প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নোয়াখালী ভাসানচরে ডায়রিয়ার প্রকোপে ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৬০০

মাহবুবুর রহমান : [২] নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

[৩] নিহতরা হলেন, ক্যাম্পের ১০ নম্বর ক্লাস্টারের বাসিন্দা মো. সিরাজের মেয়ে জয়নব (১), ৫৬ নম্বর ক্লাস্টারের বাসিন্দা জানে আলমের ছেলে জিসান (২) ও ৫৫ নম্বর ক্লাস্টারের আবদুর রহিমের মেয়ে উম্মে হাবিবা (৩ মা

[৪] জানা যায়, গত ৪-১৪ জুন পর্যন্ত সেখানে ৫৮২ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে গুরুতর তিনজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বর্তমানে ভাসানচর ২০ শয্যার হাসপাতালে ১১ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছেন।

[৫] ক্যাম্পের ২০ শয্যা হাসপাতালে প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩৫-৪০ জন রোগী ভর্তি থাকে। শয্যার অভাবে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দায় রেখে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৬০-৭০ জন রোগী প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ভাসানচর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা।

[৬] সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৮ হাজার ৩৪৭ জন রোহিঙ্গা ভাসানচর ক্যাম্পে রয়েছে। তাদের জন্য রয়েছে ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল। পাশাপাশি ২০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে সেখানে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য দুজন মেডিকেল অফিসার, দুজন উপ-সহকারী কমিউনিটি অফিসার, দুজন নার্স, একজন মিডওয়াইফ, দুজন ওয়ার্ডবয় ও দুজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছে।

[৭] এ দিকে রোগী বহনের জন্য হাতিয়ার জনতা বাজারে সার্বক্ষণিক দুটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা আছে। গুরুতর কোনো রোগীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে এগুলো ব্যবহার করা হয়। এর পাশাপাশি পাঁচটি এনজিওর কর্মীরা কাজ করছেন ভাসানচরে।

[৮] বুধবার সকালে ভাসানচর ২০ শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার তানভীর আনোয়ারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, গত কয়েকদিন ডায়রিয়ার প্রকোপ এ পর্যন্ত তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে । এ রমধ্যে নারী-পুরুষ সহ ডায়রিয়ার প্রকোপ আক্রান্ত সংখ্যা রয়েছে প্রায় ১৬০০ জন।

[৯] তিনি আরো জানান, হাসপাতালে অন্য রোগী ভর্তি না করে শুধু ডায়রিয়া রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শুরুতে স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধের কিছুটা সঙ্কট থাকলেও এখন নেই। পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে ও জেলা থেকে আরও পাঠানো হচ্ছে।

[১০] এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, ‘তীব্র গরমের পর বৃষ্টি এবং ব্যক্তিগত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন কাজ করছেন। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত