শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ নারী দলের ক্যাম্পে সুইডেন প্রবাসী ফুটবলার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী  ◈ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিস্তর অভিযোগ ◈ ভারতে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব: পাকিস্তানে হাই অ্যালার্ট জারি ◈ ৬ মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করলো বাংলাদেশ ◈ আগে ঘুস ছিল ১ লাখ, এখন লাগে ১০ লাখ: আজম জে চৌধুরী ◈ পদত্যাগ করলেও মন্ত্রিপাড়ার সরকারি বাসা ছাড়েনি আসিফ ও মাহফুজ ◈ ডিম হামলা, হাতাহাতি, ভাঙচুর; ভোটের মাঠে কথার লড়াই কি সংঘাতে গড়াচ্ছে? ◈ স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমাকে জামিন দেওয়া হলো: সাদ্দাম (ভিডিও) ◈ চাঁদে আঘাত হানতে পারে বিশাল গ্রহাণু, হতে পারে ভয়াবহ উল্কাবৃষ্টি ◈ তারেক রহমানের পাশে বসা ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদল সভাপতি

প্রকাশিত : ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:৩৮ রাত
আপডেট : ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চোরাই মোবাইল যাচ্ছে ছয় দেশে, নিয়ন্ত্রণহীন আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট

দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৯ হাজার মোবাইল ফোন চুরি, ছিনতাই বা হারানোর ঘটনা ঘটছে। যার মাত্র অল্প অংশ উদ্ধার হয়, বাকিগুলোর হদিস মিলছে বিদেশি পাচার চক্রের কাছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় একটি আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট বাংলাদেশ থেকে ভারত, মালয়েশিয়া, নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপে চোরাই ফোন পাচার করছে। আবার এসব দেশ থেকেও বাংলাদেশে আসছে চোরাই মোবাইল, যা বাড়িয়ে দিচ্ছে সাইবার অপরাধ ও আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকি।

ডিএমপি সূত্র জানায়, দেশে চুরি বা ছিনতাই হওয়া ফোনের ৭০ শতাংশ পাচার হয়ে যায়। বিশেষ করে আইফোন উদ্ধারের হার মাত্র ১০ শতাংশ। এসব ফোন সীমান্তপথে পাচার হয়ে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার কালোবাজার, যেখানে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ শুল্ক রাজস্ব।

চোরাই ফোনগুলো সীমান্ত পার হওয়ার পর নতুন প্যাকেটে সাজিয়ে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়। আইএমইআই নম্বর বদলে ফেলা যায় মাত্র ৩-৫ সেকেন্ডে, ফলে ট্র্যাকিং হয়ে পড়ে প্রায় অকার্যকর। সম্প্রতি চট্টগ্রামের নন্দনকানন এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয় ৩৪২টি মোবাইল ও ৬টি ল্যাপটপ। গ্রেপ্তাররা জানায়, আইএমইআই পরিবর্তনের পর এসব ফোন প্রথমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হয়। পরে বিভিন্ন রুটে চলে যায় ভারত, মিয়ানমার, নেপালসহ অন্যান্য দেশে।

তদন্তে জানা গেছে, চক্রের সদস্যরা সপ্তাহে ২০০–৩০০ ফোন পাচার করে থাকে। ভারত–বাংলাদেশ–নেপাল–মিয়ানমার সক্রিয় হোয়াটসঅ্যাপ সিন্ডিকেট

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এ পাচারচক্র দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে সক্রিয় একটি হোয়াটসঅ্যাপ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। কোন দেশে কোন মডেলের ফোনের চাহিদা আছে তা জানিয়ে তারা সঙ্গে সঙ্গে ফোন পাঠিয়ে দেয় সীমান্তপথে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর বর্তমানে চোরাই ফোন পাচারের অন্যতম রুট। গত তিন বছরে সেখানে শুধু ভারতীয় চোরাই ফোন জব্দ হয়েছে ৩ হাজার ৩২৪টি, আটক হয়েছে ২৯১ জন পাচারকারী।

অন্যান্য সক্রিয় রুট: আখাউড়া-বিজয়নগর সীমান্ত, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী। 

গত বছর কলকাতার এক নারীর হারানো আইফোন ১৪ প্লাস চট্টগ্রামে সক্রিয় থাকায় বিষয়টি পুলিশ জানতে পারে। তার অভিযোগের পর সিএমপি অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের হোতা মোবাইলটি দিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর এ ফোন থেকেই শনাক্ত হয় একটি বড় পাচারচক্রের মূল নেটওয়ার্ক।

বিটিআরসি জানায়, দেশে বর্তমানে ২৫০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে ১৭টিরও বেশি মোবাইল কারখানা চললেও ৬০% বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে অবৈধ ফোন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বৈধ ব্যবসা এবং বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হচ্ছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR)। নিবন্ধনহীন ফোন তখন আর নেটওয়ার্কে সক্রিয় থাকবে না। এতে চোরাই ফোন শনাক্ত সহজ হবে বলে আশা করছে বিটিআরসি।

ডিএমপির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের মতে, চোরাই ফোনে সিম খুলে ফেলে কেবল ওয়াইফাই ব্যবহার করায় ফোন একবার বন্ধ হলে তা কার্যত ‘অদৃশ্য’ হয়ে যায়। এজন্য হুমকি, চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল, আর্থিক জালিয়াতিসহ নানা অপরাধে এসব ফোন ব্যবহার হচ্ছে এবং অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চোরাই ফোন পাচার শুধু সাধারণ অপরাধ নয়; এর সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র, যারা দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও আর্থিক খাতের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। কঠোর আইএমইআই ট্র্যাকিং এবং সীমান্ত নজরদারি বাড়ানো ছাড়া এ অপরাধ বন্ধ করা কঠিন।

চোরাই মোবাইল পাচার এখন জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট ধ্বংস, কঠোর আইএমইআই মনিটরিং, সীমান্ত নজরদারি ও সচেতনতা ছাড়া এই অপরাধ রোধ করা প্রায় অসম্ভব এমনই মত বিশেষজ্ঞদের।

সূত্র: আরটিভি 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়