প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৫৩ ঘণ্টা হেঁটে ৫ বছরের নির্যাতন থেকে মুক্তি পেলেন ইয়াজিদি তরুণী ফারিয়াল

রাশিদ রিয়াজ : এই ৫৩ ঘন্টার জন্যে ৫ বছর ওঁৎ পেতে বসে ছিলেন ফারিয়াল আর তার সন্তান হোশিয়ার মত আরো অনেক। ওরা পেরেছেন, বাকিরা এখনো নির্যাতন সইছে। কতশত মুহূর্ত গুণতে হয়েছে, অপেক্ষার প্রহর পারি দিতে হয়েছে তার কোনো সহজ গাণিতিক হিসেবে এর জবাব মিলবে না। আইএস জঙ্গিদের হাতে গণধর্ষিতা হতে হতে ইয়াজিদি তরুণী ফারিয়াল হিসেব কষে গিয়েছেন পাঁচ বছরের ছেলে হোশিয়ারকে নিয়ে ঠিক কী ভাবে, কখন পালাবেন তাদের খপ্পর থেকে। চেষ্টাও করেছেন বার পাঁচেক। ধরা পড়ে প্রতিবারই বেড়েছে অত্যাচারের তীব্রতা। বিছানার সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে উপুর্যুপরি নির্যাতন করা হয়েছে। ফারিয়াল কিন্তু তার পরও হার মানেননি। অবশেষে যখন ক্লান্ত, অবসন্ন দেহটাকে নিয়ে টানা ৫৩ ঘণ্টা হাঁটতে হাঁটতে এসে পৌঁছলেন উত্তর সিরিয়ার শহর আমুদাতে, বুঝলেন এ বার সত্যিই মুক্তি, তখন শোনালেন পাঁচ বছরের অকথ্য নিপীড়নের কাহিনি।

এমনিতেই ইয়াজিদি সম্প্রদায় নানা রকম ভাবে কোণঠাসা কারণ সূর্য উপাসক বা শয়তানের উপাসক হিসেবে তাদের গণ্য করা হয়। তার উপর যখন ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অংশের উপর দখল নিতে শুরু করে আইএস জঙ্গিগোষ্ঠী তখন ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের পুরুষদের অকাতরে খুন করে, নারীদের যৌনদাসী হিসেবে বানিয়ে অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়। কখনও তাদের হস্তান্তর করা হয়, কখনও তাদের ঋণ পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ সব অবশ্য ২০১৪ সালের সেই দিনটার আগে স্রেফ শুনে এসেছিলেন ফারিয়াল। তখন ইরাকের প্রত্যন্ত গ্রাম ‘তেল বানাত’-এ কোলের ছেলে হোশিয়ার আর স্বামীকে নিয়ে সংসার তার। দিন কাটে, রাত কাটে। এক দিন হঠাৎই আগুনের গতিতে খবর ছড়াল আইএস জঙ্গিরা আসছে। প্রথম দিকে ফারিয়ালরা অতটা ঠাওর করে উঠতে পারেননি। কিন্তু যখন বুঝতে পারেন শিয়রে শমন, তখনই পালাতে শুরু করেন। পরিবারের ১০ জন সদস্যের সঙ্গে একটি গাড়িতে চড়ে রওনা দেন তিনি। তাদের সঙ্গেই পালান আরও ১ লাখ ইয়াজিদি বাসিন্দা। ‘কিন্তু আমরা বোধহয় তেমন দ্রুত পালাতে পারিনি,’ আক্ষেপের সুরে বলে ওঠেন ফারিয়াল। কয়েক মাইলের মধ্যেই পথ আটকায় জঙ্গিরা। তার পরই শুরু হয় নিপীড়ন।

ফারিয়াল জানালেন, তার উপর যে ক’জন জঙ্গি নির্যাতন চালিয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক ছিল আবু কাত্তাব নামে এক ইরাকি জঙ্গি। শুধু তাকে নয়, ছোট্ট হোশিয়ারকেও কেন জানি না অসম্ভব ঘৃণা করত সে। এত মারত যে তার হাতের দাগ পড়ে গিয়েছিল হোশিয়ারের ছোট শরীরে। একদিন আবার রাগের চোটে একটি গরম থালায় হোশিয়ারের হাত পুড়িয়ে দেয় কাত্তাব। ফারিয়ালের চোখে জল আসে আজও, ‘ কেন যে হোশিয়ারকে ও এত ঘৃণা করত জানি না আজও।’ মা যখন এই গল্প শোনাচ্ছে, তখনও মাঝেমধ্যেই তাকে জাপটে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠছে হোশিয়ার। চোখেমুখে ভীতির ছাপ স্পষ্ট। আর কান্না থামলে এক বার চোখ বুলিয়ে দেখে নিচ্ছে সকলকে, ক্ষুদে চোখে আতঙ্ক আর সন্দেহ— সন্ত্রাসবাদের ‘অবদান।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত