শিরোনাম
◈ ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবের ‘ঘৃণার’ পর জুলাই নিয়ে বক্তব্য সম্পর্কে যা বললেন নিলোফার মনি ◈ রাত পোহালেই ভোট: চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে উত্তাপ চূড়ান্তে ◈ জুলাই আন্দোলন নিয়ে নিলোফার মনির বক্তব্য ‘অযাচিত’, বললেন ছাত্রদল সভাপতি ◈ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন ভিসানীতির পথে বাংলাদেশ ◈ সাইবার নিরাপত্তা ও মানবপাচারে যৌথ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ-সৌদি আরব ◈ হাইকোর্টে এক দিনে ২৪১১ মামলা নিষ্পত্তি ◈ চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল: দেড় লাখ কর্মসংস্থান, বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি ◈ সরকারের সিদ্ধান্তে গতি পাচ্ছে কর্ণফুলী টানেলের ৪৫০ কোটির সাত তারকা রেস্টহাউস  ◈ ‘মানুষকে সীমান্তে ঠেলে পাঠাবেন না’, বিএসএফকে বিজিবির মেগাফোন বার্তা ◈ ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ভুগছে নকশার ভুলে 

প্রকাশিত : ০২ জুলাই, ২০২৬, ০৮:০৭ রাত
আপডেট : ০৩ জুলাই, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কোচ পচে‌ত্তি‌নো বললেন, আমি শতভাগ আর্জেন্টাইন

স্পোর্টস ডেস্ক : কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন রূপকথা লিখে চলেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বাগতিক দলটিকে নিয়ে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চলেছেন এই আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আর এই অবিশ্বাস্য জয়ের পর মাঠের আমেরিকান দেশপ্রেম ও নিজের আর্জেন্টাইন সত্তার এক দারুণ মেলবন্ধন প্রকাশ করলেন পচেত্তিনো।

সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে যখন জন ডেনভারের বিখ্যাত ‘টেক মি হোম, কান্ট্রি রোডস’ গানটি বাজছিল, তখন খেলোয়াড়দের সঙ্গে গলা মেলাতে দেখা যায় ৫৪ বছর বয়সী এই কোচকে। আমেরিকার সংস্কৃতির প্রেমে পড়া পচেত্তিনো আজকাল কান্ট্রি মিউজিক শুনছেন, ভালোবাসছেন ‘চিক-ফিল-এ’।

তবে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে টকস্পোর্টের সাংবাদিক বেন জ্যাকবস তাঁকে প্রশ্ন করেন—তিনি আর্জেন্টিনার মারফি শহরের চেয়ে এখন ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার নাগরিক বেশি হয়ে উঠছেন কি না? তখন হাসিমুখে পচেত্তিনোর তাৎক্ষণিক জবাব ছিল, ‘আমি মনে-প্রাণে ২০০ ভাগ আর্জেন্টাইন!

জ্যাকবস বলেন, ‘আর এখানেই কানাডার প্রধান কোচ জেসি মার্শের সঙ্গে তাঁর সামান্য অমিল—যেহেতু মার্শ বলেছিলেন যে তিনি কানাডিয়ান দেশপ্রেমের সাথে নিজেকে ভীষণভাবে জড়িত অনুভব করেন।

পচেত্তিনোর ব্যাপার জ্যাকবসের উপলব্ধি, ‘পচেত্তিনো মূলত এই স্কোয়াডের ভেতরে তার নিজের আর্জেন্টাইন সত্তাকে ফুটিয়ে তুলছেন, আর আর্জেন্টাইন ও আমেরিকান আবেগ এবং দেশপ্রেমের এই যুগলবন্দীটাই মাঠে দারুণভাবে কাজ করছে। তাদের মধ্যে এতটাই চমৎকার রসায়ন (কেমিস্ট্রি) তৈরি হয়েছে যে, এটিকে কোনো জাতীয় দল নয়, বরং একটি ক্লাব দল বলে মনে হয়—যারা একসঙ্গে অনেক ম্যাচ খেলে অভ্যস্ত। এর পুরো কৃতিত্বটাই মাউরিসিও পচেত্তিনোর।

ম্যাচটিতে অবশ্য নাটকের অভাব ছিল না। ফোলারিন বালোগুনের গোলে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে যাওয়ার পর এক বিতর্কিত লাল কার্ডে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকেই। ভিএআরের সহায়তায় রেফারি রাফায়েল ক্লজ বালোগুনকে লাল কার্ড দেখালে ১০ জনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিকরা। তবে বসনিয়ার প্রবল চাপ সামলে ম্যাচের নায়ক ম্যাক্স টিলম্যান এক চোখধাঁধানো ফ্রি-কিক থেকে গোল করে দলের ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।

এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই ব্রুস অ্যারেনাকে (২টি জয়) টপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতা (৩টি জয়) সফলতম কোচ হয়ে গেলেন পচেত্তিনো। সেটিও মাত্র ৪টি ম্যাচ ডাগআউটে দাঁড়িয়েই।

১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় এক শতাব্দী পর ঘরের মাঠে পচেত্তিনোর হাত ধরে সেই ইতিহাসকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে মার্কিনরা। ৭ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে পচেত্তিনোর শিষ্যরা। স্বপ্ন ছোঁয়ার এই দৌড়ে পচেত্তিনোর হুংকার, ‘সবকিছুই সম্ভব, আমরাই বা কেন নয়?

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়