মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে ভায়াগ্রা কেন আলোচনায়?
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উত্তেজনাকর লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মেক্সিকো এবং ইংল্যান্ড। মেক্সিকো সিটির আইকনিক আজতেকা স্টেডিয়ামের উচ্চতা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন সাজ সাজ রব। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭২০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে খেলতে নামার আগে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত কিন্তু চাঞ্চল্যকর আলোচনা। গুঞ্জন উঠেছে, এই প্রতিকূল উচ্চতায় বাতাসের পাতলা স্তর আর অক্সিজেনের অভাব মোকাবিলায় ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা নাকি 'ভায়াগ্রা' ব্যবহারের অনুমতি পেতে পারেন।
শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে এক বিশেষ চিকিৎসাবিজ্ঞানের যুক্তি। ভায়াগ্রার মূল উপাদান সিলডেনাফিল রক্তনালিকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে, যা ফুসফুসে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলোয়াড়দের উচ্চতাজনিত ক্লান্তি ও ঝিমুনি কমাতে কার্যকর হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি বা ‘ওয়াডা’-র ২০২৬ সালের নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় এর নাম নেই। তাই ফুটবলারদের জন্য এটি ব্যবহারের কোনো আইনি বাধা নেই বললেই চলে। থমাস টুখেলের শিষ্যরা যখন মেক্সিকোর মতো দুর্ভেদ্য ঘরের মাঠে খেলতে নামছেন, তখন এমন এক ‘অস্ত্র’ নিয়ে মিডিয়া পাড়ায় আলোচনার ঝড় ওঠাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তবে পুরো বিষয়টি ঘিরে সত্য আর গুজবের মিশেল বেশ ঘন। ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য সান’ এই বিষয়টি সামনে আনলেও, তারা কোথাও নিশ্চিত করেনি যে ইংল্যান্ডের মেডিকেল স্টাফরা সত্যিই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি মূলত একটি নিয়ন্ত্রক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে করা ব্যাখ্যা মাত্র।
ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল নিজেও মেনে নিয়েছেন যে আজতেকার উচ্চতা মেক্সিকোর জন্য এক বিশাল সুবিধা এবং তাদের বিপক্ষে লড়াই করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। অন্যদিকে মেক্সিকো তাদের ঘরের মাঠে কতটা অপ্রতিরোধ্য, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিকে হ্যারি কেইনের গোল করার ক্ষুধা, আর অন্যদিকে আজতেকার প্রতিকূল পরিবেশ; সব মিলিয়ে আজকের এই মহারণ হতে যাচ্ছে মাঠ ও শরীরের লড়াইয়ের এক দারুণ সমীকরণ।
সূত্র: মার্কা