শিশুদের চুল পেকে যাওয়া একসময় বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমানে অনেক অভিভাবকের জন্য এটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বংশগত কারণের পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শিশুদের অকালে চুল পাকার অন্যতম প্রধান কারণ। শরীরে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের উৎপাদন কমে গেলে চুলের স্বাভাবিক কালো রং হারিয়ে সাদা হতে শুরু করে।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, শিশুদের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার রাখলে এই সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে ডিম, দুধ, টক দই ও ছানার মতো দুগ্ধজাত খাবারে থাকা ভিটামিন বি-১২ এবং প্রোটিন মেলানিন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একই সঙ্গে পালং শাক, ব্রকোলি ও অন্যান্য সবুজ শাকসবজিতে থাকা আয়রন, ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন সি চুলের পুষ্টি নিশ্চিত করে।
এছাড়া কাঠবাদাম ও আখরোটে থাকা ভিটামিন ই, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং কপার চুলের স্বাভাবিক রং বজায় রাখতে সহায়তা করে। আমলকী, কমলালেবু, পাতিলেবু ও পেয়ারার মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
বিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুই দিন সামুদ্রিক মাছ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এসব মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের শুষ্কতা দূর করে। পাশাপাশি লিভারে থাকা জিঙ্ক ও আয়রন চুলের কোষকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে প্যাকেটজাত চিপস, কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এবং ফাস্টফুড শিশুদের খাদ্যতালিকা থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর অকালে চুল পাকা কোনো জটিল রোগ নয়; বরং এটি অনেক সময় শরীরের পুষ্টির ঘাটতির ইঙ্গিত। তাই সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে এর কার্যকর সমাধান।