শিরোনাম
◈ মন্ত্রিসভা থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের নির্দেশ নিয়ে ধোঁয়া ◈ নারী টি-টোয়েন্টিতে বাংলা‌দেশ দলের নতুন অধিনায়ক নাহিদা আক্তার ◈ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই খুব উত্তপ্ত, দফায় দফায় সংঘর্ষ ◈ ঢাকা থেকে ১১৮ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ১৮৩৬২ যাত্রী ◈ দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি: তারেক রহমান ◈ একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা, এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আশাবাদী, জানালেন পরিকল্পনা ◈ প্রশাসনে সচিব পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে দপ্তর বদল ও পদায়ন করেছে সরকার, কে কোথায় গেলেন ◈ যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব ◈ যাত্রীশূন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এমন রূপ কেউ কখনও দেখেননি আগে (ভিডিও)

প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৫২ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নবীনগরে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা ক্যাপসিকাম চাষ

ইব্রাহীম খলিল, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় কৃষিতে যুক্ত হয়েছে নতুন সম্ভাবনাময় সবজি ফসল ক্যাপসিকাম। এই প্রথমবারের মতো উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ক্যাপসিকামের আবাদ শুরু হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নবীনগর পৌরসভা, লাউরফতেহপুর, সাতমোড়া, বীরগাঁও ও জিনদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০ বিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করা হচ্ছে।

ক্যাপসিকাম, যা মিষ্টি মরিচ নামেও পরিচিত, সবুজ, লাল ও হলুদ—এই তিন রঙে বাজারে পাওয়া যায়। এতে প্রচুর ভিটামিন সি, ভিটামিন এ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। ঝাল না হলেও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই সবজির ব্যবহার আধুনিক রান্নায় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজারে চাহিদা ও দাম তুলনামূলক ভালো হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ক্যাপসিকাম চাষে তুলনামূলক কম জমি ব্যবহার করেও ভালো ফলন পাওয়া যায়। মালচিং পদ্ধতিতে প্রতি বিঘা জমিতে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ চারা প্রয়োজন হয়। এক বিঘা জমিতে চারা, সার ও অন্যান্য উপকরণসহ উৎপাদন ব্যয় হচ্ছে আনুমানিক ৫৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা। সঠিক পরিচর্যা করলে চারা রোপণের ৬০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই প্রথম ফল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এরপর ৭ থেকে ১০ দিন পরপর ফল সংগ্রহ করা যায় প্রায় তিন মাস পর্যন্ত। বর্তমানে খুচরা বাজারে ক্যাপসিকামের দাম কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে গড়ে ৩ থেকে ৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।

ইতোমধ্যে নবীনগরের বিভিন্ন এলাকায় আবাদকৃত ক্যাপসিকাম ক্ষেতে আশাব্যঞ্জক ফলন দেখা গেছে। সাতমোড়া ইউনিয়নের মাধবপুর মহল্লার প্রবাস ফেরত কৃষি উদ্যোক্তা হবি মিয়া জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের ফসল প্রদর্শনী প্রকল্পে বরাদ্দ পেয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহর পরামর্শে আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করে ক্যাপসিকাম আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ক্যাপসিকাম চাষে লাভের পরিমাণ অন্যান্য অনেক সবজির তুলনায় বেশি। মালচিং পেপার ব্যবহারের ফলে আগাছা কমেছে এবং ফলন ভালো হচ্ছে। ভবিষ্যতে পলিনেট হাউজের মাধ্যমে অফ-সিজনেও বড় পরিসরে আবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Advertisement

নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, শিক্ষিত তরুণ ও উদ্যমী কৃষকদের বাণিজ্যিক কৃষিতে যুক্ত করতে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও কৃষি উপকরণ দেওয়া হচ্ছে। এই বছর প্রথমবারের মতো উপজেলায় ১০ বিঘা জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু হয়েছে। উন্নত জাতের বীজ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমনে সচেতন হলে ক্যাপসিকাম নবীনগরের একটি সম্ভাবনাময় ফসলে পরিণত হবে। পাশাপাশি কৃষকদের সঙ্গে স্থানীয় সুপারশপ, আড়তদার ও রেস্টুরেন্টের বাজার সংযোগ তৈরিতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, শীতকালীন সবজি হিসেবে ক্যাপসিকাম বর্তমানে কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে চারা রোপণ করলে ডিসেম্বর থেকেই ফল সংগ্রহ শুরু করা যায় এবং একবার ফলন শুরু হলে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত উত্তোলন সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশজুড়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও ক্যাপসিকামের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানে এর ব্যবহার বেড়েছে কয়েকগুণ। পুষ্টিগুণ ও বাজার সম্ভাবনার কারণে ভবিষ্যতে ক্যাপসিকাম চাষ কৃষকদের জন্য আরও লাভজনক হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ