কলেরা সংক্রমণ প্রতিরোধে আজ শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে মুখে খাওয়ার কলেরা টিকাদান (প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন-পিওসিভি) কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। কলেরা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ১৪টি উপজেলা ও থানা এলাকায় এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। আজ স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে এসব কথ্য জানানো হয়েছে।
অধিদফতর জানায়, অন্তঃসত্ত্বা নারী এই টিকা নিতে পারবেন না। এছাড়া এক বছর ও তার বেশি বয়সী সবাই এই টিকা নিতে পারবেন। এই কর্মসূচিতে ৫১ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে গ্যাভি দ্য ভ্যাকসিন অ্যাল্যায়েন্স, ইউনিসেফ, ডব্লিউএইচও, আইএফআরসি, আইসিডিডিআর, বি এবং অন্যান্য উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন অংশীদারদের সহায়তা ও তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে।
এ কর্মসূচির আওতায় মুন্সীগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল উপজেলায় টিকা দেওয়া হবে। ঢাকায় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অধীন লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকা এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধীন তেজগাঁও, খিলক্ষেত ও শেরেবাংলা নগর থানা এলাকায় টিকা দেওয়া হবে।
অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে আরও বলা হয়, ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ খাওয়ানো হচ্ছে ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে দেওয়া হবে দ্বিতীয় ডোজ।
উপযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবশ্যই দুই ডোজ টিকা নিতে হবে। কলেরা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ টিকা নেওয়া আবশ্যক।
রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা জানায়, এই কর্মসূচি বাংলাদেশে কলেরা প্রতিরোধ এবং উচ্চ ও অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে কলেরাজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু কমাতে সরকারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সরকারের বহু খাতভিত্তিক হস্তক্ষেপের অগ্রাধিকার এলাকা (পিএএমআই) বিশ্লেষণের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির সফলতা নির্ভর করবে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, স্বেচ্ছাসেবক, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর। উপর্যুক্ত সবাইকে এগিয়ে এসে টিকা নেওয়া এবং কর্মসূচির সময়সূচি অনুযায়ী দুই ডোজ টিকা গ্রহণ সম্পন্ন করার আহ্বান জানায় অধিদফতর।
মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা (ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন) নিতে উপযুক্ত নাগরিকদের ভ্যাক্সইপিআই https://vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করেও প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করা যাবে। এই নিবন্ধনের মাধ্যমে নাগরিকেরা তাদের ন্যাশনাল হেলথ আইডি কার্ড তৈরি করতে পারবেন, যা ভবিষ্যতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
এ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে মূল্যবান সহায়তা ও সহযোগিতার জন্য সব উন্নয়ন ও বাস্তবায়নকারী অংশীদারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে সরকার। লক্ষ্যভুক্ত শহরাঞ্চলে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা ও সহযোগিতার জন্য জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর।
অধিদফতর জানায়, টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হলো কলেরা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের টেকসই ভিত্তি। তাই নিজে এবং পরিবারের সদস্যদের কলেরা থেকে সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনের (মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা) দুটি ডোজই নিন। এক ডোজ যথেষ্ট নয়। কলেরা থেকে সুরক্ষার জন্য দুটি ডোজই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।