শিরোনাম
◈ ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ◈ সমুদ্রের পাশে ২০০ হেক্টরের মেগা পার্ক, বদলে যাচ্ছে এথেন্সের পুরোনো বিমানবন্দর ◈ দিল্লিকে ঢাকার কঠিন শর্ত: নেপথ্যে ‘অবিশ্বাস’, নাকি সম্পর্কের ‘রিসেট’ চায় ঢাকা? ◈ জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনিযুক্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শ্রদ্ধা ◈ কলেরার টিকা দেওয়া শুরু: কারা পাবেন, কারা পাবেন না ◈ ৬৪ রানে অলআউট হয়ে গেলো বাংলাদেশ ◈ ক্ষমতায় ছয় মাসেও আস্থাভাজন কর্মকর্তা খুঁজতে হিমশিম বিএনপি সরকার! ◈ ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন ◈ দেশের হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিকের ৯১% ‘ওয়াচ’ শ্রেণির, বাড়ছে প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি! ◈ 'সুন্দরপুর-১ কূপ থেকে গ্যাস তোলা যাবে টানা ২০ বছর, দৈনিক মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট'(ভিডিও)

প্রকাশিত : ১৭ জুন, ২০২৬, ০৭:৪০ বিকাল
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যুদ্ধে বাবা-ভাই হারানো ফুটবলার মায়ের অনুপ্রেরণায় বিশ্বকাপে

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। এই বিশ্বকাপ আবার অনেকের জন্য হয়ে উঠে ফিরে আসার মঞ্চ।

বৈশ্বিক এই আসর যেমন অনেককে নায়ক বানায়, তেমনি ভিলেনেও পরিণত করে। এবারের বিশ্বকাপে এমনই এক ফিরে আসার নতুন গল্প লিখলেন ইরাকি ফুটবলার আয়মেন হুসেন। প্রতিকূলতা পার করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ইরাকের এই অধিনায়ক। 

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরাকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাটিয়েছে ঝুঁকিতে।

ইরাকের আল-হাউইজ়া জেলার আল সাফরায় জন্ম আয়মেনের। চারপাশের গুলির আওয়াজ, বোমার বিস্ফোরণ আর অনিশ্চয়তাই ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। সেই নরক থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল ফুটবল। 
কিন্তু মাত্র ১২ বছর বয়সে এক চরম ট্র্যাজেডি নেমে আসে তাঁর জীবনে।

ইরাকি সেনাবাহিনীর সৈনিক আয়মেনের বাবা। তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে আল কায়দার জঙ্গিরা। সে সময় নিজেদের মাথা গোঁজার একটি বাড়ি তৈরির জন্য জিনিসপত্র কিনতে গিয়েছিলেন আয়মেন। বাবার অসমাপ্ত সেই বাড়ি আর কোনও দিন সম্পূর্ণ হয়নি।

বহু বছর পর আয়মেন নিজেই প্রকাশ এক সাক্ষাৎকারে তাঁর কাহিনি শুনিয়েছিলেন।

ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘ফুটবল ভালবাসতাম ঠিকই, কিন্তু আমার আসল স্বপ্ন ছিল কোনও মতে টাকা জমিয়ে বাবার শুরু করা ওই অসমাপ্ত বাড়িটার নির্মাণ করা।’
কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস সেখানেই শেষ হয়নি। পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে আয়মেন তাঁর মা এবং বড় ভাইকে (তিনিও সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন) ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা রাজি হননি। তুরস্কের একটি ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে ফেরার সময় আরো এক মর্মান্তিক খবর পান আয়মেন। আইএসআইএস অধ্যুষিত এলাকায় তাঁর বড় ভাইকে অপহরণ করা হয়। যাঁর আজ পর্যন্ত খোঁজ মেলেনি। এই জোড়া ধাক্কায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন আয়মেন। ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবতে শুরু করেন। কিন্তু সেই কঠিন সময়ে তার মা হাল ছাড়তে দেননি।

মায়ের জেদের কাছে হার মেনেই আয়মেন আবার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন তাড়া করতে শুরু করেন। আর এই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তার জীবন। 

দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে খেলতে যোগ্যতা অর্জনে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্লে-অফে পর্বে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে যোগ্যতা অর্জন করে। সেই ম্যাচে তার পা থেকে আসে জয় সূচক গোলটি।

এরপর শুধু বিশ্ব মঞ্চে নিজের মহাকাব্য রচায়নের বাকি ছিল। বোস্টন স্টেডিয়ামে ‘আই’ গ্রুপে নরওয়ে বিপক্ষে পিছিয়ে বড় দলকে দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফেরাত  আয়মেন। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৪ মিনিটের মধ্যে হালান্ডের গোলে ফের এগিয়ে যায় ইউরোপের দেশ। এরপর ৭৬ মিনিটে লিও ওস্টিগার্ড গোল করেন। আর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ইরাকের আত্মঘাতী গোলে নরওয়ের ব্যবধান আরও বাড়ে। সেই আত্মঘাতী গোলটিও এল আয়মেনের শরীরে লেগে।

বিশ্বকাপের বীরত্ব গাঁধা এবার নিশ্চয়ই নিজের বাড়িটাও সম্পূর্ণ করতে পারবেন আয়মেন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়