যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক বাবা–মা তাদের নবজাতক শিশুকে ভিটামিন-কে ইনজেকশন দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, যা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতার কারণে শিশুরা একটি বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী অবস্থার ঝুঁকিতে পড়ছে, যার নাম ভিটামিন-কে ডেফিসিয়েন্সি ব্লিডিং।
নবজাতকের ঝুঁকি কেন বেশি
চিকিৎসকদের মতে, নবজাতক শিশুর শরীরে জন্মের সময় স্বাভাবিকভাবেই ভিটামিন-কে এর মাত্রা খুব কম থাকে। পাশাপাশি মায়ের দুধেও এই ভিটামিন খুব অল্প পরিমাণে থাকে, ফলে জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহ ও মাসে শিশুরা রক্তক্ষরণজনিত সমস্যার ঝুঁকিতে থাকে।
এই ঝুঁকি কমাতে জন্মের পরপরই নবজাতকদের সাধারণত ভিটামিন-কে ইনজেকশন দেওয়া হয়। এই ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং হাড়ের শক্তি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কাজে ভূমিকা রাখে।
বিপজ্জনক স্বাস্থ্যঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যেসব শিশুকে এই ইনজেকশন দেওয়া হয় না, তাদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা শরীরের ভেতরে বা বাইরে গুরুতর রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে নবজাতকের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, খিঁচুনি এবং শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা গেছে। চিকিৎসকদের মতে, এমনকি ছোট আঘাতও প্রাণঘাতী হতে পারে যদি শিশুর শরীরে ভিটামিন-কে পর্যাপ্ত না থাকে।
একটি জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে প্রায় ৫ শতাংশ নবজাতক ভিটামিন-কে ইনজেকশন পায়নি। এটি ২০১৭ সালের তুলনায় ৭৭ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু হাসপাতালে ইনজেকশন প্রত্যাখ্যানের হার ২০ শতাংশেরও বেশি, যা শিশু বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্যের প্রভাব
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য এই অস্বীকৃতির বৃদ্ধির একটি বড় কারণ।
কিছু অনলাইন পোস্টে ভুলভাবে দাবি করা হয় যে ভিটামিন-কে ইনজেকশন ক্যানসার বা লিউকেমিয়া সৃষ্টি করে। তবে বিজ্ঞানী ও গবেষকরা বারবার এই দাবিগুলো অস্বীকার করেছেন এবং এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, ভিটামিন-কে ইনজেকশন কোনো টিকা নয়। এটি একটি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, যা নবজাতকদের মারাত্মক রক্তক্ষরণ থেকে সুরক্ষা দেয়।
চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, এই ইনজেকশন প্রত্যাখ্যান করলে নবজাতকদের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই তারা অভিভাবকদের নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র- সামা