স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবলে কোচিংয়ের প্রচলিত ধারণা ভেঙে ইতিহাস গড়েছেন তুরস্কের ২২ বছর বয়সী জেইনেপ মেস্তান। পুরুষদের একটি সিনিয়র ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। তুরস্কের মানিসা প্রদেশের সুপার অ্যামেচার লিগের দল তুরগুতলুসপোরের ২০২৬-২৭ মৌসুমের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এই তরুণী। ক্লাবটির ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী প্রধান কোচ।
২০০৪ সালের ৩০ জুলাই ইজমিরের বর্নোভায় জন্ম জেইনেপের। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তাঁর আগ্রহ। ২০১৯ সালে কারশিয়াকা স্পোরের হয়ে খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরে কোনাক বেলেদিয়েসপোর, বর্নোভা হিতাব স্পোর, সোমা জাফের স্পোর, সোমা জেনচলিক ও বর্নোভা জেনচ ইলদিজলার স্পোরের হয়ে খেলেছেন।
তবে খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের পাশাপাশি কোচিংয়ের প্রতিও আগ্রহ বাড়তে থাকে তাঁর। এজে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বিজ্ঞান অনুষদে পড়াশোনার সময়ই কোচিংকে ভবিষ্যৎ পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নারী ও পুরুষ—দুই ধরনের দলের সহকারী কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই এবার তাঁকে এনে দিয়েছে বড় দায়িত্ব।
পুরুষ দলের কোচ হিসেবে কাজ করতে গিয়ে কোনো অস্বস্তি কিংবা বৈষম্যের মুখে পড়ছেন কি না, এমন প্রশ্নে জেইনেপের উত্তর, খেলোয়াড়েরা তাঁকে একজন কোচ হিসেবেই দেখেন। তাঁর সঙ্গে অন্য পুরুষ কোচদের মতোই স্বাভাবিক আচরণ করেন তাঁরা।
জেইনেপ বলেন, ‘খেলোয়াড়েরা আমার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করে। একজন পুরুষ কোচের সঙ্গে তারা যেভাবে কাজ করে, আমার সঙ্গেও ঠিক সেভাবেই কাজ করে। আমাকে ছোট করে দেখা কিংবা ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার কোনো ইঙ্গিত পাইনি।’
খেলোয়াড়দের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক গড়ে তোলাকে কোচিংয়ের অন্যতম ভিত্তি মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘একজন কোচ খেলোয়াড়কে সম্মান না করলে খেলোয়াড়ের কাছ থেকেও সম্মান আশা করতে পারেন না।’
একসময় তুরস্কের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগে খেলা তুরগুতলুসপোর এখন মানিসা সুপার অ্যামেচার লিগে। ক্লাবটির লক্ষ্য আবারও উচ্চতর লিগে ফেরা। সেই লক্ষ্য পূরণে দায়িত্ব পেয়েছেন জেইনেপ। আপাতত নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন এবং প্লে-অফে ভালো ফল করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এরপর ধাপে ধাপে দলকে উচ্চতর লিগে তোলার পরিকল্পনা তাঁর।
কোচিংয়ে নিজের আদর্শ হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটির পেপ গার্দিওলা ও তুরস্কের সেরজেন ইয়ালচিনকে অনুসরণ করেন জেইনেপ। তাঁদের কৌশল ও কাজের ধরন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নিজের কোচিং দর্শন সমৃদ্ধ করতে চান তিনি।
২২ বছর বয়সে পুরুষদের সিনিয়র দলের প্রধান কোচ হয়ে জেইনেপ এখন তুরস্কের ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর এই অর্জন নারীদের জন্যও খুলে দিতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। তবে ইতিহাস গড়ার পর এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মাঠের পারফরম্যান্সে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া।