স্পোর্টস ডেস্ক : আইপিএলের সাফল্যের নেপথ্য কারিগর কে, এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলবেন ললিত মোদির নাম। তাঁর হাত ধরে ভারতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সূত্রপাত। তবে এখন তিনি ক্রিকেট থেকে অনেক দূরে রয়েছেন। তবে আইপিএলের খোঁজখবর রাখেন। ক্রিকেটের দুর্লভ স্মারক সংগ্রহে রাখেন তিনি। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় নিজের এই ‘রত্নভাণ্ডার’-এর কিছু ঝলক সামনে এনেছেন তিনি। দুর্মূল্য় কালেকশন দেখলে হিংসে হবেই।
মোদির সংগ্রহে রয়েছে একাধিক দুর্লভ স্মারক। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের একটি পদক। তাঁর দাবি, এক অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন। এছাড়াও রয়েছে শেন ওয়াটসনের ব্যবহৃত ও স্বাক্ষরিত একটি ব্যাট। যা তাঁর সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করেছে।
প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ফাইনালের দৃশ্যটা মনে আছে? যেখানে শেষ ওভারে যোগিন্দর শর্মার অবিশ্বাস্য বোলিংয়ের সৌজন্যে পাকিস্তানকে হারিয়ে ট্রফি ঘরে তোলে ভারত। মহেন্দ্র সিং ধোনির টিম ইন্ডিয়ার সেই জার্সিও ললিত মোদির সংগ্রহে রয়েছে। ভারতীয় দলের সেই জার্সিতে সই করেছিলেন মাহি থেকে গম্ভীর, হরভজন সিং থেকে বীরেন্দ্র শেহওয়াগ-সহ সকলে।
২০০৭ বিশ্বকাপে আরও এক স্মরণীয় মুহূর্ত অবশ্যই যুবরাজ সিংয়ের ছয় ছক্কা। ইংরেজ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডকে টানা ছ'বার বাউন্ডারির বাইরে ফেলেছিলেন যুবি। সেই বিধ্বংসী ইনিংস সেমিফাইনাল ও ফাইনালের আগে ভারতের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। ফলস্বরূপ চ্যাম্পিয়নও হয়। ‘ছয় ছক্কার ব্যাট’-ও রয়েছে ললিত মোদির সংগ্রহে। যার মূল্য ৫০টি পোর্শের চেয়েও বেশি।
যেসব ব্যাট দিয়ে এতদিন খেলেছেন, সেসব কেভিন পিটারসেন প্রায়ই উপহার হিসাবে অনেককে উপহার হিসাবে দেন। তেমনই ২০১৩ সালে অ্যাশেজ সিরিজের ব্যাট। তাঁর সই করা স্মারক সামগ্রীর সঙ্গে সাধারণত একটি ‘সার্টিফিকেট অফ অথেন্টিসিটি’ দেওয়া হয়, যা সইয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে। তেমনই কোনও ব্যাট উপহার হিসাবে দিয়েছিলেন ললিত মোদিকে। সেই ব্যাটও শোভা পাচ্ছে তাঁর সংগ্রহের শোকেসে।
তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ২০১১ বিশ্বকাপের সই করা অনেকগুলি ব্যাট। যা আজ অমূল্য স্মারক। শচীন তেণ্ডুলকর, এমএস ধোনি, বিরাট কোহলিদের অটোগ্রাফযুক্ত ব্যাট নিলামে চড়া দামে বিক্রি হয়। ফাইনালে ধোনির জয়সূচক ছক্কার ব্যাট লন্ডনে এক নিলামে প্রায় ৭২ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে মোদির সংগ্রহে কোন ব্যাটগুলি রয়েছে, তা অবশ্য জানা যায়নি। তাছাড়াও তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ক্রিকেট কিংবদন্তিদের সই করা একাধিক ব্যাট।
বার্সেলোনার জার্সি গায়ে বহুদিন খেলেছেন আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং জেরার্ড পিকে। তাঁদের আইকনিক ৮ ও ৩ নম্বর জার্সি সংগ্রহে রয়েছে ললিত মোদির। তাছাড়াও বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডনের ২৩ নং জার্সিও রয়েছে তাঁর কাছে।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ক্রিকেটারদের সই করা ব্যাটও রয়েছে তাঁর কাছে। তবে কেবল ক্রীড়া স্মারকই নয়, তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাপনও চর্চায়। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তাঁর ৩২টি ফেরারি গাড়ির সংগ্রহের কথাও সামনে আসে। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, তাঁর সংগ্রহে এমন একটি পোর্শেও রয়েছে।
শূন্য দশকের (২০০০) গোড়ার দিকে শহরভিত্তিক টি-টোয়েন্টি লিগের ভাবনা প্রথম উঠে আসে। ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে ক্রিকেট প্রশাসনের বাইরের মানুষ হয়েও ললিত মোদি সেই ধারণাকে সামনে আনেন। পরে শরদ পওয়ারের সমর্থনে ক্রিকেট প্রশাসনে ঢুকে এই লিগ বাস্তবায়নের পথে এগোন। তবে সহজে আসেনি সাফল্য।
সুভাষ চন্দ্রর হাত ধরে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ (আইসিএল) চালু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। এই লিগ বিসিসিআইয়ের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। সেই চাপেই বিসিসিআই এগিয়ে আসে। তারপরেই জন্ম নেয় আইপিএল।
২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করা হয়, বিসিসিআই এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল উভয়ের সমর্থনে অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। একই বছর মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় টিম ইন্ডিয়া। অর্থাৎ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ভারতে যে জনপ্রিয়তা পাবে, সেই আঁচ পাওয়া গিয়েছিল। প্রথমে সংশয় থাকলেও, আইপিএলের প্রথম নিলামেই আটটি দল বিক্রি হয়। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ আইপিএল।
২০১০ সালে দেশ ছেড়েছিলেন ললিত মোদি। কর ফাঁকি, অর্থ পাচার ও আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্ব বরাদ্দে কারসাজির অভিযোগে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট দাবি করেছিল, ২০০৯ সালের সম্প্রচার স্বত্বে অনিয়ম করে ১২৫ কোটিরও বেশি ঘুষ নেন মোদি। এবার সেই তিনিই চর্চায় তাঁর অ্যান্টিক সংগ্রহের জন্য। সূত্র, সংবাদপ্রতিদিন