প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রবীর বিকাশ সরকার: রবীন্দ্রনাথের গোরা এবং অম্লান স্মৃতি

প্রবীর বিকাশ সরকার: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জাপানে প্রথম আগমন করেন ১৯১৬ সালে। নোবেল পাওয়ার ৩ বছর পর যে সালে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু জাপানি মনীষী, দার্শনিক শিল্পাচার্য ওকাকুরা তেনশিন দেহত্যাগ করেন। তাঁর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে ১৯০২ সালে কলকাতায়। ওকাকুরা প্রায় ১০ মাস ভারতে ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্র সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়িতে আথিত্য গ্রহণ করেছিলেন। ওকাকুরা স্বামীজি দ্বারা অনেক প্রভাবিত হয়েছিলেন। আবার ওকাকুরা রবীন্দ্রনাথের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিলেন। এই প্রভাব থেকেই কবিগুরু জাপানের প্রতি বিশেষ করে জাপানি প্রকৃতি, পরিবেশ ও সংস্কৃতির প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলেন। যেমন জাপানি ভাষা, লিপিকলা, সাহিত্য, সঙ্গীত, ইকেবানা, চা-অনুষ্ঠান, দারুশিল্প, চিত্রকলা, জুদো ক্রীড়া প্রভূতি। তাঁর অনুরোধে জাপান থেকে কলকাতায় এবং শান্তিনিকেতনে বেশ কয়েক জন জাপানি বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক হিসেবে গিয়েছেন, ওকাকুরা তাঁদের প্রেরণ করেছেন রবীন্দ্রনাথের প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ। গুরুদেবের খুব ইচ্ছে ছিলো জাপানিতত্ত্ব শান্তিনিকেতনের বিদ্যালয়ে চালু করার। কিন্তু জাপানিদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও কোনোটাই সার্থকভাবে প্রচলন করা যায়নি। যদিওবা ‘নিপ্পন ভবন’ ১৯৯৪ সালে শ্রীনিকেতনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা ছিলো গুরুদেবের একদা স্বপ্ন। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানের গতি এখনো শ্লথ তবে ভবিষ্যতে ফুলেফলে প্রস্ফুটিত হবে বলে একান্ত বিশ্বাস। রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় দুজন জুদো ক্রীড়া প্রশিক্ষক শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন। তাদের কাছে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রশিক্ষণ নিয়েছিলো। জুদোর শেষ খেলোয়াড় ছিলেন শান্তিনিকেতনে জন্ম আশ্রমকন্যা অমিতা সেন, বিশ্বভারতীর সাময়িক উপাচার্য পণ্ডিত ক্ষিতিমোহন সেনের কন্যা এবং নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মা। তিনি জুদো শিখেছিলেন জুদো প্রশিক্ষক শিনজোও তাকাগির কাছে।

সে যাহোক, শান্তিনিকেতনে প্রথম গিয়েছিলেন জাপানের জাতীয় খেলা জুদোর প্রশিক্ষক ক্রীড়াবিদ সানো জিননোসুকে। তিনি ১৯০৫-৮ সাল পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। সেই সময় কবিগুরুর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন। শান্তিনিকেতনেই তিনি বাংলা ভাষা রপ্ত করেছিলেন। ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি, বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে বিস্তর পড়ালেখা করেছেন কারণ, ভারত ও বাংলা অঞ্চল বিষয়ক একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন জাপানি ভাষায় ভারত থেকে স্বদেশে ফেরার পর। ক্রীড়াবিদ হয়েও তিনি একটি অসাধারণ অনুবাদের কাজ সম্পাদন করেছেন। যা তাকে রবীন্দ্রসাহিত্যের জগতে চিরস্থায়ী আসন করে দিয়েছে যে-সম্পর্কে বাঙালি জানে না বললেই চলে। আর সেটি হলো রবীন্দ্রনাথের জগৎবিখ্যাত জাতীয়তাবাদী উপন্যাস গোরার জাপানি অনুবাদ ১৯২৪ সালে। শান্তিনিকেতন থেকে ফিরে আসার দীর্ঘ ১৭ বছর পর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাংলার ইতিহাস ও বাঙালির স্মৃতি যে তার মননে গভীর ছাপ ফেলেছিলো এটাই তার উজ্জ্বল প্রমাণ। তিনি বিস্মৃত হননি বাংলা তথা ভারতবর্ষকে। ১৯২৪ সালেই রবীন্দ্রনাথ তৃতীয়বার জাপান এসেছিলেন জুন মাসে, কিন্তু গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে ডিসেম্বর মাসে। তখন কি সানো জিননোসুকে অনুবাদের কাজটি রবীন্দ্রনাথকে দেখিয়েছিলেন? জানা নেই। তবে সাক্ষাত যে হয়েছিলো এতে কোনো সন্দেহ নেই।

এখানে আশ্চর্যের বিষয় যে, ১৭ বছর পর অব্যবহারের কারণে বাংলা ভাষা যেখানে ভুলে যাওয়ার কথা তার, অথচ দেখা যাচ্ছে অনুবাদে নিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি। সুদীর্ঘ উপন্যাসটি অনুবাদ করতে যে দীর্ঘসময় লেগেছিলো তাতেও কোনো সন্দেহ নেই। সেই সময় জাপানি কোনো সাহিত্য গ্রন্থ কি বাংলা ভাষায় অনুবাদ হয়েছিলো ভারতে? মনে হয় না। জাতিগতভাবে কৌতূহলপ্রবণ জাপানি নাগরিক সানো যে গভীরভাবে বাংলার জাতীয়তাবাদী জাগরণ এবং বাঙালির দেশপ্রেমের চিন্তা রবীন্দ্রনাথের মধ্যে আবিষ্কার করেছিলেন তারই প্রভাবে কি তিনি এই উপন্যাসটি অনুবাদের মাধ্যমে জাপানিদের কাছে উপস্থাপিত করার আগ্রহ অনুভব করেছিলেন? এসম্পর্কে পরিষ্কার কিছু জানা যায় না। তবে তিনি শুধু রবীন্দ্রনাথই পড়েননি, বাংলা সাহিত্যের অন্যান্য লেখকদের গ্রন্থও পড়েছিলেন। কলিকাতায় তখনকার বাঙালি সমাজকে নিবিষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন তারও প্রমাণ পাওয়া যায় গ্রন্থের মুখবন্ধ এবং সমাপ্তি বক্তব্যে। ‘গোরা’র পটভূমি এবং ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঠাকুর পরিবারের ইতিহাসও বর্ণনা করেছেন এই দুটি সংক্ষিপ্ত নিবন্ধে যথাক্রমে ১১ এবং ২২ পৃষ্ঠাব্যাপী। সর্বমোট গোরার অনূদিত পৃষ্ঠার সংখ্যা ৭১৮! বাংলায় যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ৬২৪। এই গ্রন্থের ব্যতিক্রম বা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর অবয়ব। গ্রন্থটি হার্ড কভারে বাঁধানো, সিল্ক কাপড়ে ফুলেলছাপা মলাটটি মোড়ানো এবং ফুলগুলোর মাঝখানে বিন্দু অর্থাৎ পরাগগুলো সোনালি রঙে মুদ্রিত। নিঃসন্দেহে ব্যয়বহুল। ভাবতে অবাক লাগে যে, প্রায় শত বছর আগে কী চমৎকার বই বাঁধা হত জাপানে।

গ্রন্থটির টাইটেল পৃষ্ঠায় নীল রঙে গোরা, লেখক, অনুবাদক এবং প্রকাশনা সংস্থার নাম লেখা আছে। পরের পৃষ্ঠায় একই রঙে মূল উপন্যাসের সূচনার ৩টি প্যারা বাংলায় হুবহু মুদ্রণ করা হয়েছে। নিচে ব্রাকেটে লিখিত আছে বাংলা মূল লেখার একটি পৃষ্ঠা। এর পরের পৃষ্ঠাটির ওপরে ফিনফিনে পাতলা ট্রেসিং পেপারে চিত্রপরিচিতি মুদ্রিত, পাতাটি উল্টালে শক্ত কাগজে মুদ্রিত রবীন্দ্রনাথের একটি আলোকচিত্র, টেকিওর কোনো এক উদ্যানে গৃহীত ৮ জুন ১৯২৪ সাল তারিখে গৃহীত। পরের পৃষ্ঠায় উপন্যাসের নায়ক ‘গোরা’ এবং ‘আনন্দময়ী’র একটি চিত্রকর্ম এঁকেছেন নন্দলাল বসু। পরবর্তী পৃষ্ঠায় উপন্যাসের চরিত্র ‘সুচরিতা’র চিত্র, এঁকেছেন শিল্পী চারুচন্দ্র রায়। এর পরের পৃষ্ঠায় অন্যতম চরিত্র ‘ললিত’ ও ‘সুচরিতা’র চিত্র, এঁকেছেন প্রখ্যাত জাপানি চিত্রশিল্পী এবং রবীন্দ্রনাথের বন্ধু কাৎসুতা শৌকিন। ধারাবাহিকতার শেষ পৃষ্ঠায় লালনের ‘অচিন পাখি’ গানের প্রথম সঞ্চারীটির অনুলিপি স্বহস্তে লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। (যদিও ‘কেমনে’ শব্দটির ‘একার’টি মুদ্রিত হয়নি।) কী যত্নসহকারে গ্রন্থটি সজ্জিত ভাবলে রোমাঞ্চিত হতেই হয়। জাপানিদের শৈল্পিক রুচিবোধের প্রশংসা না করে উপায় থাকে না। ২০১১ সালের কথা।

সে বছর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবর্ষ। এই উপলক্ষেই একটি বিশেষ কাজে টোকিওস্থ ‘ইন্ডিয়া সেন্টার ফাউন্ডেশনের দপ্তরে যাই। সংস্থাটি টোকিওর শতবর্ষাধিক পুরনো গ্রন্থপাড়া জিনবোওচোও শহরে অবস্থিত। দপ্তরভবনের ঠিক নিচে একতলায় আছে একটি সুপরিচিত পুরনো বইয়ের দোকান ‘কিতাজাওয়া শোতেন’ নামে। কিছু বই ঘাঁটতে গিয়ে দৃষ্টি সহসা আটকে গেল ছেঁড়াফাড়া কাগুজে কেইসের ভেতর থেকে উঁকিদেয়া জাপানি কাতাকানা অক্ষরে মুদ্রিত ‘গোরা’ শব্দটি। মুহূর্ত দেরি না করে বেশ মোটা গ্রন্থটি হাতে তুলে নিয়ে খুলে দেখি মূল্য ১,৫০০ ইয়েন। সঙ্গে সঙ্গে কিনে ফেললাম। বুকের ভেতরে ততোক্ষণে টকবগ করে লাফাতে শুরু করেছে অবিশ্বাস্য আবিষ্কারের আনন্দ। কেননা বইটি জাপানিতে অনুবাদ করেছিলেন জুদো ক্রীড়াবিদ সানো জিননোসুকে সেটা জানতাম। এবং সেটা গ্রন্থাগারেও খুঁজে পাইনি। এমনকি, খুঁজে পাইনি জাপানশীর্ষ রবীন্দ্রগবেষক অধ্যাপক কাজুও আজুমা স্যারের বাড়িতেও, যেখানে তাঁর সংগ্রহে ছিলো ১০ হাজার বাংলা গ্রন্থ। রবীন্দ্ররচনার সবগুলো তার সংগ্রহে ছিলো। বাংলা ভাষার ‘গোরা’ও ছিলো, ছিলো না জাপানি অনুবাদটা। ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু কাকতলীয় এক ঘটনা ঘটল এই বছরেরই সেপ্টেম্বর মাসে। আমরা জাপানে কবিগুরুর সার্ধশত জন্মবর্ষ উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম টোকিওর শিবুয়া শহরে অবস্থিত ‘টোবাকো অ্যান্ড সল্ট মিউজিয়াম’ মিলনায়তনে। পরিষদের কর্মসচিব একনিষ্ঠ রবীন্দ্রভক্ত শ্রীমতী ওওবা তামিকো আশ্চর্য হওয়ার মতো অভূতপূর্ব ঘটনা সৃষ্টি করলেন আমার জন্য। স্বপ্নেও কল্পনা করিনি এমন ঘটনা ঘটবে।

অনুষ্ঠানে শ্রীমতী তামিকো কর্তৃক আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন সানো জিননোসুকের জ্যেষ্ঠকন্যা স্বয়ং। যাঁর বয়স তখন ৯৩ ছুঁইছুঁই। নাম কুরোকাওয়া কিয়ো। আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন শ্রীমতী তামিকো। কী সৌভাগ্য আমার, যাঁর পিতা স্বয়ং কবিগুরুর সান্নিধ্যে শান্তিনিকেতনে ছিলেন প্রায় ৪ বছর। তার কন্যার সঙ্গে হাত মেলাতে পেরে আমি এমন অভিভূত হয়ে পড়েছিলাম যে তা ভাষায় ব্যাখ্যা করা দুষ্কর। অনুষ্ঠানে আমরা দুজন মাত্র বাঙালি ছিলাম, অন্যজন ছিলেন সোমা চক্রবর্র্তী যিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করবেন বলে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। শ্রীমতী কিয়ো আমাদের দেখে খুব খুশি হয়েছিলেন বহু বছর পর বাঙালিকে দেখে। তিনি তার পিতা সম্পর্কে কিছু কথা বললেন। বললেন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সম্পর্কের কথা।

‘গোরা’ উপন্যাসের জাপানি অনুবাদের কথা বললেন, এও বললেন, তার পিতা বাঙালি ও জাপানিদের ভাববিনিময় নিয়ে একাধিক গ্রন্থও লিখেছেন সেসব এখন ‘গোরা’র মতোই দুষ্প্রাপ্য। সে-অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো জাপানে গৃহীত রবীন্দ্রনাথের ৩০টির বেশি দুর্লভ আলোকচিত্র এবং গ্রন্থাদির এক প্রদর্শনী যা আমি সংগ্রহ করেছি ২০ বছর ধরে। অনুষ্ঠান যখন শেষপর্যায়ে তখন আমি ‘গোরা’ গ্রন্থটি নিয়ে এসে তাকে দেখালে তিনি হাসতে হাসতে আমাকে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি কি এটা জিনবোচোও শহরের পুরনো গ্রন্থবিতান কিতাজাওয়া শোতেন থেকে কিনেছো?’ আমি অবাক হয়ে মাথা নেড়ে সায় দিলাম। তিনি বললেন, ‘আমিও একবার কিনতে গিয়েছিলাম ওটা তখন দাম ছিলো ৩,০০০ ইয়েন। অতিরিক্ত ভেবে কেনা হয়নি। আমাদের সংগ্রহে বইটি নেই তো। বইটি সত্যি এখন খুবই দু®প্রাপ্য। তুমি সৌভাগ্যবান।’

সত্যিই তাই, গ্রন্থটি আমি ১,৫০০ ইয়েন দিয়ে জুলাই মাসের শেষ দিকে কিনেছি। তিনি গ্রন্থটি হাতে নিলে পরে আমি ছবি তুলে রাখলাম একটি বিরল স্মৃতি হিসেবে। সেবারের অনুষ্ঠানটি দুটি কারণে আমার কাছে বিরল মনে হয়েছে, এক: রবীন্দ্র-গবেষক ও অনুবাদক মাদাম কেইকো আজুমার হাতে আমার সদ্য প্রকাশিত ইংরেজি ‘রবীন্দ্রনাথ টেগোর: ইন্ডিয়া-জাপান কোপারেশন পার্সপেক্টিভস’ গ্রন্থটি উপহার হিসেবে দিতে পেরেছি মঞ্চে। অবশ্য গ্রন্থটি আজুমা দম্পতিকে উৎসর্গ করার প্রয়াস পেয়েছি আমাকে দীর্ঘদিন তারা যেভাবে পুত্রবৎ স্নেহ ও ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন তার মূল্যায়নস্বরূপ। দুই: রবীন্দ্রনাথের বন্ধু সানো জিননোসুকের কন্যার সঙ্গে অভাবনীয় সাক্ষাত, যা জীবনে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকবে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এভাবেই অকস্মাৎ মানুষকে ঋদ্ধ করে দেন বলে মনে হয়েছিলো সেদিন। লেখক: রবীন্দ্র গবেষক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত