প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্লু-ইকোনমি,সমুদ্রের বিশাল জলরাশি এবং তলদেশের সম্পদকে ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার হাতছানি

এইচ এম জামাল: সমুদ্রে অবস্থিত বিশাল জলরাশি এবং এর তলদেশের বিশাল সম্পদকে কাজে লাগিয়ে এদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে ব্লু-ইকোনমির মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এদেশের কাঙ্ক্ষিত, দ্বি-অংকের জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ,অন্যান্য লক্ষমাত্রা অর্জনে বিশাল এই সমুদ্র সম্পদকে আমাদের অর্থনীতির মূল ধারায় সংযুক্ত করতে হবে। বাসস
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন,এ দেশের সমুদ্র সীমায় প্রচুর সম্ভবনা রয়েছে। পানির নিচের এসব সম্পদকে আমরা সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারলে আমাদের অর্থনীতির গতি আরো বাড়বে। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও ভিশন-২০৪১ অর্জনে ব্লু-ইকনমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সমুদ্র সম্পদের অবদান ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অথবা ৬ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিদ্রুত সুচিন্তিত পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্র সীমাকে অর্থনীতির কেন্দ্রে রূপান্তর করে বাংলাদেশ সামুদ্রিক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সমুদ্র সম্পদের অবদান কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

ব্লু-ইকোনমিকে আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে একীভূত করতে গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে আরও বেগবান করার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অথবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় একটি উইং খোলার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিট) রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব:) মো. খুরশেদ আলম জানান সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমি ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছে দেশ। সাগরের বিশাল জলরাশি এবং এর তলদেশের অফুরন্ত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটানো প্রক্রিয়া চলছে। সমুদ্র জয়ের পর সেই বিপ্লব বাস্তবায়নের রোডম্যাপ এগিয়ে নিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বাংলাদেশ।

ইতিমধ্যে সামুদ্রিক অর্থনীতি বিকাশের জন্য ২৬টি কার্যক্রম চিহ্নিত করেছে সরকার। এগুলো হল: শিপিং, উপকূলীয় শিপিং, সমুদ্র বন্দর, ফেরীর মাধ্যমে যাত্রী সেবা, অভ্যন্তরীণ জলপথে পরিবহন, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্প, মৎস্য, সামুদ্রিক জলজ পণ্য, সামুদ্রিক জৈব প্রযুক্তি, তেল ও গ্যাস, সমুদ্রের লবণ উৎপাদন, মহাসাগরের নবায়নযোগ্য শক্তি, ব্লু-এনার্জি, খনিজ সম্পদ (বালি, নুড়ি এবং অন্যান্য), সামুদ্রিক জেনেটিক সম্পদ, উপকূলীয় পর্যটন, বিনোদনমূলক জলজ ক্রীড়া, ইয়টিং এবং মেরিনস্, ক্রুজ পর্যটন, উপকূলীয় সুরক্ষা, কৃত্রিম দ্বীপ, সবুজ উপকূলীয় বেল্ট ডেল্টা পরিকল্পনা, মানব সম্পদ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নজরদারি এবং সামুদ্রিক সমষ্টি স্থানিক পরিকল্পনা (এমএসপি)।

খুরশেদ আলম জানান, প্রত্যেকটি কার্যক্রমকে আরও কার্যকরী করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা অন্তর্ভূক্ত করা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত