শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৪ দুপুর
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

তেলের দাম বাড়ানোর পরেও ফিলিং স্টেশনে কমেনি গাড়ির লাইন

মনজুর এ আজিজ: জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল পেতে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে চলা ভোগান্তির অবসান হবে বলে আশা করেছিলেন অনেকে; কিন্তু দাম বাড়ানোর দুই দিন পরেও সেই অবস্থার অবসান হয়নি। এখনো জ্বালানি তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর শহীদবাগে অবস্থিত রাজারবাগ ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের জন্য আগের চেয়েও লম্বা লাইন। দুই সপ্তাহ ঘুরে দেখা গেছে, এই ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লাইন ফিলিং স্টেশনটির সামনে থেকে শহীদবাগের বিএনএন হাসপাতালের সামনে ঘুরে শান্তিনগরের সড়কের মাথা পর্যন্ত পৌঁছেছিল; কিন্তু মঙ্গলবার সেই লাইন শান্তিনগর সড়কের মাঝামাঝি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

advertisement

এই ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার জন্য সকাল আটটার সময় লাইনে দাঁড়ান মোটরসাইকেলচালক নাজিম উদ্দিন। বেলা ১১টা পর্যন্ত তেল পাননি তিনি। তখনো তাঁর সামনে শতাধিক মোটরসাইকেল তেলের জন্য অপেক্ষায় ছিল। নাজিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার (ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন) করেন। ভেবেছিলেন তেলের দাম বাড়লে হয়তো লাইন কমবে; কিন্তু ফিলিং স্টেশন এসে দেখেন, লাইন কমেনি, উল্টো আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, রাইড শেয়ার করে পরিবার চালাই, এখন তেল নিতে নিতেই এক দিন শেষ হয়ে যায়। এরপর যে তেল পাই তা দিয়ে তো আর পোষায় না। আমাদের চলতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

বেলা একটার সময় মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় তেলের জন্য লম্বা লাইন। চালকেরা সিরিয়াল ধরে তেল নিচ্ছেন। এই ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ান প্রাইভেট কারের চালক মো. শাহজাহান। তিনি জানান, সকাল ছয়টা থেকে তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন। বেলা একটার সময়ও তেল পাননি। এই চালক বলেন, মূল্যবৃদ্ধির পর অনেকে বলেছে, লাইন হয়তোবা কমবে, আমরাও তাই আশা করছিলাম। কিন্তু এ লাইন কমার কোনো লক্ষণই তো দেখছি না।

advertisement

বেলা দুইটার সময় রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে অবস্থিত রমনা ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, তেলের জন্য লাইন প্রায় আগের মতোই রয়েছে। ৩৮৭টি মোটরসাইকেল ও ৩০৫টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।

এই ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিতে রাত তিনটার সময় লাইনে দাঁড়ান প্রাইভেট কারের চালক মো. সুমন। তিনি বলেন, কী যে কষ্টে আছি, বলে বোঝাতে পারব না। ভাবছিলাম দাম বাড়লে সিরিয়াল কমবে, কিছুটা স্বস্তি পাব; কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, সেটি আর হবে না। সিরিয়াল সেই আগের মতোই আছে। তেল নিতে আগের মতোই সময় পার করতে হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাংলাদেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের লম্বা লাইন শুরু হয়। এর মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক দফায় বাড়লেও বাংলাদেশে তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার। দেড় মাস পর ১৮ এপ্রিল সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়।

advertisement

তেলের মূল্যবৃদ্ধি তাঁর কাছে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারের চালক বাবুল হোসেন। বেলা তিনটায় রাজধানীর পরীবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে কথা হয় এই চালকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তেল নিতে সাত থেকে আট ঘণ্টা সময় লেগে যায়, কখনো কখনো আরও বেশি সময় লাগে। এর মধ্যে তেলের মূল্যবৃদ্ধি আমাদের জন্য একরকম মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘার মতো। কারণ, আমরা অ্যাপে চালাই, সেখানে ভাড়া এখনো বাড়ানো হয়নি। আগের হিসাবেই আমরা যাত্রী পরিবহন করছি।

এদিকে ‘ফুয়েল পাস’ ছাড়া তেল দিচ্ছে না এই মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশন। ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা মীর আজিম জানান, সরকারের পক্ষ থেকে মোটরসাইকেলে ফুয়েল পাস ছাড়া তেল না দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেটি তাঁরা আজ থেকে অনুসরণ করতে শুরু করেছেন।

  • সর্বশেষ