কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের ম্যাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রিল এম্বোলোর লাল কার্ড। ম্যাচের ৭১ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এই সুইস ফরোয়ার্ড। বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে কানসাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে অবশ্য আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দিয়েছিলেন রেফারি। কিন্তু ভিএআরের হস্তক্ষেপে সিদ্ধান্ত বদলে যায়।
পারেদেসের কার্ড বাতিল করে উল্টো এম্বোলোকেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এর আগেই আরেকটি হলুদ কার্ড পাওয়ায় মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এরপর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হলেও অতিরিক্ত সময়ে সুইসদের ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার ওই ম্যাচটি শেষ হওয়ার আগেই প্রশ্ন উঠেছে কোন নিয়মে এম্বোলোর লাল কার্ড দেখলেন? ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপে ফিফার চালু করা নতুন ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়মে এম্বোলো লাল কার্ড দেখেছেন। ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনার উদ্যোগে বিশ্বকাপে এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের সময়। ৭১ মিনিটে এম্বোলোকে টাচলাইনের সামনে ফাউল করার দায়ে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার পারেদেসকে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখান পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো। কিন্তু একটু পর হস্তক্ষেপ করে ভিএআর। মাঠের রেফারিকে মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
রিপ্লে পর্যালোচনা করে রেফারি বুঝতে পারেন, পারেদেস কোনো ফাউল করেননি। বরং এম্বোলো ইচ্ছাকৃতভাবে ডাইভ দিয়ে রেফারিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন।
এরপর আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে পারেদেসের হলুদ কার্ড প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে এম্বোলোকে ফিফার নতুন নিয়মের আওতায় হলুদ কার্ড দেখানো হয়। প্রথমার্ধেই হলুদ কার্ড পাওয়ায় এটি ছিল এম্বোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। ফলে তাকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়।
কী আছে নতুন নিয়মে?
এবারের বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম চালু করেছে ফিফা। এর মধ্যে অন্যতম ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত সংশোধনের আইন। ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনার অনুরোধে নিয়মটি চালু করা হয়। এই নিয়মে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের ৭১ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রিল এম্বোলো।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখানোর পর ভিএআর পর্যালোচনায় যদি দেখা যায়, রেফারি ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দিয়েছেন বা ঘটনার প্রকৃত মূল্যায়ন ভুল হয়েছে, তাহলে রেফারি আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবেন। অর্থাৎ ভুলভাবে কার্ড পাওয়া খেলোয়াড়ের শাস্তি প্রত্যাহার করে প্রকৃত দোষীকে কার্ড দেখানোর সুযোগ পাবেন রেফারি।
এই নিয়মেই আটকে যান এম্বোলো। রেফারি প্রথমে পারেদেসকে ফাউলের জন্য দোষী মনে করেছিলেন। কিন্তু ভিএআরের সহায়তায় রিপ্লে দেখে তিনি বুঝতে পারেন, পারেদেস ফাউল করেননি; বরং এম্বোলো ইচ্ছাকৃতভাবে ডাইভ দিয়ে রেফারিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। ফলে পারেদেসের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাতিল করে এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়, যা লাল কার্ডে রূপ নেয়।
তবে শুরুতেই যদি পারেদেসকে হলুদ কার্ড না দেখানো হতো, তাহলে ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়মটি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতো না এবং এম্বোলোও মাঠে থেকে যেতে পারতেন।
এবারই প্রথম নয়: এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচে প্রথমবারের মতো এই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়। সেই ম্যাচে প্রথমে মিগুয়েল আলমিরনকে ফাউলের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্ডার টিম রিমকে হলুদ কার্ড দেখান ডাচ রেফারি ড্যানি ম্যাকেলি। পরে ভিএআরের সহায়তায় রিপ্লে দেখে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং রিমের কার্ডটি বাতিল করে প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরনকে ‘সিমুলেশন’-এর দায়ে হলুদ কার্ড দেখান।
এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন পরিস্থিতিতে রেফারিদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার সুযোগ ছিল না। তবে নতুন নিয়মের মাধ্যমে রেফারিদের সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।