মাসুদ আলম: [২] রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদকের বাসায় শিশু গৃহকর্মী ফেরদোসীকে (৭) নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হলেও ৪ দিনেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ওই গৃহকর্মী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
[৩] শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় শাহজাহান রোডের ২/৭ নং বাসার ৮ তলা থেকে গৃহকর্মী ফেরদৌসী (৭) পড়ে আহত হয়। এরপর শিশুর মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। এতে আসামি করা হয়েছে- ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক, তানিয়া খন্দকার ও গৃহকর্মী সরবরাহকারী আসমা আক্তার শিল্পীকে।
[৪] মামলার অভিযোগে বলা হয়, আমার বড় মেয়ে ফারজানাও ৩ নং আসামি আসমা আক্তার শিল্পীর বাসায় আগে কাজ করতো। এক মাস আগে সে ওই বাসা থেকে গ্রামে চলে আসে। এরপরই শিল্পী আমার মেঝো মেয়েকে তার বাসায় কাজের কথা বলে নিয়ে আসে। কিন্তু চলতি মাসের ১ তারিখে ফেরদৌসীকে মোহাম্মদপুরে সৈয়দ আশফাকুল হক ও তার স্ত্রী তানিয়া খন্দকারের বাসায় কাজ করতে পাঠান শিল্পী। এরপর থেকেই মা জোসনা বেগম যোগাযোগের চেষ্টা করলে আশফাকুল হক, তানিয়া খন্দকার মায়ের সাথে কথা বলতে দেন না মেয়েকে। তাকে মারধর করতো। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। অত্যাচার থেকে বাঁচতে ফেরদৌস বাসার অরক্ষিত অবস্থায় রাখা নিরাপাত্তা বেষ্টনি বিহীন জানালা দিয়ে লাফ দেয়।
[৫] অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৪ আগস্ট জোসনা বেগমের চাচাতো ভাইয়ের মোবাইলে আসা একটি ফোনের সূত্রে তারা জানতে পারেন ফেরদৌসী ৮ তলা থেকে নীচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে।
[৬] শিশুটির মা জোসনা বেগম বলেন, ওই বাসা থেকে পালাতে গিয়ে জানালার থাই গ্লাস সরিয়ে লাফিয়ে পড়েন। তার যৌনাঙ্গে অপারেশন করা হয়েছে। তবে তার শারীর অবস্থা আগের চেয়ে ভাল। জোসনাও আগে কাজ করতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাছির নগরে।
[৭] মঙ্গলবার মোহাম্মদপুর থানার ওসি মো. মাহফুজুল হক ভূঞা বলেন, ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। যতটুকু জানি আসামিরা কেউই জামিন নেননি। শিশুকে হেফাজতে রেখে ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত করে নির্যাতন ও অবহেলায় সংগঠিত শিশুর শরীরের অঙ্গের ক্ষতির ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় শিশু আইনের ৭০ ধারায় একটি মামলা হয়েছে। সম্পাদনা: ইকবাল খান
এমএ/আইকে/এনএইচ