শিরোনাম
◈ কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩৯০ কোটি টাকা দেবে কানাডা ◈ মাঝ আকাশে দরজা খুলে ঢাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জরুরি অবতরণ, রোগীর মৃত্যু ◈ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে বিস্তারিত যে তথ্য চাইলো ঢাকা ◈ মেসির জোড়া গোলে ইন্টার মিয়ামির দাপু‌টে জয় ◈ চিকিৎসা নিতে এসে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ঢামেকের রোগীরা ◈ ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি, স্বাগত জানালেন বাফুফে সভাপতি ◈ গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিচ্ছে সরকার, যেভাবে মিলবে ◈ বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি ◈ মাতারবাড়ী বন্দরকে শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে চায় জাপান, যুক্ত হবে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল ◈ নুডলস খেয়ে নয় যে কারণে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৪২ বিকাল
আপডেট : ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৪২ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

উখিয়ার শ্মশানভূমি নিয়ে বিরোধ, ইউএনও পান্না আক্তারের মধ্যস্থতায় স্বস্তি

সরওয়ার আজম মানিক,কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়া সদরের দারোগা বাজার কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর ও জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ভাঙচুর হওয়া প্রাচীর পুনর্নির্মাণ, ফাঁকা স্থানে টিনের বেড়া ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এতে শ্মশান ও সংলগ্ন দুর্গামন্দিরের নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে। স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায় উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করছে।

সপ্তমী পূজার দিনে দারোগা বাজার সমাজ শ্মশান ভৈরব ও দুর্গামন্দির উন্নয়ন এবং পরিচালনা পরিষদের প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। এ সময় শ্মশানের জমি নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের বিষয়ে নিজেদের বক্তব্যের পাশাপাশি সরকারি রেকর্ড ও আদালতের নথিপত্র তুলে ধরেন তাঁরা।

পরিচালনা পরিষদের দাবি, সরকারি খতিয়ান ও দাগসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, শ্মশানের নামে ১ একর ১২ শতক জমি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় জমিটি শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তবে দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকায় দক্ষিণ পাশের আনুমানিক ১৫ শতক জমি সংলগ্ন এলাকার কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে দখলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পরিষদের। এতে মৃতদেহের সৎকার ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

জমি উদ্ধারে ২০০৭ সালে জেলা প্রশাসনের রাজস্ব আদালতে উচ্ছেদ মামলা করা হয়, যার নম্বর ০২/০৭-০৮। পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর উচ্ছেদের আদেশ দেওয়া হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় তা কার্যকর হয়নি। অন্যদিকে, প্রয়াত জাকের হোছন মুন্সি ১৯৮৬ সালে শ্মশানের শ্রেণি পরিবর্তন করে ৪০ শতক জমি বন্দোবস্তের আবেদন করেছিলেন। পরিষদের বক্তব্য, বন্দোবস্তের আবেদন করলেই জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না; এ ক্ষেত্রে সরকারি অনুমোদন ও ভূমিসংক্রান্ত নথিপত্র গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

পরিচালনা পরিষদের তথ্যমতে, সাহাব উদ্দিন গং ২০১২ সালে জমির স্বত্ব ঘোষণার দাবিতে উখিয়ার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। ২০১৯ সালের ৩০ মে মামলাটিতে সরকার ও শ্মশানপক্ষের অনুকূলে রায় আসে। পরে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে আপিল করা হয়। পরিষদের ভাষ্য, ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরের রায়ে বাদীপক্ষকে ৪০ শতক জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার হকদার বলে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হলেও সরকারকে জমি বন্দোবস্ত দিতে বাধ্য করা হয়নি।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন মামলা করা হয়, যার নম্বর ২৬৮১/২০২১। পরিষদের দাবি, মামলাটিতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং ২০২২ সালের ৮ জুনের আদেশে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল রাখা হয়।

পরিষদ জানায়, ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিরোধপূর্ণ জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। ওই সময় জরিপের মাধ্যমে সীমানা চিহ্নিত করা হয়। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সমঝোতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি পরিষদের। তবে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সময় মাঝের একটি গাছ ও সংলগ্ন জায়গা নিয়ে আপত্তি ওঠায় কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর শ্মশানের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিষদের ভাষ্য, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে পূজা উদযাপন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর পরামর্শে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরীর মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ভাঙচুর হওয়া অংশ পুনর্নির্মাণ, টিনের বেড়া স্থাপন ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়।

পরিচালনা পরিষদের দাবি, হাইকোর্টে চলমান মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ স্থানে কোনো পক্ষ প্রবেশ করবে না বলে উভয় পক্ষ প্রশাসনের কাছে লিখিত অঙ্গীকার করেছে। বর্তমানে স্থানটি উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

পরিষদ আরও জানায়, ২০১১ সালের ১৮ মে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে শ্মশানভূমির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।

পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে মাস্টার মুকুন্দ প্রসাদ রুদ্র, সাংবাদিক রতন কান্তি দে ও অ্যাডভোকেট রবীন্দ্র দাশ রবি বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁরা শ্মশানের পবিত্রতা রক্ষা, মৃতদের শেষ ঠিকানা সংরক্ষণ, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ধারণ ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।

দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে আপাতত নিরাপত্তা ও পূজা উদযাপনের পরিবেশ ফিরলেও জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।