প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্থমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শীর্ষ ঋণ খেলাপির তালিকা টানায়নি ব্যাংকগুলো

রাশিদ রিয়াজ : ব্যাংকাররা ভয় পাচ্ছেন ঋণের ক্ষেত্রে আর্থিক গোপণীয়তা রক্ষার ব্যাপারে আইনে যে বাধ্যবাধকতা আছে তার বরখেলাপ হলে মামলার মুখে পড়বেন তারা। তাই শীর্ষ খেলাপিদের তালিকা কোনো সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টানানো হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে তারা কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ডে শীর্ষ ঋণ খেলাপিদের নাম টানিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল অর্থমন্ত্রণালয়। এমনকি ওয়েবসাইটেও তাদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এ নির্দেশ দেয়া হয় এক বছর আগে। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস

গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমান প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ছুঁইছুঁই করছে। যা ব্যাংকার ও বিশেষজ্ঞদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছরের প্রথম ৯ মাসে খেলাপি আরো বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। খেলাপি সংস্কৃতির বিষয়টি অনেকের কাছে গা সওয়া ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রায়াত্¦ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপির কারণে মূলধন সংকট ও বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছে। গত বছর আগস্টে অর্থমন্ত্রণালয় খেলাপি আদায়ে রীতিমত একটি কর্মশালার আয়োজন করে। এই কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা খেলাপি আদায়ে কৌশল নির্ধারণে বিভিন্ন সুপারিশ প্রদান করেন। তা থেকে ২৭টি সুপারিশ গ্রহণের পর তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়। এসব নির্দেশ কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে তা নিয়মিত যাচাই করারও কথা বলা হয়।

এসব সুপারিশের একটি ছিল ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ডে শীর্ষ খেলাপির নাম টানিয়ে দেয়া এবং ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করা। তবে সোনালী ব্যাংক বিষয়টি নিয়ে তাদের আইনী পরামর্শকের মতামত চেয়েছে। আইনী পরামর্শক বলেছেন এধরনের তালিকা নোটিশ বোর্ডে টানানো বা ওয়েবসাইটে প্রকাশ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এমনকি কোনো খেলাপির বিরুদ্ধে মামলা করা আগে তাদের নাম সংবাদপত্রে প্রকাশের ব্যাপারেও মত দিয়েছেন তিনি। তবে নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে শীর্ষ খেলাপিদের তালিকা প্রকাশের ব্যাপারে তিনি কোনো অভিমত দেননি। এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেছেন, এধরনের তালিকা টানালে খেলাপি আদায়ে কোনো ইতিবাচক কিছু ঘটবে না। বরং খেলাপি আদায়ে আইন সংস্কার ও আরো শক্ত করা যেতে পারে। হাইকোর্টে খেলাপি নিয়ে মামলা পরিচালনার জন্যে পৃথক একটি বেঞ্চ গঠন করা যেতে পারে। কারণ খেলাপি হিসেবে কারো নাম ঘোষণা করলেই সে এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। এবং তা ফয়সালার জন্যে বছরের পর বছর ঝুলতে থাকে। এক্ষেত্রে একটি সময়সীমা থাকা প্রয়োজন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত