রাজধানীর পল্লবীর কালশী রোডে এক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়েছে কয়েকজন। তবে তারা আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিক কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সকাল থেকে মিরপুর-১১ ও পল্লবী এলাকায় জড়ো হন শ্রমিকেরা।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এরই মধ্যে কালশী রোডে এক পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায় আন্দোলনকারীদের একটি অংশ।
দলছুট অবস্থায় পেয়ে পল্লবী থানার কনস্টেবল সায়মনের ওপর হামলা চালানো হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মিরপুর-১১ নম্বরে শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের আরো ৪ সদস্য আহত হয়েছেন।
এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে বিভিন্ন গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেন। এ সময় আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ শ্রমিক সড়ক অবরোধ করে রাখেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে শ্রমিকেরা আশপাশের বিভিন্ন গলিতে অবস্থান করছেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ থেমে থেমে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকাতেও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।