প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দেশটি থেকে ছেড়ে আসা কাঠবোঝাই নৌকা টেকনাফ স্থলবন্দরের পৌঁছেছে, এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
শুক্রবার (১ মে) সকালে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমারের মংডু এলাকা থেকে নৌকাটি টেকনাফের উদ্দেশে রওনা করে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে এটি টেকনাফ স্থলবন্দরের ঘাটে পৌঁছায়।
এর আগে গত ১৪ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ বিষয়ে বন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের টেকনাফ শাখার মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, একটি কাঠবোঝাই নৌকা বন্দরে পৌঁছেছে।
একই তথ্য নিশ্চিত করে টেকনাফ স্থলবন্দরের মাঝি শামসুল আলম বলেন, এক বছরের বেশি সময় পর একটি মিয়ানমার পণ্য নিয়ে নৌকা এসেছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম ফের চালুর আশায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা যায়, শুক্রবার সকালে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন মিয়ানমারের মংডুর হায়েনখালী খাল থেকে বোটটি টেকনাফের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। টেকনাফের ব্যবসায়ী ফারুকের কাছে বোটটি আসছে।
উল্লেখ্য, দেড় বছর ধরে চলমান সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে নাফ নদের মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচলও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
গত বছরের এপ্রিল মাসের শুরুতে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কমিশন (চাঁদা) দাবিকে কেন্দ্র করে আরাকান আর্মির বাধার মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শতাধিক আমদানি ও রফতানিকারক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় বাংলাদেশ সরকার। তবে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এই কাঠের নৌকার আগমন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশা, দ্রুত নিয়মিত পণ্যবাহী নৌযান চলাচল শুরু হলে টেকনাফ স্থলবন্দর আবারও সচল হয়ে উঠবে এবং সীমান্ত বাণিজ্যে নতুন গতি ফিরবে।