শিরোনাম
◈ ইরানের সঙ্গে বড় যুদ্ধের শঙ্কা, গণকবরের প্রস্তুতি মার্কিন বাহিনীর ◈ সৌদি আরবে যৌথভাবে সার কারখানা গড়বে বাংলাদেশ ◈ প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ বিশ্বজুড়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে, শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি! ◈ তাহসিফের মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড়, ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর ◈ হাতিয়ায় হত্যা মামলার আসামিকে ধরতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, ছিনিয়ে নিলেন স্বজনেরা ◈ ৮ ঘণ্টার বৈঠকেও সিদ্ধান্ত হয়নি, এমপি আব্দুল আজিজের বিষয়ে কেন্দ্রে যাচ্ছে নাটোর বিএনপির সুপারিশ ◈ বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ কর্মী নেবে জাপান, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো খবরের সত্যতা নেই: টোকিও ◈ বিগ-বি নিয়ে জাপানের সঙ্গে আলোচনায় তৃতীয় কোনো দেশ ছিল না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ বিষাক্ত ইনজেকশনের মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে ফেরা, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন সেই নারী

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৩৯ সকাল
আপডেট : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৩৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে বড় যুদ্ধের শঙ্কা, গণকবরের প্রস্তুতি মার্কিন বাহিনীর

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এবং তাতে বিপুল সংখ্যক সৈন্যের প্রাণহানির আশঙ্কায় ময়দানে সহযোদ্ধাদের গণকবর দেওয়ার বিশেষ মহড়া পরিচালনা করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ১৯৫০-৫৩ সালের ঐতিহাসিক কোরীয় যুদ্ধের পর এই প্রথম আমেরিকান সেনারা এমন কোনো অনুশীলনে অংশ নিল। ওই যুদ্ধে প্রায় ৩৭ হাজার মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর পেন্টাগনের যুদ্ধরীতির ধরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে ইরাক কিংবা আফগানিস্তান যুদ্ধে কোনো সেনাসদস্য নিহত হলে তার মরদেহ দ্রুত বিমানে করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। তবে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বজায় রাখা সেই নিয়ম থেকে সরে এসে মার্কিন ফৌজ এবার যুদ্ধের ময়দানেই অস্থায়ী গণকবরের প্রস্তুতি ঝালাই করে নিয়েছে। ওয়াশিংটন যখন মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরানে হামলার ছক কষছে, ঠিক তখনই নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে এই অভিনব অনুশীলন সম্পন্ন হয়।

মার্কিন সেনা সূত্রে জানা গেছে, ফোর্ট ব্র্যাগের থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ড, ২০তম প্রকৌশলী ব্রিগেড এবং সামরিক চ্যাপ্লেন বা ধর্মীয় গুরুরা যৌথভাবে এই ড্রাইভে অংশ নেন। যুদ্ধের প্রচণ্ডতার মধ্যে দ্রুত এক্সক্যাভেটর ও বড় ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে কীভাবে সুশৃঙ্খলভাবে মরদেহ কবর দেওয়া যায়, সেনাসদস্যরা তারই কৌশলগত অনুশীলন করেছেন। মূলত নিহতদের শরীর যাতে অক্ষত থাকে এবং যুদ্ধ শেষে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করে পূর্ণ মর্যাদায় দেশে ফেরত পাঠানো যায়, সেভাবেই স্থায়ী ও অস্থায়ী সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলো পরীক্ষা করে দেখা হয়।

মহড়ায় অংশ নেওয়া থার্ড কোর সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফার্স্ট ক্লাস সার্জেন্ট ডেলবার্ট রুয়েড জানান, সংঘাতের মুহূর্তে সহযোদ্ধাদের মরদেহ কীভাবে সর্বোচ্চ সম্মান ও নিয়মতান্ত্রিকতার সাথে ব্যবস্থাপনা করা যায়, তা খতিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, হঠাৎ আজ বা কাল যদি কোনো বড় যুদ্ধ বেঁধে যায়, তবে ময়দানে হুটহাট সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগে থেকেই একটি বৈজ্ঞানিক ও পরীক্ষিত পদ্ধতি রাখা জরুরি, যাতে প্রতিটি সেনার মরদেহের নিখুঁত হিসাব রাখা যায়।

সেনাবাহিনীর ধর্মীয় গুরু এবং চ্যাপ্লেনরাও প্রায় দুই যুগের মধ্যে এই প্রথম রণক্ষেত্রে অস্থায়ী দাফনের ধর্মীয় রীতি ও সহায়তা সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে যদি সত্যিই এক বিধ্বংসী যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে, তবে সেখানে আকাশপথে দ্রুত মরদেহ সরানোর সুযোগ নাও থাকতে পারে। সম্ভাব্য সেই ভয়াবহ পরিণতি এবং বিপুল প্রাণহানির কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়েই পেন্টাগন এমন নজিরবিহীন প্রস্তুতি সেরে রাখছে।

সূত্র: এনডিটিভি

  • সর্বশেষ