প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একজন সদাহাস্যজ্বল মানবিক তোতা মিয়ার গল্প

হারুন-অর-রশীদ:  মানুষ মানুষের জন্য/ জীবন জীবনের জন্য/ একটু সহানুভূতি কি/ মানুষ পেতে পারে না…ও বন্ধু’ ভুপেন হাজারিকার এই জীবনমুখী গানের পঙক্তি আজও মানুষের মনে দোলা দেয়। আমরা তো সবাই মানুষ। পার্থক্য শুধু একটাই কারো অর্থবিত্ত বেশি আর কারও কম। কিন্তু আমরা সবাই সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করি। এই সমাজবদ্ধ অবস্থায় যদি মানুষের দুঃসময়ে, বিপদে-আপদে, মহামারিতে আমরা একে অন্যের প্রতি সদয় না হই, বিপদে আপদে যদি এগিয়ে না আসি তাহলে আমরা কিসের মানুষ। তারা মনুষত্বহীন মানুষ।
আমরা সেই মানুষ হতে চাই, যে মানুষ হবে একজন মানবিক, অন্যের বিপদে ছুটে আসবে, মানুষের কষ্টে কষ্টিত হবে, যারা একমুঠো ভাতের জন্য দিশেহারা তাদের পাঁশে গিয়ে দাঁড়াবে। তারাই হচ্ছে সত্যিকারের মানবিক মানুষ। এমন একজন মানুষ যাঁর মন কাঁদে গরীবদুঃখী ও অসহায় মানুষের জন্য। তিনি হলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান ও ভাওয়াল ইউনিয়নের সাবেক সচিব নুর মোহাম্মাদ হোসেন তোতা মিয়া। সে এলাকার ছোট বড় সকলের কাছে তোতা কেরানী নামে অধিক পরিচিত। মানুষের হৃদয় জুড়ে রয়েছে তার অফুরন্ত ভালোবাসা।
এলাকাবাসীর মন জুড়ে রয়েছে এই সদালাপী, নিরাহংকার মানুষটি। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব থাকালীন মানুষের দ্বারে দ্বারে থাকতেন সব সময়। তাঁর জন্য সাধারণ মানুষ সহজেই সেবা পেতেন। হাসি-খুশি ছাড়া তিনি কথা বলতেন না। তার আচার-ব্যবহারে আজও মুগ্ধ ওই সব ইউনিয়নের মানুষ। এছাড়াও তিনি তার এলাকার স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, ঈদগাহ ও কবরস্থানের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন। নিঃস্বাার্থভাবে অসহায় দরিদ্র মানুষের পাঁশে সব সময় নিজেকে বিলিয়ে দেন। অস্বচ্ছল পরিবারের ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়ার খরচ ও কন্যাদ্বায়গ্রস্ত পরিবারের পাঁশে থাকেন। বর্তমানে মহামারী করোনা-ভাইরাসের লকডাউনের সময় তিনি অসহায় মানুষের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়েছেন।
জানা যায়, নুর মোহাম্মাদ তোতা মিয়া ১৯৫৬ সালে ইউসুফদিয়া গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোঃ লাল মিয়া ও মাতার নাম মোসাম্মাৎ ফিরোজা বেগম। তিনি ১৯৭২ সালে ইউসুফদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পাশ করেন। ১৯৭৪ সালে নগরকান্দা মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৭৭ সালে ভাওয়াল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে চাকুরীতে যোগদান করেন। ২০১৫ সালে চাকুরী থেকে সেচ্ছায় অবসর নেন। তিনি সংসার জীবনে ৩ পুত্র সন্তানের জনক। এরমধ্যে বড় ছেলে মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ও মেঝ ছেলে মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার পাশ করেছেন। বড় ছেলে সাজ্জাদ হোসেন বর্তমানে ম্যাকানিজম ট্রেড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং মেজ ছেলে সাখাওয়াত হোসেন ওয়েলটেক ট্রেডিং কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত আছেন। আর ছোট ছেলে আওলাদ হোসেন একটি মাদ্রাসায় লেখা-পড়া করেন।
তোতা মিয়া চাকুরী করাকালীন পায়ে হেঁটে বা নৌকায় করে প্রতিটি গ্রামে যেতেন জন-সাধারণের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য। তখন থেকেই কারো অভাব দেখলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। পৈতৃক সম্পদের আয়ের একটি অংশ তিনি মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেন। চাকুরী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি কৃষি কাজে মনযোগ দেন। এলাকার মানুষ তাকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসে। এছাড়াও ছোট ছেলে-মেয়েরাও তাকে বন্ধুর মতো ভালোবাসে। মনে হয় পাড়ার সকল কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের দাদা বা নানা এই তোতা মিয়া।
গ্রামের জসিম উদ্দিন জানান, তোতা মিয়া একজন শিক্ষিত মানুষ। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলার জন্য সব সময় কাজ করেন। মানুষকে ভালোবাসেন।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সব সময় সহযোগিতা করে থাকেন। অসহায় দরিদ্র মানুষের পাঁশে থেকে তাদের আর্থিক সহযোতিা করেন নিঃশ্বার্থভাবে। তারমধ্যে কোন লোভ-লালসা দেখি নাই।
ভাওয়াল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন জানান, তোতা কেরানী অত্যন্ত সহজ-সরল, সদালাপী হাস্যজ্জ্বল একজন মানুষ। সে সহজেই মানুষের সাথে মিশতে পারেন।
৭নং ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তোতা মিয়া- সামাজিক, মিশুক, হাস্যজ্জল, পরোপকারী ও সদালাপী একজন মানুষ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত।  দীর্ঘদিন তিনি ভাওয়াল ইউনিয়নের সচিব ছিলেন। মানুষের যথেষ্ট সেবা করেছেন, এখনও করেন। তার মতো মানুষ হয়না।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ বাচ্চু মাতুব্বার বলেন, তোতা মিয়া আমার স্কুল জীবনের বন্ধু। ছাত্রজীবন থেকেই তোতা মিয়া শান্তশীল ও হাসি-খুশি। কোনদিন তার থেকে কেউ কষ্ট পায় নাই। তাছাড়া গরীব মানুষের পাঁশে সব সময় থাকে এবং সকল প্রকার সহযোগিতা করে।
উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শওকত হোসেন মুকুল বলেন, মানুষ হিসেবে তোতা মিয়া চমৎকার। ইউসুফদিয়া এলাকায় মূলত সর্বপ্রথম আওয়ামীলীগ পরিবার হিসেবে পরিচিত তারা। তিনি, এখন আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য।
সালথা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী সাব্বির আলী বলেন, জন্মের পর থেকেই দেখছি তোতা মিয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। সে মানুষ হিসেবে ভালো।
এ ব্যাপারে নুর মুহাম্মাদ তোতা মিয়া বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র মানুষ। মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে আমার ভালো লাগে। মনের তৃপ্তি মেটে। এই পৃথিবীতে কেউ চিরদিন থাকবে না। তাই আমি মানুষকে এতো ভালোবাসি। মানুষের শত আঘাত আমার কাছে তুচ্ছ মনে হয়। কেউ কষ্টে থাকলে আমি সহ্য করতে পারি না। আমার মন কাঁদে। তাই হয়তো তার পাঁশে থাকার চেষ্টা করি।
তিনি বলেন, যতদিন বেঁচে থাকবো, ততদিন যেন নিঃশ্বার্থভাবে মানুষের পাঁশে থাকতে পারি। মহান রাব্বুল আলামীন যেনো আমাকে সেই তৌফিক দান করেন। আমার সন্তানদেরকেও এই শিক্ষা দিয়েছি। আশা করি আমার সন্তানেরাও আমার আদর্শ ধারণ করে পথ চলবে।

সর্বাধিক পঠিত