প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী শিক্ষার্থীদের প্রক্ষালন কক্ষসমূহ

আবু বকর রায়হান, কুবি প্রতিনিধি: কোনটির দরজা নেই, কোনটির নেই ছিটকিনি, আবার কখনো দেখা যায় বদনা নেই, অনেক সময় দুর্গন্ধের কারনে যাওয়া যায় না। এমনি অবস্থা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ ভবন সমূহের প্রক্ষালন কক্ষগুলোর (ওয়াশরুম)। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নির্দিষ্ট সময়ে পরিষ্কার না করার কারণে নোংরা হয়ে অাছে অনুষদ সমূহের প্রায় সবকটি প্রক্ষালন কক্ষ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন লোকবল সংকটকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদ ভবনের প্রতি তলায় দুইটি করে প্রক্ষালন কক্ষ থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশই ব্যবহারের অনুপযোগী। অনেকগুলো প্রক্ষালন কক্ষে বদনা পাওয়া যায়নি। তাছাড়া বেশির ভাগ প্রক্ষালন কক্ষের দরজায় কোনো ছিটকিনি নেই। ছাত্রীদদের প্রক্ষালন কক্ষে অনেক সময় ছাত্রী প্রবেশ করলে অন্য ছাত্রীকে পাহারারত থাকতে হয়। কয়েকটি প্রক্ষালন কক্ষের কাছে ময়লার দুর্গন্ধে যাওয়া যায়না। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পরিচ্ছন্ন কর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালন না করায় প্রক্ষালন কক্ষের পরিবেশ এমন নোংরা হয়ে আছে।

এই অনুষদের নীচতলায় প্রক্ষালন কক্ষের পাশেই রয়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একমাত্র ক্লাসরুম। অনেক সময় প্রক্ষালন কক্ষের দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে কষ্ট হয়। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ক্লাসরুমের পাশে যে প্রক্ষালন কক্ষ রয়েছে তা সবসময়ই নোংরা হয়ে থাকে এবং দুর্গন্ধ ছড়ায়। যার কারণে আমাদের ক্লাস করতে অসুবিধা হয়।

এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কলা ও মানবিক অনুষদের সেকশন অফিসার তাহানিয়া হক বলেন, “কলা ও মানবিক অনুষদে দুই পাশে দশটি প্রক্ষালন কক্ষ রয়েছে। এগুলো পরিছন্ন রাখার জন্য মাত্র দুইজন সুইপার কাজ করে। তার মধ্যে একজন (খোকন লাল) অনিয়মিত। বাকি একজনের পক্ষে অনুষদ ভবনের কাজ করা কঠিন। লোকবল সংকটের কারণে ঠিকভাবে পরিছন্ন রাখা যাচ্ছে না।”

এতো গেল কলা ও মানবিক অনুষদের কথা। একই রকম চিত্র পাওয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা অনুষদ ভবনেও। এই ভবনে রয়েছে প্রকৌশল অনুষদের দুইটি বিভাগ। এই অনুষদের প্রক্ষালন কক্ষগুলোর অবস্থাও শোচনীয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফাহমিদ হাসান অনিক বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য কোনো প্রক্ষালন কক্ষের অবস্থাই ভাল নয়। শিক্ষকরা যে প্রক্ষালন কক্ষ ব্যবহার করে তা ঠিকই পরিষ্কার থাকে। আমাদের গুলো কেন এত নোংরা থাকে তা বুঝতে পারিনা।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, উপাচার্যের বাসভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তর পরিষ্কার পরিছন্ন রাখার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার। তারপরেও প্রশাসনিক ভবনের অনেক প্রক্ষালন কক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র ময়লা পড়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানের ময়লা পরিষ্কার করা হয়।

এসকল বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার (এস্টেস শাখা) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ‘লোকবল সংকটে কারণে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। মাত্র ৩ জন সুইপার নিয়েই চলছে এই শাখা। তারমধ্যে একজন উপাচার্যের বাসভবনের জন্য নির্দিষ্ট। আমাদের অধীনে শুধু প্রশাসনিক ভবনেই সবমিলিয়ে ৫২ টি প্রক্ষালন কক্ষ। এছাড়াও প্রশাসনিক ভবনের প্রায় সবগুলো রুম ঝাড়ু দেয়ার কাজ করতে হয় এ শাখার সুইপারদের। আরো ৫ জন নতুন সুইপার নিয়োগ দেয়া হলে সুন্দরভাবে আমাদের কাজগুলো করতে পারবে।’ নতুন লোক নিয়োগ হলে এ সমস্যা সহজেই সমাধান হবে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ