ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তার অভিযোগ, চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে দেখেন দায়িত্বে থাকা অনেক কর্মী অনুপস্থিত। পরে জানতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে গেছেন তারা।
রোববার (১০ মে) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
আসিফ নজরুল জানান, অনেকক্ষণ বসে বা ঘুমিয়ে থাকলে তার হাঁটুর ওপর মাসল্-এ খুব ব্যথা হয়, ফিজিওথেরাপি দিতে হয়। তাই ক্লাস না থাকায় আজ তিনি গিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে।
তিন দিন মেডিকেল সেন্টারে ফিজিওথেরাপি নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, গত তিন দিন ফিজিওথেরাপি নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ বোধ করছিলেন। তবে শুক্র ও শনিবার মেডিক্যাল সেন্টার বন্ধ থাকায় ব্যথা আবারও বেড়ে যায়।
রোববার ক্লাস শেষে দ্রুত মেডিকেল সেন্টারে গেলে সেখানে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন ঢাবির এ অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘দেখি, ফিজিওথেরাপি দেয়ার কেউ নেই সেখানে। আরো অনেকেই নেই। জানা গেলো ঢা.বি.র অতি উচ্চপদে নতুন একজন নিয়োগ পেয়েছেন। তাকে ফুল দিতে গেছেন তারা।’
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘নতুন উচ্চপদধারী আমার ছোট ভাইতুল্য। ভালো গবেষক ও পরোপকারী মানুষ। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন ফুলের শুভেচ্ছা নেবেন না। তারপরও এই অবস্থা।’
পোস্টের শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে আসিফ নজরুল লেখেন, ‘বারান্দা ভর্তি ঘোরাফেরা করছে রোগী, সাথের লোকজন। ফুলের সুবাস নেই, ঘাম আর কষ্টের গন্ধ সেখানে।’
আসিফ নজরুলের এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।