মনিরুল ইসলাম: নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর ফলে সংবিধান অনুযায়ী তার ওই সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
শনিবার (২২ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের (আইন প্রণয়ন শাখা-২) সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা ৩ ঠাকুরগাঁও-১ আসন হতে নির্বাচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করায় ওই আসনটি সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে শূন্য হলো।
বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের জন্য সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শূন্য হওয়া আসনটিতে উপ-নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।
একইসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়, বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।
শিগগিরই উপনির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এই আসনে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি কে হবেন তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চলছে নানা জল্পনা। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে পরবর্তী প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।
আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে দুটি নাম, মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন এবং কন্যা ডা. শামারুহ মির্জা। তবে দলীয় মনোনয়ন শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জুটবে তা নির্ভর করছে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর, যা তফসিল ঘোষণার পর চূড়ান্ত হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য জানিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন তারেক রহমান।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির একাধিক নেতার মতে, মির্জা ফয়সাল আমিন ও শামারুহ মির্জা উভয়েই স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয়। কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষেই কাজ করবেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা, কারণ দলের সিদ্ধান্তকেই তারা চূড়ান্ত বলে মনে করেন। স্থানীয় রাজনীতিতে এমন আলোচনাও রয়েছে যে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তার পরিবার বা ঘনিষ্ঠ মহল থেকেই উত্তরসূরি বেছে নেওয়া হতে পারে।
মির্জা ফয়সাল আমিন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জেলা বিএনপি ও সদর উপজেলা বিএনপিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের কাছে তিনি পরীক্ষিত ও আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত। সমর্থকদের দাবি, আন্দোলন সংগ্রামে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং অভিজ্ঞতার বিচারে দলের মাঠপর্যায়ের ঐক্য ধরে রাখার সক্ষমতায় তিনিই এগিয়ে থাকবেন।