প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শোয়েব সর্বনাম: সৈয়দ হক জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কী লেখ, হে তরুণ?

শোয়েব সর্বনাম: ফ্যাশন সচেতন পাবলিক। একসময় কবি-সাহিত্যিক মানেই ছিলো ঝোলা পাঞ্জাবি। তিনি জিন্স পোলো শার্ট কেডস পরতেন। যতো গরমই হোক জামার ওপর হাতাকাটা জ্যাকেট পরে ঘুরতেন। হাতের মধ্যে একগাদা ব্রেসলেট ঝনঝন করতো। অর্ধেক মাথা টাক, বাকি অর্ধেকটা শেভ করে রাখতেন। সেই টাকের ওপর রোদ পড়লে দূর থেকে গ্লেস করতো। বাংলা একাডেমিতে ছোট একটা সেমিনার রুমের মতো ছিলো সেখানে তার সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডার সুযোগ হয় লেখক প্রকল্পের আওতায়। একাডেমির দুইটা কর্মচারী ছিলো আমাদের দেখে শুনে রাখতো, প্রকল্পের দায়িত্বে ছিলো আরকি। আজকে একজন আর কালকে আরেকজন এরকম শিডিউল ছিলো মনে হয় তাদের। সৈয়দ হক যেদিন আসলেন, সেদিন দুইটাই সঙ্গে হাজির। দুইজনই প্যান্ট শার্ট ইন করে মাথায় তেল দিয়ে ডান দিকে সিঁথি করে আসছে। সেমিনার রুমে ঢোকার আগে আমারে ডেকে আলাদা করে বলা হলো, আজকের ক্লাসে আপনে একটা কথাও বলবেন না। আমি বললাম, আজকে তো ক্লাস না, আড্ডা বলা হচ্ছে। তারা সমস্বরে বললেন, আড্ডা হলেও আপনের কথা বলা নিষেধ।

ওইদিন কেক আর কলা খেতে দেওয়া হয়েছিলো সবাইরে, এই ব্যবস্থা আগের কোনো ক্লাসে ছিলো না। ফলে আমরা বুঝতে পারি, বাংলা সাহিত্যে সৈয়দ হকের গুরুত্ব অন্যদের চেয়ে অধিক। যদিও ব্যাপারটারে আড্ডা বলা যাবে না, বেশিরভাগ কথা তিনি বলছেন, আমরা শুনছি। দুয়েকটা প্রশ্ন করে টপিক থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করায় ঝাড়ি পট্টির উপ্রে রাখছিলেন। এটাকিং ল্যাঙ্গুয়েজে পারদর্শি ছিলেন হক সাহেব, কথার মাঝে উত্তেজিত হয়ে টেবিলের ওপর ব্রেসলেট দিয়ে বারি মারতেন আর ঠাস ঠাস করতো, ওই শব্দে আমরা ভয় পেতাম। মস্তান প্রকৃতির লোক ছিলেন মনে হয়। উচ্চারণের ব্যাপারে খুব সচেতন ছিলেন, ব্যয় শব্দটা বলার সময় ব এর পর য ফলাটাও তার উচ্চারণের পাওয়া যেতো। শুধু রবীন্দ্রনাথ বলতে গেলে উচ্চারণ করতেন ড়েবিন্দ্রনাদ। অতি ভক্তির কারণে এই অবস্থা। তো, আড্ডা নামের ব্যপারটা শেষে সেমিনার রুম থেকে বের হলে একটা ফর্মাল পরিস্থিতির অবসান হয়। নিচে এসে বললাম, হক ভাই, বিড়ি খাবেন?

তিনি উত্তর না দিয়ে আকাশের দিকে তাকানোর চেষ্টা করলেন। তারপর সানগ্লাস খুলে যত্ন সহকারে মুছতে মুছতে বললেন, তুমি কী লেখ, হে তরুণ? ‘হে তরুণ’ বলার ভঙ্গিমায় ব্যাপক নাটকীয়তা ছিলো, আমি মজা পেছিলাম, বাট লোকটা ততোধিক ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করে যাচ্ছিলেন বলে হাসা যাচ্ছিলো না। সিচুয়েশন একটু তরল করার চেষ্টায় বললাম, আমারে হে তরুণ বলার কিছু নেই, আমার নাম শোয়েব সর্বনাম। তিনি প্রমিত ভাষায় বললেন,গতকালকে শিলালিপিতে? হ্যাঁ? কবিতা? হ্যাঁ? ঠিক বলেছি তো? আমি বললাম, আপনার কবিতাও তো ছিলো, এজন্য মনে হয় চোখে পড়ছে। এমনিতে তরুণদের লেখা পড়েন আপনি? তিনি আমার ঘাড়ে হাত দিলেন, তখন ফিল করলাম লোকটার হাইট তার পার্সোনালিটির চেয়ে ছোট, তারপর বর্ধমান হাউসের পাশের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কবিতা সম্পর্কে কিছু বোঝাপড়া বলতে শুরু করলেন। কী কী বলতেছিলেন আমার এখন আর মনে পরে না। শুধু মনে পড়ছে, একাডেমির কর্মচারী দুইটা বিস্ময়ের সঙ্গে আমাদের পিছে পিছে হাঁটছিলো আর স্যার স্যার করতে করতে মরে যাচ্ছিলো। সৈয়দ হকের সঙ্গে গভীর স্মৃতি বলতে আমার এইটুকুই। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত