প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ফার্মেসির ভেতরে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে ২৪ ঘণ্টা!

বাংলা ট্রিবিউন : [২] করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সকাল ছয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত পাড়া-মহল্লার মুদির দোকান খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। কাঁচাবাজার ও সুপার শপ খোলা থাকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত। তবে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সুযোগে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের পণ্য বিক্রি করছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কিছু ফার্মেসি। এসব ফার্মেসিতে চাল-ডাল-চিনি-লবণসহ নানা ধরনের খাদ্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টিকে ‘নিয়মবহির্ভূত’ বলছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।

[৩] গত এক সপ্তাহে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, পান্থপথ, গ্রিন রোড, জিগাতলা, ধানমন্ডি, মিরপুর-১০, শেওড়াপাড়া এলাকায় বেশ কিছু ‘ফার্মেসি কাম ডিপার্টমেন্টাল স্টোর’ ঘুরে দেখা গেছে—এসব দোকানে চাল, ডাল, তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। কিছু ফার্মেসিতে আগে থেকেই এই দ্বৈত ব্যবসা চালু ছিল। আবার করোনা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু এলাকার ফার্মেসি নতুন করে ওষুধের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি শুরু করেছে।

[৪] বেস্টওয়ান ফার্মেসিতে বিক্রি হচ্ছে ফলবিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজধানীতে লকডাউন পরিস্থিতির শুরুর পর থেকে ফার্মেসিগুলোতে নিত্যপণ্যের বিক্রি বেড়েছে।

[৫] সরেজমিন দেখা গেছে, অবৈধভাবে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর চালুর কারণে ফার্মেসিগুলোতে ক্রেতাসমাগমও বেড়েছে। এক্ষেত্রে ফার্মেসিগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সুযোগ নিলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর সবাইকে দুই ফুট দূরত্বে অবস্থান করে জরুরি কেনাকাটা করার বিষয়ে জোর দিলেও এসব ফার্মেসি কাম ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ভিড়বাট্টা লেগে থাকে সারা দিন। ফার্মেসির ভেতরেও মানা হয় না সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা। কোনও কোনও ফার্মেসির ভেতরে দূরত্ব নির্দেশক বৃত্ত আঁকা থাকলেও তার মানতে দেখা যায়নি ক্রেতাদের। ফার্মেসিগুলোর দায়িত্বশীলরাও এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না।

[৬] বেস্টওয়ান ফার্মেসিতে প্রবেশ মুখের দৃশ্যফার্মেসিগুলোকে ব্যবসার লাইসেন্স দেওয়া ও তদারকি প্রতিষ্ঠান ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর বলছে, ফার্মেসির ভেতরে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর খোলার কোনও নিয়ম নেই। যারা করছেন সেটা নিয়মবহির্ভূতভাবে করছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব ফার্মেসি চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালনা করে প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

[৭] গত ১৭ মার্চ গ্রিন রোডে ‘স্প্রিংওয়েল ফার্মেসি ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোর’ চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালিকদের একজন আমিনুল ইসলাম। ‘মডেল ফার্মেসি’ হিসেবে দাবি করা এই দোকানের প্রবেশপথ ধরে ভেতরে ঢুকলেই দেখা যায়, বাম পাশে ফার্মেসি ও ডান পাশে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর।

[৮] প্রায় ২৪ ঘণ্টাই ক্রেতাদের সমাগম থাকে গ্রিন রোডের ‘বেস্টওয়ান ফার্মা অ্যান্ড ডিপার্টমেন্টাল স্টোর’-এ। শুরু থেকেই এই ফার্মেসিতে ওষুধের পাশাপাশি ড্রাই ফুড, বিভিন্ন প্রসাধনী, চালের প্যাকেট, ডাল, চিনি, তেলসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি করে আসছে বলে জানান একজন নিয়মিত ক্রেতা। না প্রকাশ না করে তিনি বলেন, করোনা শুরুর পর থেকে এই দোকানে অনেকেই আসছে। মালিকও দোকানে নিত্যনতুন পণ্য তুলছেন।

[৯] মোহাম্মদপুরে মেসার্স মীর ওষুধ ঘরের ভেতরের দৃশ্যসর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ‘বেস্টওয়ান ফার্মা অ্যান্ড ডিপার্টমেন্টাল স্টোর’ ঘুরে দেখা গেছে, ওষুধের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে তারা। নেই কেবল শাকসবজি ও মাছ-মাংস, বাকি সবই আছে। নতুন করে এই স্টোরে সংযোজন হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফল। এছাড়া, ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে ফার্মেসির প্রবেশমুখেই কার্টন ভরে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট। ফার্মেসির ভেতরে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্বের নির্দেশনা।

[১০] প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার খালেদ হোসেন শুভ জানান, তাদের ফার্মেসিতে শুরু থেকেই ওষুধের পাশাপাশি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের অংশটি চালু রয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষেই তা করা হয়েছে।

[১১] বেস্টওয়ান ফার্মেসিতে এই প্রতিবেদক উপস্থিত থাকাকালেই কলাবাগান থানা পুলিশের একটি টহল গাড়ি এসে থামে। গাড়ি থেকে নেমেই দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক কনস্টেবলকে বলেন, ‘এই ভেতরের ভিড় সরিয়ে আসো। সবাইকে দূরে দূরে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করতে বলো।’

[১২] এ ব্যাপারে কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক মো. মমিনুল হক বলেন, ‘লোকজন নিয়ম মানে না। এই যে দেখেন, গায়ে গা ঘেঁষে কেনাকাটা করছে। আমরা টহলে এলেই ভিড় সরিয়ে যাই। কিন্তু আমরা চলে যাওয়ার পর আবারও যে যার মতো করে চলাফেরা শুরু করে। বারবার ক্রেতা-বিক্রেতাদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার জন্য সতর্ক করছি। জনসাধারণকে নিজে থেকেই এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।’

[১৩] মোহাম্মদপুরে মেসার্স মীর ওষুধ ঘরফার্মেসিগুলোর ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার পরও ডিপার্টমেন্ট স্টোর চালুর মাধ্যমে স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে জানান একজন ক্রেতা। তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে পান্থপথের আনিকা ফার্মা অ্যান্ড ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে পণ্য কিনে ফেরেন। সন্ধ্যা ছয়টার পর কাঁচাবাজার ও সুপার শপ বন্ধ হওয়ার কারণে এই স্টোর থেকে বাজার করেছেন বলে জানান আরেক ক্রেতা দেবাশীষ।

[১৪] গ্রিন রোডে আরও কয়েকটি ফার্মেসিতে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর চালু রাখতে দেখা গেছে। সেগুলো হলো—দি গ্রিন ফার্মা, তাজওয়ার ফার্মা, হক ফার্মা অ্যান্ড ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। মোহাম্মদপুর বাঁশবাড়ি সড়কে মেসার্স মীর ওষুধ ঘর অ্যান্ড ডিপার্টমেন্টাল স্টোরেও মুদি দোকানের বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করতে দেখা যায়।

[১৫] পান্থপথে আনিকা ফার্মাচাল, ডাল, তেলের মতো মুদির দোকানের পণ্য ফার্মেসিতে বিক্রির অনুমতি নেই বলে জানিয়েছেন ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মডেল ফার্মেসিতে কিছু নন-ফার্মাসিউটিক্যাল আইটেম রাখার সুযোগ আছে। যেমন, ডেটল, স্যানিটারি প্যাড, ডায়াপার, মেডিকেটেড টুথপেস্ট, মেডিকেটেড শ্যাম্পু এগুলো তারা রাখতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘মডেল ফার্মেসির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে প্রায় ৪০টি এ ধরনের পণ্যের তালিকা করে দেওয়া আছে, যেগুলো ফার্মেসিতে রাখা যাবে। এর বাইরে চাল, ডাল, তেল এগুলো বিক্রির সুযোগ নেই।’

[১৬] যেসব ফার্মেসিতে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর চালু আছে সেগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘চাল-ডালের মতো পণ্য ফার্মেসিতে রাখার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা এসব ফার্মেসি শনাক্ত করে অভিযান চালাবো। তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে প্রয়োজনে বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত