শিরোনাম
◈ মন্ত্রিসভা থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের নির্দেশ নিয়ে ধোঁয়া ◈ নারী টি-টোয়েন্টিতে বাংলা‌দেশ দলের নতুন অধিনায়ক নাহিদা আক্তার ◈ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই খুব উত্তপ্ত, দফায় দফায় সংঘর্ষ ◈ ঢাকা থেকে ১১৮ ফ্লাইট বাতিল, আটকা ১৮৩৬২ যাত্রী ◈ দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি: তারেক রহমান ◈ একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা, এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে আশাবাদী, জানালেন পরিকল্পনা ◈ প্রশাসনে সচিব পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে দপ্তর বদল ও পদায়ন করেছে সরকার, কে কোথায় গেলেন ◈ যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব ◈ যাত্রীশূন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এমন রূপ কেউ কখনও দেখেননি আগে (ভিডিও)

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:০৪ দুপুর
আপডেট : ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দুই বছর পর সন্ধান মিলল বরগুনার ১৭ নিখোঁজ জেলের, ভারতের গুজরাটের কারাগারে বন্দি

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ দুই বছর পর অবশেষে সন্ধান মিলেছে বরগুনার ১৭ জেলের। তারা বর্তমানে ভারতের গুজরাটের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এই খবরে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে বইছে স্বস্তির হাওয়া, তবে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে উত্তাল বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে নিখোঁজ হয় বরগুনার এফবি এলাহী ভরসা নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার। এ সময় ট্রলারটিতে ছিলেন বরগুনার বিভিন্ন এলাকার ১৭ জন জেলে।

নিখোঁজ ওই ১৭ জেলে হলেন- আউয়াল বিশ্বাস, মাহাতাব, ইউনুস সর্দার, মো. আল-আমীন, মো. কামাল, মো. ফারুক মিস্ত্রি, আ. খালেক ও মো. নানটু মিয়ার বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের মরখালী, খাগবুনিয়া এবং কদমতলা নামক এলাকায়। এছাড়া একই উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের গাজী মাহমুদ ও নাচনা পাড়া নামক এলাকার সিদ্দিক মৃধা, মো. মনির হোসেন, সহিদুল ইসলাম, মো. খলিল, আ. রব, লিটন ও মো. সুবাহান খাঁ নামে মোট ১৫ জন জেলে নিখোঁজ হয়।

এছাড়াও পাথারঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এবং বড়ইতলা এলাকা থেকে শফিকুল ইসলাম ও কালু মিয়া নামে আরও দুই জেলে নিখোঁজ হয়। সম্প্রতি ভারতের গুজরাটের একটি কারাগারে তাদের সন্ধান পেয়েছেন বলে দাবি স্বজনদের।

Advertisement

সরেজমিনে সন্ধান পাওয়া জেলেদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের সন্ধান জানতে পেয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন নিখোঁজ ইউনুস সরদারের মা তারাবানু। নিখোঁজ ছেলের ছোট একটি ছবি নিয়ে আহাজারিতে লুটিয়ে পড়ছেন তিনি। শুধু ইউনুস সর্দারের মা তারাবানু নয়, নিখোঁজ জেলেদের ফিরে পেতে এখন অপেক্ষার সময় পার করছেন বরগুনার মরখালি নামক এলাকার নিখোঁজ ৫ জেলের স্বজনরা। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানের বিষয়ে নিশ্চিত হতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তারা। তাদের আশা, সরকার খুব দ্রুতই নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেবেন।

দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আনার দাবি জানিয়ে নিখোঁজ জেলে আউয়াল বিশ্বাসের স্ত্রী মোসা. নার্গিস বলেন, দুই বছর আগে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আমার স্বামী নিখোঁজ হন। এখন জানতে পারছি তিনি বেঁচে আছেন এবং ভারতের গুজরাটে আছেন। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, দ্রুত যেন তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তিনিই ছিলেন আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের লোক।

একই এলাকার নিখোঁজ জেলে মাহাতাবের স্ত্রী খাদিজা বেগম বলেন, স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছি। মানুষের বাসায় কাজ করে সংসার চালিয়েছি। এখন শুনছি, তারা বেঁচে আছেন। কিন্তু আমরা এখনো তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। শুধু পুলিশ এসে তাদের তথ্য নিয়ে গেছে, বলছে ভারতের কারাগারে আছেন। এটা কি সত্য নাকি আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। আমরা চাই, সরকার তাদেরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক।

নিখোঁজ জেলে ইউনুস সর্দারের ভাই মো. ইদ্রিস বলেন, আমার ভাই নিখোঁজের পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও তাদের কোনো সন্ধান আমরা পাইনি। তবে কিছুদিন আগে আমাদের সাবেক চেয়ারম্যান বলছেন, তাদের খোঁজ পাওয়া গেছে। পরে তার সঙ্গে থানায় গিয়ে কথা হয় আমাদের। তারা বলেছে, নিখোঁজ জেলেদের ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢলুয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল টিটু বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির সময় আমার এলাকার একটি ট্রলার নিখোঁজ হয়। এই ট্রলারে আমার এলাকার ৫ জনসহ বরগুনার মোট ১৭ জেলে ছিলেন। সম্প্রতি বরগুনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) থেকে নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে আমরা জানতে পারি, নিখোঁজ হওয়া ওই জেলেরা ভারতের গুজরাটের একটি জেলে বন্দি আছেন। এরপর আমি পরিবারগুলোর সদস্যদের খবর জানাই এবং পুলিশ সদস্যরাও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, আমাদের অধিদপ্তর স্ব-প্রণোদিত হয়ে ১৭জন নিখোঁজ জেলেদের বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ওই তালিকা আমাদের মৎস্য দপ্তরের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য মিললেই দ্রুত তারা তাদেরকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

  • সর্বশেষ