স্পোর্টস ডেস্ক : গত ২২ জুন অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে দলের দুই গোলই করেন অধিনায়ক মেসি। যদিও ম্যাচের শুরুর দিকে পাওয়া একটি পেনাল্টি মিস করে হতাশায় মুখ ঢেকেছিলেন এই ৩৮ বছর বয়সী।
তবে এরপর নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই ঘুরে দাঁড়ান মেসি। জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দেন এবং বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮-তে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন তিনি।
বার্সেলোনায় মেসির সাবেক সতীর্থ ইব্রাহিমোভিচ মনে করেন, মেসির এই অর্জনই সর্বকালের সেরা ফুটবলারের বিতর্কের ইতি টেনে দিয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্যও তিনি মেসির প্রশংসা করেন।
ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইব্রাহিমোভিচ বলেন, 'আমার মনে হয় না এখন আর কোনো বিতর্ক বাকি আছে। যখন তুমি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হও, বিশ্বকাপ জিতো, ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের বিপক্ষে আধিপত্য দেখাও এবং ৩৮ বছর বয়সেও এমন পারফরম্যান্স করে যাও, তখন মানুষের আর কী চাওয়ার থাকতে পারে?
তিনি যোগ করেন, 'বছরের পর বছর আমরা তাকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করেছি। কিন্তু অতীতের মহাতারকারাও তার পূর্ণ অর্জনের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেন না। পেলে দিয়েগো ম্যারাডোনা, ইয়োহান ক্রুইফ, কিংবা আপনি যার কথাই বলুন না কেন, তারা সবাই অসাধারণ ছিলেন। কিন্তু মেসির পরিসংখ্যান, দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য এবং ট্রফির সংখ্যা তাকে একেবারে আলাদা স্তরে নিয়ে গেছে।'
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন মেসি। ফলে টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচেই তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে। এ সময় নিজের বিশ্বকাপ রেকর্ড নিয়েও মজার একটি মন্তব্য করেন ইব্রাহিমোভিচ।
তিনি বলেন, 'দুই ম্যাচে পাঁচ গোল! আর আমি দুইটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে শূন্য গোল করেছি। তাই আমি তার জন্য খুশি, এবং আশা করি সে এভাবেই চালিয়ে যাবে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই তার জন্মদিন, তাই তাকে উপভোগ করতে দিন। কারণ আমরা সবাই তাকে খেলতে দেখে উপভোগ করছি। অসাধারণ, সত্যিই অসাধারণ, এটা বর্ণনা করার মতো ভাষা নেই।
মানুষ আর্জেন্টিনাকে দল হিসেবে, তাদের কৌশল কিংবা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নিয়ে কথা বলতে পারে। কিন্তু যখনই বিশেষ কিছু প্রয়োজন হয়, তখন একটা নামই বারবার সামনে আসে; লিওনেল মেসি।'
দুই ম্যাচেই জয় পাওয়ায় গ্রুপ জে'র শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী আর্জেন্টিনা। নকআউট পর্ব আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় কোচ লিওনেল মেসি চাইলে দলে রদবদল করতে পারেন। তবে মেসিকে বিশ্রাম দেওয়া হবে, নাকি তিনি শুরু থেকেই দলকে নেতৃত্ব দেবেন, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।