইন করতে হবে। সেখানে আবেদন, পরীক্ষার ফল ও সংশ্লিষ্ট সেবার তথ্য দেখা যায়।

লাইসেন্স যাচাইয়ের জন্যও বিআরটিএর অনলাইন সেবায় থাকা যাচাইব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে। এসএমএসের মাধ্যমে যাচাই করতে চাইলে বিআরটিএর বর্তমান নির্দেশনায় দেওয়া ফরম্যাট ও নম্বর অনুসরণ করা উচিত।

আবেদন করার আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন নিজে করতে চাইলে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। প্রথমত, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথিতে থাকা তথ্যের সঙ্গে আবেদনের তথ্য মিলিয়ে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্পষ্টভাবে স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। তৃতীয়ত, ফি জমা দেওয়ার আগে পোর্টালে প্রদর্শিত অঙ্ক যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া দালালের মাধ্যমে কাজ করানোর পরিবর্তে বিআরটিএর সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করা নিরাপদ। আবেদন থেকে পরীক্ষা ও লাইসেন্স সংগ্রহ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

ডিজিটাল সেবা পোর্টালের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। তবে অনà¦