শিরোনাম
◈ সংস্কার না হলে আরও কমতে পারে প্রবৃদ্ধি, সতর্ক করল আইএমএফ ◈ ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অজনপ্রিয় সামরিক অভিযান: সিএনএনের বিশ্লেষণ ◈ এমপি নজরুলের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ধোঁয়াশা, কাজীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক ◈ স্বর্ণ-নগদ টাকা নিয়ে ভাতিজার সঙ্গে উধাও চাচি, থানায় অভিযোগ চাচার ◈ এলএনজি টার্মিনাল বিকল, বেড়েছে গ্যাস সংকট ◈ আইন প্রণয়ন ও কমিটি গঠনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ টিআইবির ◈ বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ ◈ এনআইডি সংশোধনে মাঠ পর্যায়ে নিষ্পত্তি, অনলাইনে হবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন ◈ পূর্বশত্রুতার জেরে রাজধানীতে বিএনপি কর্মী খুন ◈ ঘুষিকাণ্ডে বিতর্কে জড়ানোর পর প্রথমবার মুখ খুললেন পারেদেস

প্রকাশিত : ০১ মে, ২০১৯, ১১:২৯ দুপুর
আপডেট : ০১ মে, ২০১৯, ১১:২৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রত্যাশার পতিসর

শিশির মারুফ : রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী বা তার মৃত্যু বার্ষিকীতে শিলাইদহ্ এবং শাহজাদপুরের প্রসঙ্গ বার বার উচ্চারিত হলেও পতিসরের প্রসঙ্গ আসে পদাতিৎ। বাহিরের লোকদের পক্ষে পতিসর খুবই দূর্গম। এজন্য আগন্তকের কলমে পতিসর খুবই কম স্থান পেয়েছে। ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ প্রথম পতিসরে আসেন। পতিসর গ্রামটি ২কি.মি বর্গাকার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পতিসর অবস্থানের সময় বহু জাতির বসবাস ছিলো। প্রায় ত্রিশ একর জমির উপরে ঠাকুর জমিদারের কাচারি বাড়ী। কবি পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮৩০ খ্রি: ক্রয়সূত্রে কালীগ্রাম পরগনাকে ঠাকুর জমিদারির অন্তভুক্ত করেন। কালীগ্রাম পরগনার সীমানা ছিলো উত্তরে তালগুন আদমদিঘী, দক্ষিণে আত্রাই নদী,পূর্বে নাগর নদী বরাবর পশ্চিম তীর আর তার পশ্চিমে কাশিয়াবাড়ী। আয়তন প্রায় প্রায় ২৩০ বর্গ কিলোমিটার। মহলয়ের বার্ষিক আয়ের পরিমান ছিলো দেড় লক্ষ টাকা। চলিত কথায় প্রজারা বলতো দেড় লাখি পরগনা। কালীগ্রাম কালিবাড়ী এবং তৎসংলগ্ন কিছু দেবোত্তর ভূ-সম্পত্তি ছিলো নাটোরের মহারাজের জমিদারিভুক্ত। মূলত পতিসর এ কারনেই সকলের কাছে পরিচিত এবং জনপ্রিয় স্থান। রবীন্দ্র ভক্ত অনুরাগী, সাহিত্যিক, শিক্ষার্থীদেও কাছে জ্ঞান গর্ভের স্থান হিসেবে পতিসর ধীরে ধীরে সকলের কাছে এবং দেশ বিদেশে সমাদৃত হতে শুরু করেছে। পতিসর আরো একটি কারণে সকলের কাছে পরিচিত এবং এলাকা বাসীর কাছে গর্বের সেটি হলো কবি গুরুর জন্ম বার্ষিকী ২৫শে বৈশাখ। এই দিনটিতে এলাকায় রবীন্দ্র ভক্ত অনুরাগী, সাহিত্যিক, শিক্ষার্থীদের কাছে উৎসবের দিন হিসেবে পরিণত হয়। এলাকাতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। এই দিনটি উৎসব মুখর ভাবেই পালন করা হয়।

আমি রবীন্দ্রনাথের পতিসর, ২৫শে বৈশাখ নিয়ে কিছু প্রত্যাশা নিয়ে আলোকপাত করছি।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজস্ব জমিদারি পরগনার এই পতিসরের বহুমুখী উন্নয়ন কামনা করে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি পতিসরকে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করবার লক্ষে রবীন্দ্র ভক্ত অনুরাগী, গবেষক, পর্যটক, সাহিত্য প্রেমিক, কবি লেখক এবং শিক্ষার্থীদের নিকট আরো জ্ঞান সমৃদ্ধ , নান্দনীক, শিক্ষা সাহিত্য নির্ভর বৈচিত্রময় পতিসর দেখতে চাই। পতিসরকে শুধু মাত্র একটি সাধারণ গ্রাম হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। যে গ্রামে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত এক সর্বগুনে গুনানীত্ব অসাধারণ ব্যক্তির পদচারনা সেই গ্রামটি অন্য দশটি সাধারণ গ্রামের মত থাকে তাহলে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি এবং তার পতিসর হয়তো এক সময় মৃতপ্রায় হয়ে যেতে পারে। তাই তার স্মৃতির কল্যাণে পতিসরও হয়ে উঠুক এক অসাধারণ শিক্ষা, সাহিত্য নির্ভর, নান্দনিক এবং বৈচিত্রময় শুধু গ্রাম নয় একটি উপনগর হিসেবে।
উপনগর হিসেবে পতিসরে যা যা থাকার প্রয়োজনঃ-
১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
২। রবীন্দ্র শিশু পার্ক নির্মান।
৩। বিশ্ব মানের একটি অডিটোরিয়াম নির্মান।
৪। রবীন্দ্র কলা একাডেমি স্থাপন।
৫। বিশ্ব মানের একটি রবীন্দ্র সংগ্রহশালা নির্মান।
৬। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছেলের নামে যে স্কুল রয়েছে কালিগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইনস্টিটিউশনকে সরকারি করন করা।
৭। কবির জন্ম বার্ষিকী ২৫ শে বৈশাখের ন্যায় মৃত্যু বার্ষিকী ২২শে শ্রাবন জাতীয় ভাবে পালন করা।
৮। তার পরগনার সকল জনগনের উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য একটি হাসপাতাল স্থাপন করা।

কবি গুরুর জন্ম বার্ষিকী উদযাপন সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয় ঃ-
কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম বার্ষিকী ২৫ শে বৈশাখ উদযাপন ও রবীন্দ্র মেলা সাদা মাঠা ভাবে একদিনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়ে যাক এটা আমাদের কাম্য নয়। রবীন্দ্র জন্ম বার্ষিকীতে বড় বড় গুনী সাহিত্যিক, লেখক, কবি, দার্শনিক, রবীন্দ্র ভক্ত অনুরাগী, গবেষকদের আগমন ঘটাতে হবে এবং কবি গুরুকে নিয়ে জ্ঞানগর্ব আলোচনা, রচনা, নাটক, চলচ্চিত্র, বইয়ের মাধ্যমে নতুনদের রবীন্দ্রনাথ ও তার সৃষ্টি সম্পর্কে জানবার পর সুগম করতে হবে।
সেই লক্ষে রবীন্দ্র জন্ম বার্ষিকী উদযাপন ও রবীন্দ্র মেলাকে আরো সুসজ্জিত করতে হবে। যা সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে আরো গ্রহনযোগ্য, নান্দনিক, জ্ঞাননির্ভর ও শিক্ষণীয় হয়ে উঠে।
তার জন্য মেলাতে যা যা প্রয়োজনঃ-
১। মেলার পরিধি বাড়িয়ে ১৫ দিন থেকে ১ মাস হতে হবে।
২। শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্যের বিশেষ বিশেষ অবদানের জন্য বিশিষ্ট্য ব্যক্তিদের “রবীন্দ্র পদক” প্রদানের
আয়োজন করা।
৩। নতুন নতুন কবি লেখকদের বইয়ের মোরক উম্মোচন এবং রবীন্দ্র “বই মেলার” আয়োজন করা।
৪। মেলাব্যাপি রবীন্দ্রনাথ “নাট্য ও চলচ্চিত্র” উৎসবের আয়োজন করা।
৫। সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীদের “শিক্ষা পুরষ্কার” প্রদান করা।

রবীন্দ্রনাথের পতিসরকে যদি এভাবে সুসজ্জিত এবং পরিকল্পিত ভাবে সাজানো যায় তাহলে পতিসর হয়ে উঠবে একটি উল্লেখ যোগ্য দর্শনীয় স্থান। যাতে ভক্ত অনুরাগীরা এসে কিছু স্বাদ নিয়ে যেতে পারে। রবীন্দ্রনাথের পতিসরের অনেক কিছ্ ুকরবার রয়েছে, বর্তমানে যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে তা কিছুই নয়। আমরা শুধু তার ইতিহাস ও সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা করি কিন্তু তার ইতিহাস এবং সৃষ্টির সাথে বর্তমানে যোগসূত্র ঘটাতে না পারলে এক সময় অনেকেই হয়তো রবীন্দ্রনাথকে ভুলে যেতে পারে। তাই এই মহান ব্যক্তির সৃষ্টি এবং তার যে পদচারনার স্থান অর্থ্যাৎ তার যে পরগনা গুলো ছিল সেগুলোকে সংরক্ষন এবং সুসজ্জিত করতে হবে। এক সময় হয়তো এর চেয়ে অনেক অনেক বেশি উন্নয়ন হবে এই কামনায় করি।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়