মানুষের জীবনে কখনো রিজিক সংকুচিত মনে হয়, কখনো কাজে বরকত কমে যায়, কখনো একের পর এক বিপদ বা দুশ্চিন্তা এসে ঘিরে ধরে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের প্রথম আশ্রয় হওয়া উচিত আল্লাহ তাআলার দিকে ফিরে আসা। আন্তরিক তওবা ও অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার। এগুলো শুধু গুনাহ মাফের মাধ্যমই নয়; বরং এটি আল্লাহর রহমত, রিজিকে বরকত এবং জীবনের নানা সংকট থেকে উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল।
তাই বেশি বেশি বলুন—
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ’।
অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’
কুরআনের নির্দেশ
আল্লাহ তাআলা নূহ (আ.)-এর ভাষায় ইরশাদ করেন—
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا
‘আমি বলেছিলাম— তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা তোমাদের সাহায্য করবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান সৃষ্টি করবেন এবং তোমাদের জন্য প্রবাহিত করবেন নদীসমূহ।’ (সুরা নুহ: আয়াত ১০–১২)
এই আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, ইস্তিগফার আল্লাহর রহমত লাভ, রিজিকের প্রশস্ততা, বরকত এবং দুনিয়াবি কল্যাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দিকনির্দেশনা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا، وَمِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
‘যে ব্যক্তি ইস্তিগফারকে নিজের জন্য অপরিহার্য আমল বানিয়ে নেয়, আল্লাহ তার প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির পথ বের করে দেন, প্রতিটি সংকট থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করতেন। তিনি বলেছেন—
وَاللَّهِ إِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فِي الْيَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً
‘আল্লাহর শপথ! আমি প্রতিদিন সত্তরেরও অধিকবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তার কাছে তওবা করি।’ (বুখারি ৬৩০৭)
আমাদের করণীয়
যদি মনে হয়—
তাহলে হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন। গুনাহ থেকে তওবা করুন, হালাল উপার্জনের চেষ্টা করুন, ফরজ ইবাদতের যত্ন নিন এবং প্রতিদিন নিয়মিত ইস্তিগফারকে নিজের জীবনের অংশ বানিয়ে নিন।
মনে রাখতে হবে, ইস্তিগফার কোনো যান্ত্রিক সূত্র নয়; এটি আন্তরিক তওবা, আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন এবং তার রহমতের আশা নিয়ে করা একটি ইবাদত।
ইস্তিগফার শুধু মুখে উচ্চারিত কয়েকটি শব্দ নয়; এটি একজন বান্দার বিনয়, অনুতাপ এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতার প্রকাশ। আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের ক্ষমা করতে ভালোবাসেন এবং তার রহমতের দরজা সর্বদা খোলা। তাই আসুন, আমরা প্রতিদিন বেশি বেশি ইস্তিগফার করি, আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই এবং তার রহমত, বরকত ও সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করি।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি ইস্তিগফার করার তৌফিক দান করুন, আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন, রিজিকে বরকত দান করুন এবং সকল দুশ্চিন্তা ও সংকট থেকে উত্তরণের পথ সহজ করে দিন। আমিন।