শিরোনাম
◈ প্রবাসীদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকারের: আইনমন্ত্রী ◈ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার আগে 'ওয়ার্নিং সিস্টেম' বন্ধ রেখেছিল সৌদি আরব, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ◈ হাসপাতালে সাড়ে চারশ রোগী সামলানো একা ডিউটিরত নারী ডাক্তারকে স্থানীয় নেতার হ্যানস্তা অভিযোগ, ভিডিওতে যা বললেন ◈ খেলাপি ঋণ থাকা সত্ত্বেও বেক্সিমকোর দুই প্রতিষ্ঠানকে ঋণ সুবিধায় ছাড় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ◈ নিউইয়র্কে ড. ইউনূসের সঙ্গে যা করেছে, তাতে রিকনসিলিয়েশনের সুযোগ দেখি না: তথ্য উপদেষ্টা (ভিডিও) ◈ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা কাগজে সীমাবদ্ধ না রাখার তাগিদ রাষ্ট্রপতির ◈ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী ◈ অন্ধকারেও সীমান্তে নজরদারি বাড়াচ্ছে বিজিবি, ব্যবহৃত হচ্ছে থার্মাল ও নাইট ভিশন প্রযুক্তি ◈ ভোলায় এক নারীর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি ◈ ৬ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ ও সংকটের অন্তরালে: যেভাবে ডুবল ব্যাংক খাত

প্রকাশিত : ১৮ জানুয়ারী, ২০২০, ০৭:৪৩ সকাল
আপডেট : ১৮ জানুয়ারী, ২০২০, ০৭:৪৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দুঃখী রবির ভিতরে খুব গোপনে বাস করা আরেকটি হাসিখুশি রবি

 

আসিফ এন্তাজ রবি : তখন আইডিয়ালে পড়ি। জামশেদ স্যার হচ্ছেন ক্লাস টিচার। বদ মেজাজের জন্য তার খ্যাতি পুরো ঢাকাজুড়ে। তার ভয়ে কেবল স্টুডেন্ট নয়, ক্লাসের বেঞ্চরাও কাঁপতো। আমিও কাঁপছি। এই কাঁপাকাঁপির ফলে সামান্য একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেলো। বেতনের রিসিটে নিজের নামের জায়গায় বাবার নাম এবং বাবার নামের জায়গায় নিজের নাম লিখে ফেলেছি। সহপাঠীদের সামনে জামশেদ স্যার এমন একটা রামচটকানা মারলেন, মনে পড়লে আজও কান টনটন করে ব্যথা করে। সেদিনই সিদ্ধান্ত নিলাম আত্মহত্যা করবো। যে নিজের নামটাই ঠিকমতো লিখতে জানে না, তার বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। বাসায় এক বোতল ডেটল আছে। কোকের সঙ্গে মিশিয়ে ওটা খেয়ে ফেলবো। না আমার ডেটল খাওয়া হয়নি। টিফিন পিরিয়ডে মন খারাপ করে একা বসে আছি। এমন সময় একটা ছেলে এসে আমার সামনে দাঁড়ালো। হাসতে হাসতে আমাকে বললো, আরে এমন ভুল তো মানুষের হতেই পারে। ভুল তো ভুলই। তুমি কি নিজের নাম জানো না? অবশ্যই জানো।

ভুলে নিজের নামের জায়গায় অন্যের নাম লিখে ফেলেছো। আর যার নাম লিখছো, সে তো অন্য কেউ নয়। নিজের বাপের নাম লিখেছো। আবার বাপের নামের জায়গায় নিজের নাম লিখেছো। শাবাশ। বাপকা বেটা। এই ‘অসাধারণ’ ছেলেটার সঙ্গে কথা বলে আমার মনের ভার খানিকটা কমলো। এই ছেলেটা আর কেউ নয়, আরেকটা রবি। দুঃখী রবির ভিতরে খুব গোপনে বাস করা আরেকটি হাসিখুশি রবি। আসল রবি যখন দুঃখে কাতর, হতাশায় ভেঙে পড়ে, তখন এই দ্বিতীয় রবি এসে তাকে জাগিয়ে তোলে, হাসায়, বাঁচতে শেখায়, ছেঁড়া কাঁথা, ফুটো মশারির ভিতর শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখায়। এখনকার পৃথিবী অসম্ভব নিষ্ঠুর। সুখের সময় তোমার পাশে সবাই থাকবে, কিন্তু তুমি যে কতোটা একা, একমাত্র দুঃখের দিনেই সেটা বুঝবে। সে সময় কেউ এসে তোমায় মাথায় একটুখানি হাত রাখবে না। যখন তুমি নিজেকে মেরে ফেলার কথা ভাববে, তখন কেউ তোমাকে একটু বুঝিয়ে, একটু ভুলিয়ে, একটু হাসিয়ে অন্য পথে নিয়ে যাবে না। কাঁদার সময় তুমি কোনো কাঁধ পাবে না।

মাথা রাখার জন্য কোনো বুক পাবে না। কারণ মানুষ মাত্রই একা। এজন্য নিজের একটা ফটোকপি সবসময় সঙ্গে রাখতে হয়। সাবধানী মানুষ যেমন ডুপ্লিকেট চাবি রাখে, গাড়ির পেছনে যেমন স্পেয়ার চাকা ঝোলে, অনেকটা সেই রকম। যখন তুমি ভেঙে পড়েছো, যখন পাশে কেউ নেই, তখন যেন এটলিস্ট তোমার ‘ডুপ্লিকেট তুমি’টা সঙ্গে থাকে। যাতে ভয়ংকর অন্ধকারে সে তোমায় পথ দেখায়, ভয়ের সময় সাহস দেয়, হতাশার মধ্যে আশা দেখায়, মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে তোমাকেই সান্ত¡না দেয়। বেঁচে থাকলে আত্মহত্যা করার মতো একশটি কারণ সামনে আসবে। জীবন এমনই। এটা ফুল শয্যা নয়। কাজেই সবসময় সঙ্গে ‘ডুপ্লিকেট তোমাকে’ রাখো। তুমি বেঁচে যাবে, তুমি ভালো থাকবে। বেঁচে থাকার মতো সুন্দর ব্যাপার আর একটিও নেই, বেঁচে না থাকলে সেটা তুমি কী করে বুঝবে? ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ