শিরোনাম
◈ দেশের হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিকের ৯১% ‘ওয়াচ’ শ্রেণির, বাড়ছে প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি! ◈ 'সুন্দরপুর-১ কূপ থেকে গ্যাস তোলা যাবে টানা ২০ বছর, দৈনিক মিলবে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট'(ভিডিও) ◈ ইসরায়েলপন্থিদের কোটি ডলারের প্রচারণা পেরিয়ে জয়ী ফিলিস্তিনপন্থি আয়েশা! ◈ বীর শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা ◈ টি-টো‌য়ে‌ন্টি সিরিজের সূচি এগিয়ে আনার প্রস্তাব আফগানিস্তানের! জট কাটতে পারে ভারতের বাংলাদেশ সফরের ◈ শত্রুকে এক পা-ও এগোতে দেওয়া হবে না : ইরানের নৌবাহিনী প্রধানের হুঁশিয়ারি ◈ হঠাৎ টানা ভারী বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, হাজারো মানুষের দুর্ভোগ ◈ সরকার কেন এখন কলেরার টিকা দিচ্ছে? এই টিকার কি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে? ◈ ম্যাকাই টেস্টে ভয়াবহ বিপর্যয়, ১২ রানেই ৫ উইকেট হারাল বাংলাদেশ ◈ ধেয়ে আসছে শক্তিশালী এল নিনো, ২০২৭ হতে পারে ইতিহাসের উষ্ণতম বছর

প্রকাশিত : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৮ দুপুর
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

স্থায়ী কমিটি নিয়ে টানাপোড়েন: বিরোধী দল বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা

মনিরুল ইসলাম : জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী দলকে কতগুলো কমিটির নেতৃত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অতীতের রীতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্যে সমন্বয় না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিষয়ভিত্তিক ১১টি এবং মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত ৩৯টি মোট ৫০টি স্থায়ী কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত গঠিত কমিটিগুলোর মধ্যে কেবল সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদই বিরোধী দল পেয়েছে। বাকি কমিটিগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি দলের প্রাধান্যই বজায় রয়েছে।

জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এ উল্লেখ ছিল, সংসদের মোট কমিটির মধ্যে বিরোধী দলকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সভাপতি পদ দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী বিরোধী দল ১৪টি কমিটির সভাপতি পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। এমনকি বিরোধী দলের প্রত্যাশিত ন্যূনতম ১০-১১টি সভাপতিও এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এ কারণে কমিটি বণ্টনে রাজনৈতিক সমঝোতা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

কমিটির গুরুত্ব ও ভূমিকা

সংসদীয় গণতন্ত্রে স্থায়ী কমিটিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, অনিয়ম তদন্ত, বিল পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করে থাকে। ফলে কমিটির নেতৃত্বে ভারসাম্য না থাকলে সংসদীয় জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলকে কার্যকরভাবে কমিটির নেতৃত্বে না রাখলে সংসদের কার্যক্রম একপেশে হয়ে পড়তে পারে এবং সরকারের ওপর কার্যকর নজরদারি দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রাজনৈতিক চাপ

বর্তমান সংবিধান বা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে বিরোধী দলকে কমিটির সভাপতি করার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে রাজনৈতিক রীতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে অতীতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কমিটির নেতৃত্ব বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধান সংশোধন ছাড়াও সরকার চাইলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে বিরোধী দলকে আরও বেশি কমিটির সভাপতি পদ দিতে পারে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সদিচ্ছার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

অতীতের দৃষ্টান্ত

একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদেও সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি একাদশ সংসদে আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত কমিটির নেতৃত্বেও বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই অতীতের তুলনায় পশ্চাৎগামী হিসেবে দেখছেন।

সামনে কী

আগামী অধিবেশনে বাকি ৩৫টি কমিটি গঠন করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এসব কমিটির বেশিরভাগের সভাপতি পদ সরকারি দলের হাতেই থাকবে। এতে বিরোধী দল আরও বঞ্চিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী কমিটির নেতৃত্ব বণ্টনে সমতা নিশ্চিত করা না গেলে সংসদে কার্যকর গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতার পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ফলে বিষয়টি এখন কেবল সাংগঠনিক নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্ন হিসেবেই সামনে এসেছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়