শিরোনাম
◈ মূল্যবৃদ্ধির চাপ ধনীদের ওপর, ৬৫ শতাংশ সাধারণ মানুষ সুরক্ষিত: তথ্যমন্ত্রী ◈ জুয়া নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দাদের বাড়তি ক্ষমতা, সন্দেহ হলেই তল্লাশি ও গ্রেপ্তার করতে পারবে, অপব্যবহারের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই ◈ গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের ১০০ দিন: স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন সমীকরণ

প্রকাশিত : ২১ মে, ২০১৯, ০৬:১২ সকাল
আপডেট : ২১ মে, ২০১৯, ০৬:১২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর)- এর মাধ্যমে মামলাজট কমানো সম্ভব, বললেন ব্যারিস্টার মৌসুমী কবিতা

জুয়েল খান : বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া) একটা শাখা আছে, কিন্তু এই বিষয়টা সাধারণ মানুষ জানেন না যে, কোর্টের বাইরেও বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়। তবে সব মামলায় এডিআর প্রযোজ্য নয়, যেমন ধর্ষণ মামলা, হত্যা মামলা, নারী-শিশু নির্যাতন মামলা। যদি কোনোভাবে মনে হয় যে, এই মামলাটা সমঝোতা করা সম্ভব তাহলে সেটা এডিআরের মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে মামলার উভয় পক্ষকে (বাদী- বিবাদী) একসঙ্গে বসে সবার কথা শুনে সেখানে বসেই লিখে পর্যালোচনা করে একটা রায় দেন তাহলে সেই রায় মেনে নিয়ে মামালা দ্রুত সমাধান সম্ভব। তাহলে আদালতের উপরে বাড়তি মামালার জট কমবে বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মৌসুমী কবিতা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মামলাজট একটা জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন যাচ্ছে আর মামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

এর পেছনে রয়েছে আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব। কেউ কেউ সামান্য একটা বিষয় নিয়ে কারো সঙ্গে ঝামেলা হলেই আদালতের দ্বারস্থ হয়। আর সেখানে অপেক্ষমাণ আইনজীবীরা কোনো বাদবিচার না করেই মক্কেলকে দিয়ে মামলা করিয়ে দেয়। বিশেষ করে নিম্ন আদালতে এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে নিম্ন আদালতের অনেক মামলা এখানে সমাধান করা সম্ভব। তবে এখন পর্যন্ত গ্রাম্য আদালতের অবকাঠামো শক্তিশালী হয়নি। এখানে কিছু জটিলতা রয়েছে। যেমন : গ্রামের সালিশের মাধ্যমে সমাধান করতে গেলে অভিযোগ আছে যে, গ্রাম্য সালিশে টাকা খেয়ে পক্ষ অবলম্বন করা হয় যার ফলে সুষ্ঠু সমাধান হয় না। তাই অনেকেই সালিশের ভয়ে কোর্টে মামলা করে আসে।

আবার ইউপি সদস্যরা অনেকেই আছেন একেবারে অশিক্ষিত শুধু নিজের নাম লিখতে পারেন, তাহলে তিনি কীভাবে মামলার নিষ্পত্তি করবেন। তবে প্রধানমন্ত্রী একটা উদ্যোগের কথা বলেছেন যে, চেয়ারম্যান-মেম্বার হতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা করতে হবে। এটা করলে গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে গ্রাম অঞ্চলের অধিকাংশ মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব এবং এটা খুবই অল্প সময়ের মধ্যেই করা সম্ভব। এছাড়া বাংলাদেশে যে, পরিমাণ মামলা আছে তার তুলনায় কোর্টের সংখ্যা কম এবং বিচারকের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় কম। নিম্ন আদালতের একজন বিচারকের একদিনে দশটার বেশি মামলার শুনানি করা সম্ভব হয় না, কিন্তু সেই বিচারকের হাতে দুইশোর বেশি মামলা থাকে তাহলে কীভাবে মামলা জট কমবে। তাই কোর্টের সংখ্যা দ্বিগুণ করতে হবে, বিচারকের সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মামলা না করার জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

তবে আদালতে মামলাজট কমানোর ক্ষেত্রে আইনজীবীদেরও একটা বড় ভূমিকা আছে, যেটা তারা পালন করেন না। ছোটখাটো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি উকিলের কাছে মামলা করার জন্য গেলে আইনজীবীর দায়িত্ব হচ্ছে তাকে বুঝিয়ে মামলা না করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা এবং এটা আইনজীবীদের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তারা সেটা না করে টাকার জন্য মামলা করায় উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ আছে। আসলে আইনপেশা হচ্ছে একটা মহান পেশা। সেই পেশাকে সম্মান করতে হবে, কেবল টাকার জন্যই মামলা নেয়া উচিত নয়, সাধারণ মানুষকে মামলা না করার জন্য পরার্মশ দেয়া উচিত।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়