প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ফকিরহাটের কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগী আছে, নেই ডাক্তার

মো.সাগর মল্লিক : [২] বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিক কেন্দ্রগুলো নিয়মিত খুলছে না বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা। পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

[৩] উপজেলার ফকিরহাট সদর ইউনিয়ন এর পাগলা শ্যামনগর কমিউনিটি ক্লিনিক সরজমিনে যেয়ে দেখা যায় উক্ত ক্লিনিক এর দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রায় প্রতিদিনই ১২ টায় নাম মাত্র হাজিরা দিয়ে বেলা ১ টা বাজার সাথে সাথে তড়িঘড়ি করে চলে যায়।

[৪] এলাকার সাধারণ সেবা গ্রহীতারা সকাল ৮ টা থেকে এসে বসে থাকতে থাকতে না পেলে ১১ টার দিকে ফিরে যায়।আবার আশা নিয়ে পরের দিন এসে একই অবস্থা এ জেন দেখার কেউ নাই ???? চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত খোলা থাকার কথা থাকলেও ক্লিনিকগুলো সকাল ১০টা থেকে ১১টার দিকে খোলা হয়।

[৫] আবার দুপুর ১টা বাজতেই বন্ধের তোড়জোড় শুরু করেন কর্মীরা। নিয়মানুযায়ী, কমিউনিটি ক্লিনিকে সপ্তাহে দুদিন একজন উপসহকারী মেডিকেল কর্মকর্তা, ছয় দিন একজন কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) এবং তিন দিন একজন স্বাস্থ্য সহকারী (এইচএ) ও একজন পরিবারকল্যাণ সহকারী উপস্থিত থাকার কথা।

[৬] তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরতদের উপস্থিতি রেকর্ড রাখার জন্য রেজিস্ট্রার খাতার ব্যবস্থা আছে। রোগীকে দেয়া ওষুধ একটা রেজিস্ট্রার খাতায় লিখে রাখতে হয়,সেটিই ওদের উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়।

[৭] আর কমিউনিটি ক্লিনিকের লোকজন ঠিকমতো কাজ করছেন কিনা তা দেখার জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে বলে জানান তিনি। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে থাকেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার)।

[৮] সরেজমিন দেখা গেছে, কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডারই (সিএইচসিপি) হচ্ছেন কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল ব্যক্তি। সপ্তাহে ছয় দিন তিনি ক্লিনিকে বসেন। তবে তাকে সহায়তা করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের মাঠপর্যায়ের একজন স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার-পরিকল্পনা অধিদফতরের মাঠপর্যায়ের একজন পরিবারকল্যাণ সহকারীর সপ্তাহে তিন দিন করে ক্লিনিকে বসার কথা থাকলেও তারা সপ্তাহের ঠিক কোন দিন বসেন তা অধিকাংশেরই জানা নেই। এমনকি তারা নিয়মিত ক্লিনিকে আসেন না। সময়মতো না খোলা ছাড়াও গ্রামীণ জনপদের মানুষের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা এসব ক্লিনিক থেকে পায় না বলেও অভিযোগ রয়েছে রোগীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকে নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থার কথা বলা হলেও তার কোনো ব্যবস্থা নেই এখানে। তবে পরামর্শ দেয়া হয়। স্থায়ী চিকিৎসক না থাকায় ক্লিনিকগুলো মানুষের আস্থা হারাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

[৯] উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জানান, কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডাররা সাধারণত ঠান্ডা, জ্বর, গ্যাস্ট্রিক, ডায়রিয়ার মতো সাধারণ অসুখের জন্য ওষুধ দিয়ে থাকেন। ওষুধ দেয়ার পাশাপাশি তারা কাটাছেঁড়া কিংবা কোথাও ভেঙে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এর বাইরে টিকাদান, পরিবার-পরিকল্পনা, জন্মনিয়ন্ত্রণ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ ও সেবা দিয়ে থাকেন কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা বলে জানান তিনি।

[১০] কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প.কর্মকর্তার পরিদর্শন ও পর্যাপ্ত তদারকি করা উচিত বলে মনে করেন রোগীরা। গ্রামের মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, স্বাস্থ্য শিক্ষা, বিনামূল্যে ওষুধ, পুষ্টি, নবজাতক, গর্ভবতী ও প্রসূতির সেবার ব্যবস্থার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি সাবেক ওয়ার্ডে একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার মাঠে নেমে ২০০১ সাল পর্যন্ত ১০ হাজার ৭২৩টি ক্লিনিক চালু করে।

[১১] ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ফিরে আসার পর আবার চালু করা হয় কমিউনিটি ক্লিনিক।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত