শিরোনাম
◈ ২০২৬ সালে ভ্রমণের জন্য সেরা ২০ আন্তর্জাতিক গন্তব্য ◈ ১২ জানুয়ারি ঢাকায় আসছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ◈ গণভোটের প্রচারে সরকারের উদ্যোগ: জনগণকে জানাতে সকল বিভাগে বড় আয়োজন ◈ মোস্তাফিজের শেষ ওভারের ম্যাজিকে ঢাকাকে হারিয়ে রংপুরের শ্বাসরুদ্ধকর জয় ◈ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১৮৪২, বাতিল ৭২৩ ◈ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত পরিবর্তনে কূটনৈতিক উদ্যোগে মার খাচ্ছে ভারত ◈ গুমের পেছনে মূলত ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কমিশন ◈ দিল্লিতে বসে থাকা ‘বোন’ শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান: মোদিকে আসাদুদ্দিন ওয়াইসি ◈ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, এবার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া ◈ নির্বাচন সামনে রেখে দেশজুড়ে যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু

প্রকাশিত : ০৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৩৫ বিকাল
আপডেট : ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুর-৪ : কৃষক দল নেতা বাবুলের বিরুদ্ধে ৪০ মামলা, হলফনামায় যা বলছে বাবুল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর-৪ আসন (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও কৃষক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি এই আসনে আলোচিত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামা অনুযায়ী তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, শিক্ষাগত, পেশাগত ও আর্থিক তথ্য উঠে এসেছে।

পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিচয়: মো. শহিদুল ইসলাম বাবুলের পিতার নাম মো. সিরাজুল ইসলাম খান এবং মাতার নাম মরিয়ম বেগম। তাঁর স্ত্রী নাজনীন রীনা পেশায় একজন চাকরিজীবী এবং তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং পারিবারিকভাবে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

তাঁর বর্তমান ঠিকানা ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামে। অপরদিকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের কোনাগ্রাম। জন্মসূত্রে ফরিদপুরের সন্তান হওয়ায় এলাকার মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে।

শিক্ষা ও পেশাগত জীবন: হলফনামা অনুযায়ী শহিদুল ইসলাম বাবুল শিক্ষাগতভাবে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। পেশাগত জীবনে তিনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি ‘মানিপ্লান্ট লিংক প্রা: লিমিটেড’ এবং ‘ইউনিসার্ভিস’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

তাঁর স্ত্রী নাজনীন রীনা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে নিয়মিত বেতনভুক্ত কর্মজীবন পরিচালনা করছেন, যা পারিবারিক আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রাজনৈতিক পরিচয় ও অভিজ্ঞতা: রাজনৈতিকভাবে মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল বিএনপির একজন পরিচিত মুখ। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষক অধিকার, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন ইস্যুতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং ফরিদপুর অঞ্চলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এ কারণেই দলীয় মনোনয়নে তিনি এগিয়ে রয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।

আয় ও সম্পদের বিবরণ: নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, মো. শহিদুল ইসলাম বাবুলের বার্ষিক আয় ১৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৪ টাকা। তাঁর স্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ ১৬ হাজার ৩৯ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের হিসাবে তার নিজের নামে নগদ অর্থ রয়েছে ১৫ হাজার ৭০২ টাকা। ব্যাংকে জমা রয়েছে ৮ লাখ ৮২ হাজার ৭২০ টাকা। এছাড়া তার মালিকানায় প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকসহ যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তার নিজের নামে কোনো স্বর্ণালংকার নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অপরদিকে তার স্ত্রী নাজনীন রীনার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। তার নগদ অর্থ রয়েছে ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ৫৩৮ টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২১৯ টাকা। সঞ্চয়পত্র, ফিক্সড ডিপোজিট ও ডাক সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ রয়েছে মোট ৩২ লাখ টাকা। এছাড়া তার নামে ২১ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।

আয়কর ও আইনগত তথ্য: আয়কর সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, শহিদুল ইসলাম বাবুল সর্বশেষ আয়বর্ষে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৭৯ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। তার স্ত্রী নাজনীন রীনা আয়কর দিয়েছেন ৪১ হাজার ৩৪৫ টাকা।

মামলা সংক্রান্ত তথ্যের ঘরে উল্লেখ করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে মোট ৪০টি মামলা ছিল। তবে হলফনামা অনুযায়ী তিনি সবগুলো মামলা থেকেই খালাস পেয়েছেন। আইনগতভাবে বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো বিচারাধীন মামলা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট: ফরিদপুর-৪ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন। ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান প্রধান নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শহিদুল ইসলাম বাবুল তাঁর নির্বাচনী প্রচারে কৃষক স্বার্থ, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আর্থিক স্বচ্ছতার বিবরণসহ মো. শহিদুল ইসলাম বাবুলের হলফনামা ফরিদপুর-৪ আসনের ভোটারদের সামনে একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটাররা তার এই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রতিশ্রুতিকে কতটা মূল্যায়ন করেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়