শিরোনাম
◈ রূপপুর পারমান‌বিক কেন্দ্র নি‌য়ে জনমনে ভীতি, ঘর বা‌ড়ি বানা‌নো‌তে ভয়, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কীভাবে? ◈ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পাঁচ ‘আটহাজারি’ শিখর স্পর্শ করলেন ডা. বাবর আলী, মাউন্ট মাকালু জয়ে ইতিহাস ◈ বিশ্বকাপে ইরানের খেলা নিয়ে সুর নরম করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ◈ যে কারণে ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য! ◈ ‌নিউজিল‌্যা‌ন্ডের বিরু‌দ্ধে আজ জিতলেই ‌টি-‌টো‌য়ে‌ন্টি সি‌রিজ বাংলা‌দে‌শের ◈ এক বি‌শেষ বলকে যমের মতো ভয় পায় বৈভব: ইয়ান বিশপ  ◈ সাত দিনের সফরে জাপান গেলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ◈ সিলেটে পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী ◈ ইরান, ইরাক ও লেবানন ভ্রমণে নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল আমিরাত ◈ এক দেশ বাদে আফ্রিকায় চীনের ‘শূন্য শুল্ক’: কার লাভ, কার ক্ষতি?

প্রকাশিত : ০১ মে, ২০২৬, ০৩:৩১ দুপুর
আপডেট : ০১ মে, ২০২৬, ০৮:১২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চীনে ব্যবসা স্বপ্ন নাকি বিভ্রম? ক্যান্টন ফেয়ার ঘিরে বাস্তবতার মুখোমুখি বাঙালি উদ্যোক্তারা

অনেকেই ভাবছেন চীনে আসলেই শুধু ব্যাবসা আর ব্যবসা। শুধু আসবেন আর বস্তায় বস্তায় টাকা ইনকাম করবেন। তার উপর এখন চলছে ক্যান্টন ফেয়ার। গুয়াংয সান ইউয়ান লি ( বাঙালিরা যাকে ডাকে সানিয়ালি) আর শিয়াওবেই ( বাঙালিরা ডাকে শাবেই) নামক জায়গায় আসলে শুধু বাঙালি আর বাঙালি। ভারত, দুবাই, মধ্যপ্রাচ্য ভিসা জটিলতায় এখন অনেকেই এই মুখী। আবার বিগত লীগ আমলের অনেকেই পাচার করা টাকা নিয়ে এখানে এসেছে, চেষ্টা করছে নানা কিছু করার। সব মিলে একটা অস্থিরতা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। 

প্রথমেই বলি, ক্যান্টন ফেয়ার এ যেসব বাঙালি আসে তাদের বেশিরভাগ ই প্রকৃত ব্যবসায়ী না কিংবা এখানে আসলেই তাদের তেমন কোনো লাভ হয় না। এটা মূলত একটি সোর্সিং মেলা, নবিশদের জন্য তেমন কাজে আসে না। এটা নিয়ে আমার সাথে তর্ক করে লাভ নেই, কারণ আমার বিশ্ববিদ্যালয় মেলার সাথেই অবস্থিত। মেলার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে আমরা জড়িত, আমাদের ছাত্ররা ভলান্টিয়ার, ইন্টার্ন হিসেবে মেলায় কাজ করে। 

বেশিরভাগ কোম্পানি যারা এখানে অংশগ্রহন করে তাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে স্টল নিতে হয়, তাই অনেকের পণ্যের দাম ও কিছুটা হলেও বেশি। আবার বছরের এই সময়ে হোটেল, taxi সহ অনেক কিছুর দাম বেশি! তাই যারা দালাল ধরে, এজেন্ট ধরে লাখ লাখ টাকা খরচ করে এই সময়ে গুয়াংয আসেন যাবার সময় তাদের লাভের খাতা খুব বেশি না। অনেকেই অবশ্য মেলার নামে ভিসা করে পাসপোর্ট "ভারী" করে। এতে কি লাভ আমি জানি না। 

চীন মানেই গুয়াংয না। গুয়াংয মানেই সানিয়ালি না, চীন মানেই শুধু ব্যবসা না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাথে দেশের ১% মানুষ ও জড়িত না। দেশটি এখন শিক্ষা, গবেষণা, ফাইন্যান্স, টেক নানা ক্ষেত্রে বিশ্বকে লিড দিচ্ছে। যদিও বিশ্ব বানিজ্যের বিশাল অংশ চিন থেকে যায়, তবুও গুয়াংয তার একটি মাত্র শহর। বাণিজ্যের এমন শহর, port অন্তত আরও বিশটি আছে। নানা পণ্যের জন্য নানা শহর বিখ্যাত। 

বাস্তবতায় ফিরে যাই। গুয়াংয শহরে আমার খুব কাছের পরিচিত অনেক ব্যবসায়ী আছে যারা অনেক বছর ধরে এখানে আছেন কিন্তু এখনও ব্যবসা নিয়ে স্ট্রাগল করছেন। অনেকের আবার চাইনিজ সহধর্মিণী, চাইনিজ ভাষায় ফ্লুয়েন্ট। তারপরও তারা নানা ধরনের হিমশিম খাচ্ছেন। তার উপর অতি চালাক চাইনিজ ব্যবসায়ীরা এখন নিজেই বাংলাদেশে নানা ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাচ্ছে, এখানেও তাদের দৌরাত্ম্য বেশি। তাই দেশীয় ব্যবসায়ীরা সুবিধা করতে পারছে না, মিডল ম্যান এর লাভের অংশ কমে যাচ্ছে। 

এখানে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খুলে, একজন কর্মচারী রেখে, নানা খরচ দিয়ে , tax vat দিতে গেলে মাসিক ২০০০০-৩০০০০ rmb খরচ লাগবেই। তার পর আপনার লাভ। এখন এত পরিমাণ বাঙালি এইমুখি হচ্ছে, পুরাতন যারা আছেন তাদেরই ব্যবসা বন্ধ হবার উপক্রম। আর আপনি নতুন এসে ভাষা, কালচার না বুঝে, কিছু একটা করে ফেলবেন সহজেই? 

তাইলে কি আমি বলছি যাতে করে নতুন কেউ না আসে? না ব্যাপারটা মোটেও সেটা না। আপনি আসার আগে ভালো করে বুঝে শুনে আসেন। ফোকাস থাকেন নিজের লক্ষ্যে। কি ব্যাবসা করবেন , কিভাবে করবেন, কার সাথে করবেন, আপনার বাজেট কত, কিভাবে সেটা কাজে লাগাবেন সবকিছু আগে থেকে ভালোকরে স্টাডি করে আসেন। এজেন্ট, দালালরা অনেক কিছু বলছে, বলবে। দুই চারজন ব্যবসায়ীর গল্প শুনিয়ে আপনাকে ভুল ইনফরমেশন দিবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন! কিছু করার আগে ভালোকরে জানুন, বুঝুন, শিখুন। শুভকামনা নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য। 

Miraz Ahmed এর ফেইসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়