প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে সংখ্যালঘু মুসলমানবিরোধী নীতি গ্রহণ করেছে

কুলদা রায় : নিউইয়র্কে সনজীবন সরকার নামে একজন মানুষ আছেন। বাড়ি বাংলাদেশের গাইবান্ধায়। বাম রাজনীতি করতেন। তিনি কবি এবং আর্টিস্ট। এখন নিউইয়র্কে সাংবাদিকতা করেন বাংলা পত্রিকায়। একটা সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করেছিলেন। বছরখানেক চলার পরে সেটা ফেল মেরেছে। তার বেশ কয়েক হাজার ডলার মেরে দিয়েছেন আরেকজন ইউ ইয়র্কার বাংলাদেশি। তিনি ধর্মের দিক থেকে মুসলমান। ধর্মের দিক থেকে সনজীবন কুমার হিন্দু। পূজার সময় তার পরিবার মন্দিরে যানÑ ফেসবুকে সে ছবি দেখেছি। ধর্মের দিক থেকে একজন মুসলমান একজন হিন্দুর টাকা মেরে পথে বসিয়ে দিলেন, তাতে সনজীবন কুমারের রাগ হওয়ার কথা। মোটা দাগে মুসলমানবিদ্বেষী হওয়ার কথা স্বাভাবিক বাঙালি সমাজে। সেটাই তো আমাদের মতো এই ঘৃণাবাদী বাঙালি সংস্কৃতির ধারা। সনজীবন কুমার সত্যি সত্যি কি বামপন্থী থেকে গোঁড়া হিন্দু হয়ে গেছেন? কী রকম হিন্দু? অপু উকিলদের মতো সরকারি হিন্দু? না ভারতের হিন্দুত্ববাদী মোদীর রামভক্ত হনুমান হিন্দু? না। সেটা হননি। বরং গেলো বছর রোজার সময়ে তিনি তার কিছু হিন্দু বন্ধুবান্ধবদের জড়ো করে রোজাদার মুসলমানদের ইফতারি বিতরণ করেছেন। এই খবর পত্রিকায় দেখেছি।

নিউইয়র্ক জায়গাটা বেশ মজার। এখানে হিন্দু বাংলাদেশিদের নড়াচড়া খুব বেশি দেখা যায় না। তারা ঘোপেঘাপে থাকে। বাংলাদেশে ধোলাই খেতে খেতে তাদের মেরুদ- আর সোজা হয়নি। তাদের কয়েকটি মন্দির আছে। সেই মন্দির নিয়ে আছে রেশারেশি। নমোশুদ্র মতুয়ারা অনেক কষ্টে একটা নমোশুদ্র মন্দিরের জন্য বাড়ি কিনেছিলো। সেই বাড়িটি আবার একজন নমোশুদ্র ডাক্তার আত্মসাৎ করেছেন। ফেসবুক খুললেই দুপক্ষের গালিগালাজ শাপশাপান্ত শোনা যায়। তবে শ্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরে এই নমোশুদ্রদের মতুয়া গ্রুপ নিউইয়র্কে বিজয় উৎসব করেছিলো। আছে অনুকূলচন্দ্রের সৎসঙ্গী। ভারত সেবাশ্রম। ইসকন। আরও এটা সেটা বহুকিছু। প্রতি বছরই তারা দলে দলে বাসে করে নব বৃন্দাবন যাত্রা করে। তবে একটা পর্যবেক্ষণ বলি, এই হিন্দু বাংলাদেশিরা একজন আরেকজনকে আড়ালে নিন্দা-মন্দ করেন। এক হিন্দু আরেক হিন্দুর বিপদে-আপদে হাত গুটিয়ে রাখেন। জয় শ্রীরাম। নিউইয়র্কে আছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান পরিষদ। একটা নয় দুটো। একটার নেতৃত্বে দ্বিজেন ভট্টাচার্য ওরফে শঙ্কর ভট্টাচার্য। আরেকটার নেতৃত্বে আছেন সীতাংশু গুহ। দু’ গ্রুপই বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়নের ঘটনা ঘটলে বিবৃতি দেন। বাংলাদেশের মন্ত্রীটন্ত্রী এলে দেখাসাক্ষাৎ করেন। নিউইয়র্কে হিন্দু নেতা এলে তাকে নিয়ে সভা করেন। আর হিন্দুত্ববাদী বিজেপির লোকজন এলে তাকে প্রাণের ভাই বলে জড়িয়ে ধরেন বলে শোনা যায়।

ভারতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে সংখ্যালঘু মুসলমান বিরোধী নীতি গ্রহণ করেছে। তারা যেনতেন প্রকারে ভারত থেকে মুসলমানদের তাড়িয়ে দেবে। এটা নিয়ে গেলো এক বছর মহা হৈচৈ শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে দিল্লিতে মোদীর দল ঘোষণা দিয়ে মুসলমানদের আক্রমণ করেছে। তাদের সহায়-সম্পদ লুটপাট করেছে। অনেক বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। যে বিচারপতি আহতদের হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগকে, দাঙ্গাকারীদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সেই বিচারপতিকে রাতের অন্ধকারে দিল্লি থেকে বদলি করে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী মোদির সরকার। ভারতের এই সংখ্যালঘু নিপীড়ন নিয়ে একটি শব্দ উচ্চারণ করেননি নিউইয়র্কের কোনো হিন্দু প্রতিষ্ঠান। কোনো প্রতিবাদ করেননি শঙ্কর ভট্টাচার্য বা শীতাংশ গুহবাবু।

তারা নীরবে আছেন। এর মধ্যে আওয়াজ তুলেছেন ব্যক্তিগতভাবে সুব্রত বিশ্বাস। তিনি উদীচী করেন। কিন্তু উদীচীর প্রধান জীবন বিশ্বাসের মুখে রা নেই। তিনি নানা আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে ব্যস্ত। এমনকি আমেরিকায় অবস্থান করা প্রিয়া সাহাও ফেসবুকে আরও নীরব। হিন্দু নির্যাতন হলে কথা বলতেন। কিন্তু বলতে চান সনজীবন কুমার। ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমান নিপীড়ন বন্ধ করার দাবি তুলতে চান। করতে চান ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্ববাদী বিজেপির এই মানবতাবিরোধী কর্মকা-ের প্রতিবাদ। সেজন্য ১ মার্চ বিকাল চারটায় জ্যাকসন হাইটসে প্রবল শীতের মধ্যে মানববন্ধন করবেন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সম্প্রীতির পক্ষে। না। তিনি একা করবেন না। সবাইকে নিয়ে করবেন। হিন্দু হিসেবে নয় করবেন মানুষ হিসেবে। আগে মানুষ। তারপর হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, নাস্তিক। স্যালুট সনজীবন কুমার। স্যালুট গোপাল স্যান্ন্যাল। স্যালুট সুব্রত বিশ্বাস। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত