বাংলাদেশি নাগরিক শনাক্ত করার নামে বেঙ্গালুরুতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে শতাধিক পরিযায়ী শ্রমিককে আটকের অভিযোগ উঠেছে। নারী ও শিশুকেও আটক করা হয়েছে বলে দাবি নাগরিক অধিকার, আইনজীবী ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর। যদিও পুলিশের দাবি, বেআইনিভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতেই অভিযান চালানো হয়েছে এবং যাচাইয়ের পর ১০৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিচালক এবং বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ, অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর জাস্টিস, ডেমোক্র্যাটিক ওয়ার্কার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এবং অল ইন্ডিয়া সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব ট্রেড ইউনিয়নস। পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করে।
অল ইন্ডিয়া সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব ট্রেড ইউনিয়নস শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সর্বভারতীয় সংগঠন। সংগঠনগুলোর অভিযোগ, শনিবার ভোরে বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন বস্তি ও পরিযায়ী শ্রমিকদের বসতিতে ঢুকে পুলিশ পরিচয়পত্র যাচাইয়ের নামে ব্যাপক ধরপাকড় চালায়। তাদের দাবি, ভরপুর এলাকায় ৪১ জন, বন্দেপালিয়ায় দুই শতাধিক, হেক্সাগেগুড়িতে প্রায় দেড়শ এবং পরঞ্জানা অগ্রহরায় চার শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়েছে। আরও কয়েকটি থানায় বহু শ্রমিককে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।
পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিপেটা, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং ব্যক্তিগত বার্তা ও ফোনে যোগাযোগের তথ্য পরীক্ষা করার অভিযোগও তুলেছে সংগঠনগুলো। আন্তর্জাতিক নম্বরে যোগাযোগের তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনকে বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি তাদের। পরিচয় যাচাইয়ের নামে এভাবে গণহারে মানুষকে আটক করা আইনসঙ্গত নয় বলে অভিযোগ সংগঠনগুলোর।
ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫ নম্বর ধারার বিধানও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি করেছে তারা। আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, আহতদের চিকিৎসা, স্বাধীন তদন্ত, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বেঙ্গালুরু পুলিশের বক্তব্য, বেআইনিভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতেই অভিযান চালানো হয়েছে। প্রায় তিন হাজার মানুষের নথি যাচাইয়ের পর ১০৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফলে পুলিশের বিদেশি শনাক্তকরণ অভিযান এবং ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিকদের হয়রানির অভিযোগ ঘিরে বেঙ্গালুরুতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।