আল জাজিরা : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নৌ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে সেখান থেকে বের করে আনা। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের শীর্ষ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হস্তক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য তাদের সর্বশেষ ১৪-দফা প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া তারা খতিয়ে দেখছে। ট্রাম্প তেহরানের এই প্রস্তাবকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে ইসরায়েল লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে, এতে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মী আহত হয়েছেন এবং তথাকথিত “অরেঞ্জ লাইন” ঘোষণার মাধ্যমে গাজায় তার নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা প্রসারিত করেছে।
ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন লিখেছে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট, ইরানের সাথে তাদের নানা ইস্যুতে তীব্র মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একটি দ্রুত ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের বিজয় বলতে গেলে ইরানের হাতে তুলে দিয়েছেন। যার ফলে আমেরিকা কোনো কৌশলগত সাফল্য অর্জন না করেই ইরানের কাছে পরাজিত হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সহযোগিতায় শুরু করা, মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং অবৈধ সামরিক হামলা, সাম্প্রতিক যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর বিষয়ে ইরানের সাথে একটি দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত শেষ হবার নয় এবং চলমান বলেই মনে হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, অবৈধ মার্কিন হামলা ইরানকে কেবল আরও ক্রুদ্ধ করেছে এবং এমন কোনো চুক্তি গ্রহণে আরও বেশি সন্দিহান করে তুলেছে যার কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা বা নিশ্চয়তা নেই।
প্রকাশনাটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নীতিগত পার্থক্যসহ মৌলিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও ২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তি হয় যা থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে সরে এসেছিলেন। এই চুক্তিটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শত্রু জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া এবং অন্যান্য জাহাজের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে পূর্ণ সমন্বয়ের শর্ত আরোপ করা ছিল “যুদ্ধের একমাত্র যুগান্তকারী দিক যা ইরান দ্বারা নির্ধারিত হয়েছে, ট্রাম্প দ্বারা নয়।” এতে আরও লেখা হয়েছে: ইরান এই যুদ্ধের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে যে ব্যাপক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করছে, তা হাত ছাড়া করতে রাজি নয়।
ফিনান্সিয়াল টাইমসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃত্ব ও কৃতিত্ব হারিয়েছে এবং ইরানের মাটিতে ও ইরানি নিয়ম মেনে খেলছে, এবং ‘শাসন পরিবর্তন’ বলে কিছু নেই-এই সত্যটি মেনে নিতে বাধ্য হবে।”
এই নিবন্ধের আরেকটি অংশে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, এই দফার সংঘাতের সমাপ্তিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কোনো নির্ণায়ক প্রভাব থাকবে না। সেখানে বলা হয়েছে: যেহেতু ইসরায়েল একটি পারমাণবিক ইরানকে নিজের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে, তাই এটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরও কয়েক দফা সংঘাতের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো ইরানের ‘প্রক্সি বাহিনী’ নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু ইরানের সঙ্গে একটি স্বল্পমেয়াদী যুদ্ধের মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি ব্যর্থ হওয়ায় নেতানিয়াহু ও মোসাদের বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস পেয়েছে এবং লেবাননে ক্রমাগত বোমা হামলা শীঘ্রই ট্রাম্পকে বিরক্ত করতে পারে, যিনি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক সমস্যার সম্মুখীন।