শিরোনাম
◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে ◈ আফগান লিগে নাম লেখালেন তাসকিন ◈ ইউপি নির্বাচনে ইসির নতুন বিধান, জামানত বাড়ল পাঁচ গুণ ◈ বিদ্যুতায়নে বছরে কোটি কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমানোর সুযোগ বাংলাদেশের : আইইএর প্রতিবেদন ◈ ১১টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্তের পথে, এয়ারবাস নিয়ে ফ্রান্সের চাপ ◈ ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ ◈ ঢাকার আশপাশের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি ◈ জ্বালানি তেলের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া, কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ২৩ পয়সা ◈ জ্যাকসের ঝড়ে লঙ্কা বিধ্বস্ত

প্রকাশিত : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:১৭ দুপুর
আপডেট : ০২ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘যৌন সুখ’ পেতে নিজের পা কেটে বিমা দাবি, অতপর যা হল..

বিমা জালিয়াতি ও পর্নোগ্রাফি রাখার দায়ে এক ব্রিটিশ ভাসকুলার সার্জনকে দুই বছর আট মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৪৯ বছর বয়সী নীল হপার ২০১৯ সালে নিজের পা কেটে মিথ্যা বিমা দাবি করেছিলেন। এই কাণ্ড ঘটানোর আগে তিনি শত শত অঙ্গচ্ছেদের অস্ত্রোপচার করেছিলেন। সেই সব অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ আদালতের নথিতে প্রকাশ পেয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রুরো ক্রাউন কোর্টে শুনানিতে জানানো হয়, কর্নওয়ালের ট্রুরোর বাসিন্দা নীল হপার ২০১৯ সালের মে মাসে একটি ‘রহস্যময় অসুস্থতার’ শিকার হয়ে হাঁটুর নিচ থেকে দুটি পা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু প্রসিকিউটর নিকোলাস লি জানান, এই আঘাত কোনো রোগ নয়, বরং হপার নিজেই বরফ এবং ড্রাই আইস ব্যবহার করে তাঁর পা হিমায়িত করেছিলেন, ফলে সেগুলো কেটে ফেলা জরুরি হয়ে পড়েছিল। হপার চিকিৎসকদের কাছে তাঁর আঘাতের আসল কারণ গোপন রেখেছিলেন। এটি সেপসিসের কারণে হয়েছে বলে মিথ্যা দাবি করেছিলেন।

advertisement

আদালতে হপার দুটি জালিয়াতির অভিযোগ এবং তিনটি নিপীড়নমূলক পর্নোগ্রাফি রাখার অভিযোগ স্বীকার করেন। তদন্তে জানা যায়, হপার দুটি বিমা কোম্পানি থেকে মোট ৪ লাখ ৬৬ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ দাবি করেছিলেন। প্রসিকিউটর লি বলেন, হপার ‘লোভের’ বশবর্তী হয়ে এ কাজ করেছিলেন। তিনি এক বন্ধুকে মেসেজে বলেছিলেন, ‘এই সুযোগ কাজে লাগানো’ উচিত। আরও জানা যায়, হপার গণমাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি বেশ ‘উপভোগ’ করতেন।

আদালতে বলা হয়, হপারের ছোটবেলা থেকেই ‘বডি ডিসফোরিয়া’ নামক একটি মানসিক সমস্যা ছিল, যার কারণে নিজের পা দুটিকে ‘অনভিপ্রেত অতিরিক্ত’ এবং ‘একধরনের চিরস্থায়ী অস্বস্তির’ কারণ মনে করতেন। তাঁর আইনজীবী অ্যান্ড্রু ল্যাংডন বলেন, হপার অপ্রয়োজনীয় অঙ্গচ্ছেদের অস্ত্রোপচারগুলো জন্য অনুতপ্ত নন। তবে অস্ত্রোপচারগুলোর কারণ ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ‘অসততা’ অবলম্বন করায় ‘তীব্র অনুশোচনা’ বোধ করেন।

advertisement

পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো আরও ভয়াবহ ছিল। হপার একটি ওয়েবসাইট থেকে তিনটি ভিডিও কিনেছিলেন। ভিডিওগুলোতে পুরুষদের স্বেচ্ছায় যৌনাঙ্গ অপসারণ করতে দেখা যায়। এই ওয়েবসাইট মারিয়াস গুস্তাভসন নামে একজন চালাতেন, যিনি পরবর্তী সময়ে একটি চরম বডি মডিফিকেশন চক্র চালানোর দায়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড পান। হপার গুস্তাভসনের সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৫০০ এসএমএস বিনিময় করেছিলেন। ওই সব আলাপে তিনি নিজের পা অপসারণ এবং এর জন্য কতটুকু ড্রাই আইস ব্যবহার করেছেন, সে সম্পর্কে আলোচনা করেন।

অঙ্গচ্ছেদের ছয় মাসেরও কম সময়ের মধ্যে হপার কৃত্রিম পা নিয়ে কর্মস্থলে ফেরেন। রয়্যাল কর্নওয়াল হসপিটালস এনএইচএস ট্রাস্টে তিনি ২০১৩ সাল থেকে ২০২৩ সালের মার্চে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।

advertisement

ট্রাস্টের একজন মুখপাত্র জানান, হপারের বিরুদ্ধে আনা অপরাধ তাঁর ‘পেশাদার আচরণ’ সম্পর্কিত নয় এবং তদন্তে রোগীদের কোনো ঝুঁকি বা ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ডেভন এবং কর্নওয়াল পুলিশও নিশ্চিত করেছে, কোনো অপরাধমূলক অভিযোগ তাঁর চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

তবে, হপারের কিছু সাবেক রোগী, যাদের অঙ্গচ্ছেদ করা হয়েছিল, তাঁরা এখন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এনাবেল ল’-এর অংশীদার মাইক বার্ড বলেন, এ ঘটনা তাঁর সাবেক রোগীদের মধ্যে ‘ট্রমা এবং গুরুতর উদ্বেগের’ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ‘কিছু রোগীর এমন সার্জারি করা হয়েছে, যা তাদের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। তাঁরা এখন ভাবছেন, এই অস্ত্রোপচার আদৌ প্রয়োজনীয় ছিল কি না।’ সূত্র: আজকের পত্রিকা

  • সর্বশেষ