প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা পাসপোর্ট ঠেকাতে রেড অ্যালার্ট

নিউজ ডেস্ক : জালিয়াতি করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার সময় সম্প্রতি বিমানবন্দরে আটক হন দুই রোহিঙ্গা নারী। তারা ওমরা হজ করার কথা বলে ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করে বিমানে উঠে যান। তাদের আচরণ ও কথাবার্তা অস্বাভাবিক মনে হলে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দালালদের মাধ্যমে জালিয়াতি করে পাসপোর্ট পাওয়ার কথা স্বীকার করেন তারা। শুধু এ দুইজন নয়, প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পথে ধরা পড়ছেন রোহিঙ্গারা। আবার কখনো কখনো পাসপোর্ট করাতে গিয়ে তারা ধরা পড়ছেন। যায়যায়দিন।

এ অবস্থায় রোহিঙ্গারা যাতে কোনোভাবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে না পারেন এ জন্য সারাদেশে রেড এলার্ট জারি করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

কয়েকজন জেলা প্রশাসক সম্প্রতি ‘রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট পেতে নানাভাবে তৎপরতা বাড়িয়েছে’ এমন প্রতিবেদন দেয়ার পর এ উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এছাড়াও রোহিঙ্গারা যাতে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজ, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, জঙ্গি তৎপরতার মতো রাষ্ট্রবিরোধী কাজ না চালাতে পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পাসপোর্ট পেতে সারাদেশে ভয়াবহ তৎপরতা শুরু করেছেন রোহিঙ্গারা। পাসপোর্ট পেতে তারা ক্ষেত্রবিশেষে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত দালালদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় এক শ্রেণির দালাল, পাসপোর্ট অফিস ও পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গারা যাতে পাসপোর্ট না পায় সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারাদেশে রেড এলার্ট জারির জন্য চিঠি দেয়া হবে। পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হয় সেগুলো দেয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের আরও অধিক সতর্ক হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সেখানে নতুন পাসপোর্ট নেয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রতিনিধি যেমন চেয়ারম্যানের সনদ, মেয়রের সনদ, ভোটার আইডি কার্ড, জন্ম সনদ ধাপে ধাপে চেক করতে বলা হবে। পাসপোর্ট করতে আসা ব্যক্তিকে কোনো ধরনের সন্দেহ হলেই একাধিক কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় কথা বলতে হবে। পাসপোর্টে ফরম ও ছবি যে কর্মকর্তা সত্যায়িত করেছেন তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া, প্রয়োজনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ওই ব্যক্তির সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে হবে। সর্বোপরি স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা নাগরিক সনদ, জন্ম সনদ দেয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন) রেজাউল আহসান বলেন, রোহিঙ্গারা কোনো অবস্থাতেই পাসপোর্ট না পায় সেজন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ সব জায়গায় কঠোরভাবে বলা আছে। তারপরও তারা নানাভাবে পাসপোর্ট পেয়ে যাচ্ছে, যেটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। এ ব্যাপারে তারা সতর্ক। স্থানীয় প্রশাসন তাদের বিষয়গুলো জানাচ্ছেন আরও জানাবেন। রেড এলার্ট জারি ব্যাপারে তিনি বলেন, পাসপোর্টের ব্যাপারে তারা সব সময় রেড এলার্টের মধ্যে থাকেন। শুধু প্রশাসন দিয়ে এটা রোধ করা সম্ভব নয়, এজন্য স্থানীয়দের জনপ্রতিনিধিসহ সবাই আরও সচেতন হতে হবে বলে মত দেন তিনি।

মন্ত্রিপরিষদের চিঠি বলা হয়েছে, মিয়ানমান থেকে বাস্তুচু্যত নাগরিক রোহিঙ্গারা কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে বিভিন্নভাবে দেশব্যাপী পালিয়ে যাচ্ছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি এ অপরাধীদের সহায়তা ও ছত্রছায়ায় তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীতে এক সপ্তাহে শতাধিক রোহিঙ্গা ধরা পড়েছে। যেটা খুবই উদ্বেগজনক। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন আরও অধিক সতর্ক হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাতে বেলায় কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে তারা বিভিন্ন জেলা ছড়িয়ে পড়ছেন। ক্যাম্প থেকে বের করে আনা, অন্য জেলা নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে পাসপোর্ট দেয়া পর্যন্ত ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মতো চুক্তি করেন দালালরা। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি হওয়ার পর তার এখন অন্য জেলাকে বাছাই করেছেন। সম্প্রতি খুলনা জেলা ও মহানগরীতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০জন রোহিঙ্গাকে আটক করার পর তাদের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ও পাসপোর্ট নেয়া বন্ধের বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদকে অভিহত করেন খুলনা জেলা প্রশাসক। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। তারা কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসার পর স্থানীয় লোকদের সহায়তা তাদের আটক করে প্রশাসন। চিঠিতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গারা যাতে বাসে বা অন্য কোনো স্থল বা নৌপথে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে না পারেন সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনীকে আরও সতর্ক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেতে না পেতে পারে সেজন্য আঞ্চলিক পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে চিঠিতে উলেস্নখ করেছেন। রোহিঙ্গা যাতে বাংলাদেশি হিসেবে জন্ম সনদ না নিতে পারে সে বিষয়ে সব উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও সিটি করপোরেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয় ডিসিদের পক্ষ থেকে। জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা শুধু পাসপোর্ট নেয়ার জন্য খুলনা এসেছেন বলে জানিয়েছেন। দালালচক্র পাসপোর্ট করে দেশের বাইরে পাঠানোর পর্যন্ত চুক্তি করেছে।

এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে তারা ধরেছেন। এটা খুবই উদ্বেগ্বের বিষয়। তারা যাতে কোনো অবস্থায় পাসপোর্ট পেতে না পারে সেজন্য সবাইকে সর্ব্বোচ সতর্ক থাকতে বলেছেন। তিনি বলেন, যখন রোহিঙ্গা ধরা হয়, তখন তাদের ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেন। অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হলে তাদেরকে আইনের কাছে সোর্পদ করেন।

 

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত