প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাদিয়া নাসরিন: মানুষ চিনেছি বলে সাপের ভয়টা কমে এসেছে!

সাদিয়া নাসরিন: পাড়ায়, ডাক্তার খালাম্মাদের বাগানে অনেকগুলো সূর্যমুখী গাছ ছিলো। গগণবিদারী সব সূর্যমুখী ফুল ফুটে আগুন হয়ে থাকতো। কিন্তু তাঁরা ছিলেন ব্রাম্মণ গোত্রীয় মানুষ, তাঁদের বাগান দূর থেকেই দেখা যায়, ভেতরে যাওয়া বারণ। আমি তাঁদের উঁচু পাঁচিলের ওপার থেকে হলুদ আগুন দেখতাম এক ঘোর বিস্ময় নিয়ে। মনে মনে বলতাম, ‘একদিন আমরাও…’ কিন্তু, কে জানি বলেছিলো, সূর্যমুখী ফুলের ঠিক পেছনের খোঁপাটায় চাক পাকিয়ে সাপ ঘুমায়। সাপকে ভীষণ ভয় আমার। তাই দূরে থেকেই দেখা অভ্যাস হয়ে গেলো আমার আরশিনগরের পড়শির সাথে। তবুও মনের ভেতরে একবার হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখার লোভটা তো গোপনেই বেঁচে রইলো, ‘একদিন আমারও…’

এখন বয়স বেড়েছে, মানুষ চিনেছি বলে সাপের ভয়টা কমে এসেছে। বুঝতে শিখেছি সাপ মানুষের চেয়ে বহুগুণ নিরাপদ। তাই সূর্যমূখীর সাথে দেখা হলো আমার আঙিনায়। ছোট্ট একটা চারা এনেছিলাম। পানির ভারও নেয় না। ভয়ে ভয়ে আনাড়ি মায়ের মতো সেই চারা পেলে পুষে শক্ত করলাম। সে ফুল ফোটালো দলেবলে। এরই নাম গাছ। ভালোবাসার বদলে ভালোবাসাই দেয়, বিষ দেয় না। ‘আমি সূর্যমুখী ফুলের মতো দেখি তোমায় দূরে থেকে/দলগুলো মোর রেঙে ওঠে তোমার হাসির কিরণ মেখে/নিত্য জানাই প্রেম আরতি/যে পথে, নাথ, তোমার গতি/ওগো আমার ধ্রুব জ্যোতি সাধ মেটে না তোমায় দেখে’। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত