জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি: পৌষ মাসের শুরু থেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলা জুড়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে যখন জনজীবন অনেকটাই স্থবির, ঠিক সেই সময়েই বোরো ধান রোপণের মৌসুম শুরু হয়েছে। কনকনে শীত উপেক্ষা করে বোরো ধান চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার কৃষকরা।
এলাকার বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সেচ পাম্প ও বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। পাওয়ার ট্রলি ও হালের গরু দিয়ে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করে ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও কৃষাণীরা। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে কিছু এলাকায় ধান রোপণে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ধান রোপণের শ্রমিক রকিম হোসেন জানান, চুক্তিভিত্তিক প্রতি বিঘা জমিতে ধান রোপণে দুই হাজার চারশ টাকা নেওয়া হয়। দড়ি দিয়ে লাইন করে রোপণ করলে বিঘাপ্রতি তিন হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “ভোরে কুয়াশার মধ্যে বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলে মাথায় করে জমিতে নিয়ে যাই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে দৈনিক ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা আয় হচ্ছে।”
আরেক শ্রমিক মনির হোসেন বলেন, “এটা ধান লাগানোর মৌসুম, তাই কাজের চাপ বেশি। মৌসুম শেষ হলে কাজ কমে যাবে। তীব্র শীতের মধ্যেও ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঠান্ডা পানি ও কাঁদার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। কয়েকদিন কাজ করার পর এখন কিছুটা অভ্যাস হয়ে গেছে।”
ধান চাষি লাভলু মিয়া বলেন, তিনি দুই বিঘা জমিতে ‘খাটো বাবু’ জাতের ধান রোপণের প্রস্তুতি নিয়েছেন। জমি ও চারা প্রস্তুত থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে তিন থেকে চার দিন দেরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।
অন্য চাষি রাশেদুল বলেন, “প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে এখন ধান লাগালে চারা হলুদ হয়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হলে ধান লাগানোর পরিকল্পনা করেছি।”
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এক সপ্তাহ ধরে ধান রোপণের কাজ শুরু হয়েছে এবং অনেকে জমি প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করছেন। তিনি আরও জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ধানের বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তথ্য প্রদান করা হচ্ছে।