তাহসিফ সাউরি, তার বান্ধবী দিশা ও বন্ধু দীপ উত্তরার নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে সময় কাটিয়েছেন ১ ঘণ্টা ২৭ মিনিট। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, স্বাভাবিকভাবে বারে ঢুকলেও কিছুক্ষণ পর বান্ধবীর সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। নৌ-পুলিশ বলছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে দিশা ও তাহসিফের মনোমালিন্য এবং দীপের দেওয়া তথ্য ক্রসচেক করা হচ্ছে। তদন্তে মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনের আশা পুলিশের।
২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ২৩ মিনিট। রাজধানীর উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারের পার্কিংয়ে মোটরসাইকেলে প্রবেশ করেন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। সঙ্গে ছিলেন তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশা। আরেকটি বাইকে আসেন তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপ। বাইক পার্ক করে তারা যান লিফটের দিকে। লিফটে উঠে চলে যান বারে।
সময় সংবাদের কাছে আসা বারের সেই ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১০টা ২৬ মিনিটে বারের ভেতরে ঢোকেন তারা। বসেন একটি ফাঁকা টেবিলে। কিছুক্ষণ পর তাহসিফ ও দীপের মধ্যে কোনো একটি বিষয়ে মনোমালিন্য হয়। পরে উঠে যান দিশা। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে একা একা ফোন স্ক্রল করেন। এ সময় ওয়েটার ডেকে সাউন্ডবক্স আনান তাহসিফ। ছাড়তে বলেন স্যাড মিউজিক।
নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারের মহাব্যবস্থাপক আহসান হাবীব বলেন, ‘তাহসিফকে আমি চার দিন দেখেছি। প্রথম তিন দিন তিনি আমাকে বিভিন্ন ধুমধাড়াক্কা গান বাজানোর অনুরোধ করেছিলেন এবং বান্ধবীকে নিয়ে নেচেছেন। কিন্তু ২৭ অক্টোবর নাচানাচি না করে অনুরোধ করেছিলেন স্যাড সং বাজাতে।’
রাত ১১টা ৫৩ মিনিটে বার থেকে বেরিয়ে আসেন তারা। পার্কিং থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে উল্টো পথে যান উত্তরার দিশার বাসার দিকে। একাধিক ফুটেজে ধরা পড়ে দিশাকে নিয়ে বাসার দিকে যাওয়ার দৃশ্য।
বারে বসেই টঙ্গীর মাজার বস্তিতে যাওয়ার পরিকল্পনা হয়। পরে দিশাকে বাসায় নামিয়ে তারা যান সেখানে। ১ ঘণ্টা পর থেকে আর সন্ধান মেলেনি তাহসিফের। এদিকে তাহসিফ হত্যা মামলায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে দিশা ও দীপের। দিশার সঙ্গে মনোমালিন্য ও দীপের দেওয়া তথ্য ক্রসচেক করছে পুলিশ।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘তাহসিফ সাউরির বন্ধু দীপের বক্তব্য অসংগতিপূর্ণ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং পাওয়া তথ্যগুলো আমরা ক্রসচেক করে দেখছি। ধাপে ধাপে সব বিষয়ের তদন্ত চলছে।’
রিমান্ডে তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের আশা নৌ-পুলিশের।