প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাব্বির খান: মামুনুল হকের ব্যাপারে আমার তদন্ত রিপোর্ট!

সাব্বির খান: এক ওয়াজ মাহফিলে মাওলানা মামুনুল হক রসিয়ে রসিয়ে এবং গর্ব করে তার একমাত্র স্ত্রী এবং তার ফ্যামিলির ইসলামী চেতনার কথা বলছিলেন। মাত্র ১ বছর পূর্বের সেই বক্তব্যে মামুনুল হক সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার মেয়েকে তার একমাত্র স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ওয়াজে এবং তার একমাত্র স্ত্রী যে কতো বড় ধার্মিক এবং তার অনুগত ছিলেন, সে কথা তিনি বয়ান করছিলেন। মামুনুল হক যখন সোনারগায়ের রিসোর্টে এক নারী নিয়ে ধরা পড়লেন, তখন তিনি প্রথমে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু যখন পালাতে ব্যর্থ হলেন, তখন তিনি প্রচণ্ড ভীত হয়ে সেই নারীকে তার দুই বছর আগে বিয়ে করা দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বললেন এবং এও বললেন যে, সে বিয়েতে দুজন সাক্ষীও ছিলো। সাংবাদিকদের জেরার মুখে মামুনুল হক বলেন, ছুটি কাটাতে তিনি একজন মেয়ের বয়সী মেয়েকে নিয়ে সোনারগাঁ রিসোর্টে ঘুরতে গিয়েছিলেন এবং রাত কাটিয়েছেন, যাকে তিনি ২ বছর পূর্বে নাকি বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে, তার এই বিয়ের কথা  প্রথম বা একমাত্র স্ত্রী কিছুই জানতেন না।

মিডিয়াতে মামুনুল হকের এই নারীঘটিত কেলেংকারীর কথা শুনে তার স্ত্রী মুষরে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে আমার সোর্সের কোনো প্রশ্নের জবাব তিনি দেননি। মামুনুল হক যে রিসোর্টে নেওয়া মেয়েকে একটা রক্ষিতা হিসেবে রেখেছিলেন, তা ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বরের একটি ভিডিও দেখলেই বোঝা যায়। কারণ সেখানে তিনি তার দাবি মোতাবেক দ্বিতীয় স্ত্রীর ব্যাপারে একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি। বিষয়টা এমন নয় যে, ইসলাম ধর্মে দ্বিতীয় স্ত্রী থাকা অপরাধ। বরং অনেকে ধর্মের দোহাই দিয়ে ৪টি স্ত্রীও রাখেন বোগলদাবা করে। কিন্তু মামুনুল হক যদি দুই বছর আগে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেও থাকেন, তাহলে একবছর আগে দেওয়া ওয়াজে প্রথম স্ত্রীর কথা উল্লেখ করলেও দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম মুখে নিলেন না কেন? কারণ একজন গোপন রক্ষীতাকে স্ত্রীর পরিচয় দেয়া যায় না। ইরান সরকার একটা প্রথা তৈরি করেছিলেন।

সেখানে পতিতালয় থাকা শরীয়ত মোতাবেক হারাম হলেও সরকারের তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত একাধিক পতিতালয় রয়েছে। তবে শরীয়া আইন মোতাকেক কোনো পুরুষ যদি সেই পতিতালয়ে যান, তাহলে প্রথমে তাকে পছন্দ অনুসারে একজন নারীকে (পতিতা পেশায় নিয়োজিত) ঠিক করতে হবে এবং তাকে শরীয়া আইনানুযায়ী বিয়ে করতে হবে। বিয়ের এই কার্যটি পতিতালইয়ের একটা নির্দিষ্ট রুমেই হয়। বিয়ে করার পর সে পতিতার সঙ্গে দৈহিকভাবে মিলিত হওয়ার পূর্বে দেনমোহর (পতিতার ন্যায্যমূল্য বা পাওনা) মিটিয়ে দিয়ে তারপর ঘণ্টা কয়েক সেখানে সেই নারীর সঙ্গ লাভ করতে পারেন। আবার যখন সেই লোক পতিতালয় থেকে বেরিয়ে আসবেন, তখন তিনি তাকে সেই শরীয়া আইন মোতাবেক ‘তালাক’ দিয়ে নির্ঝঞ্ঝাট সেখান থেকে চলে যেতে পারবেন।

উপরের ঘটনাটা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, শরীয়া কাণ্ডারী মামুনুল হকরা রক্ষীতা রাখার জন্য এই পন্থাই সাধারণত অবলম্বন করে থাকেন। বাংলাদেশ সরকারের আইনানুসারে যে কেউ বিয়ে করলে তা সরকারি নথিতে রেজিস্ট্রি করতে হয়। ধর্মীয় মোতাবেক বিয়ে হলেও সরকারি নথিতে রেজিস্ট্রি না হলে সে বিয়েকে ‘বিয়ে’ বলে স্বীকৃতি দেয়া যায় না। মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর ভোটার আইডি বা ন্যাশনাল আইডিতে মামুনুল হকের সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়টি উল্লেখ নেই। অর্থাৎ মামুনুল হকের স্ত্রী সে নয়। মানুমুল হক দুইজন সাক্ষী (তার নিজস্ব চ্যালাচামুন্ডু) রেখে এক-দুইটা সুরা পাঠ করে আল্লাহকে হাজির-নাজির করে ‘হয়তো’ সেই নারীকে বিয়ে করেছেন অথবা করেননি, কিন্তু সেই নারীকে যে মামুনুল তার প্রথম স্ত্রী এবং সমাজের কাছ থেকে গোপন রেখে রিসোর্টে আনন্দফুর্তি করেছেন, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।

আমার তদন্তে দেখা যায় যে, মামুনুল হক যাকে দুই বছর আগে বিয়ে করা স্ত্রী বলছেন, সেই বিয়ের কোনো রেজিস্ট্রেশন হয়নি বা সেই বিয়ের কোনো দলিলপত্র নাই। এমনকি তিনি শরীয়ত মতে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বা সম্মতি নিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেননি, যা চ্যালেন একাত্তরের রিপোর্ট শুনলেই বুঝতে পারবেন এবং তা স্পষ্ট প্রমাণ হবে। সেই অডিওতে মামুনুল হক রিসোর্টে ধরা খাওয়ার পর মুক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গেই তার প্রথম স্ত্রীকে ফোন করেন এবং তাকে অনুরোধ করেন যাতে তার প্রথম স্ত্রী বলেন যে, মামুনুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ব্যাপারে তিনি সবই জানেন এবং তার সম্মতিতেই মামুনুল দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু তার একমাত্র স্ত্রী ফোনে বলেন, ‘আপনি আগে বাসায় আসেন’।

অর্থাৎ তার হতবিহ্বল স্ত্রী মামুনুল হকের শিখিয়ে দেওয়া কথায় কর্ণপাত করেন না। অর্থাৎ শরীয়ার কান্ডারী মামুনুল হক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সারা বাংলাদেশে জিহাদের স্ফূলিঙ্গে ছারখার করছিলেন, তিনি নিজেই একজন চরিত্রহীন লম্পট যিনি দীর্ঘদিন ধরে তার প্রথম স্ত্রীকে ঠকাচ্ছিলেন এবং নিজে একজন রক্ষীতা রেখে সময়ে-অসময়ে বিভিন্ন জায়গায় ফুর্তিবাজি করে বেড়াচ্ছিলেন। ধর্মের নামে এসব জামায়াতী-হেফাজতীরা বাংলার মানুষকে যেভাবে ঠকাচ্ছে তা নিশ্চয়ই অপরাধ এবং কঠিন শাস্তিযোগ্য ফৌজদারী অপরাধ। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত