প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মৌলভীবাজারে কোটি টাকার আগরের ব্যবসা হলেও শ্রমিকদের জীবনমান খুবই করুণ

স্বপন দেব: [২] মৌলভীবাজারের বড়লেখায় তৈরি করা আগর ও আতর অতিমূল্যবান। দেশে বিদেশে রয়েছে এই আতরের খুব সুখ্যাতি। আতরের মূল্য কখনো কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

[৩] অথচ এ শিল্পের নেপথ্য কারিগরদের জীবন-জীবিকা করোনা কালিন সময়ে বড় কঠিন হয়ে পরেছে। আগর ও আতর ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার লাভ করলেও এ শিল্পের কারিগরদের জীবনমানের কোন পরিবর্তন আসেনি। নুন আনতে পান্তা ফোরানো অবস্থায় কাটে তাদের দিন ।

[৪] বাংলাদেশে প্রতি বছর বড়লেখার আগর ও আতর রপ্তানির মাধ্যমে আয় হয় কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। বর্তমানে আতরের মূল্যবৃদ্ধি পেলেও হুমকির মুখে শ্রমিকদের জীবন ।

[৫] মৌলভীবাজারের সবচেয়ে আতরসমৃদ্ধ উপজেলা হচ্ছে বড়লেখা। উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে আগরের গাছ। এছাড়া জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি জনপদে বিচ্ছিন্ন ভাবে আগর গাছ রয়েছে। তবে সুজানগরের প্রতিটি বাড়িতে আছে আগর প্রক্রিয়াজাত করণ কারখানা। এই সুজানগর গ্রামের আগর শ্রমিকের নাম সুরুজ মিয়া রহিম মিয়া ছিদ্দেক আলী মূলধনহীন শ্রমিকরা যুগ যুগ ধরে মূল্যবান সুগন্ধি আতর তৈরি করে আসলেও তাদের জীবনের চাকা থেমে আছে আদিম কালে।

[৬] প্রতিদিনের ব্যয় মিটিয়ে সামান্য পুঁজি (টাকা) জমিয়ে আগর কাঠ কিনে আগর উড তৈরি করে বিক্রি করেন। এতে তাদের বাড়তি কিছু আয় হয়। তবে জীবন যাত্রার বিশেষ কোন পরিবর্তন আসে না। এ গ্রামের হাজারের ওপর আগর শ্রমিক রয়েছেন।

[৭] অভাবী মানুষগুলো বেশির ভাগ সময় অন্যের কাজ করে দিন কাটান। আগরের কাঠ থেকে কালো ও সাদা অংশগুলোকে বাটাল দিয়ে কেটে কেটে আলাদা করেন। সারাদিন আট-দশ ঘণ্টা কাজ করে তিনশ’ থেকে সাড়ে তিনশ” টাকা মজুরি পান। আর বাড়তি কিছু টাকা জোগাড় করতে পারলে নিজেরা আগর কাঠ কিনে আগর উড তৈরি করে ডিলারের কাছে বিক্রি করে যত সামান্য বাড়তি আয় করেন কিছু শ্রমিক।

[৮] শ্রমিকরা জানান, সন্তানদের লেখাপড়া, পরিবারের খাবার খরচ ৩শ’ টাকার মজুরি দিয়ে চলে না। ফলে অবাব অনটনের মধ্যেই অনেকটা যুদ্ধ করে তাদের সংসার চালাতে হয়। সন্তানদের চাহিদা মেটাতে পারেন না আর না পারেন তাদের শিক্ষিত করে অন্য পেশার উপযোগী করে গড়ে তুলতেও পারছেন না। তাই যুগ যুগ ধরে পূর্ব পুরুষের পেশাকে আকড়ে পরে আছেন।

[৯] কথা হয় মরিয়ম আগর আতর ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সজীব আহমেদের সাথে তিনি বলেন, সুজানগর গ্রামে হাজারের উপর আগর শওমিক আছেন যারা খুবই গরীব। দিন আনে, দিন খায়। এসব শ্রমিকদের যদি সরকারি কোনো সাহায্য বা ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো তাহলে তাদের জীবনে কিছুটা সচ্ছলতা ফিরে আসতে পারে।

[১০] এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান সোমবার বলেন, আগর শ্রামকদের বিষয়টি এতদিন আমার দৃষ্টিতে ছিল না। আগর ও আতরের অসহায়-অসচ্ছল শ্রমিকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনবো।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত