বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম আবারও অর্থ বিভাগের দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন।
আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এম নাজমুল ইসলামের কাছে যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, তিনি তার জবাব শৃঙ্খলা বিভাগের কাছে পাঠিয়েছেন।
ডিসিপ্লিনি কমিটি তার জবাব পর্যালোচনা করে সন্তোষজনক মনে করেছে।’
নাজমুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয় ক্রিকেটারদের নিয়ে কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করার পর। এর আগে ফেসবুক পোস্টে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতের দালাল’ বলেও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এসব ঘটনায় ক্রিকেটাঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন নাজমুলের পদত্যাগ দাবি করেন। এর প্রতিবাদে ১৫ জানুয়ারি বিপিএল বয়কট করেন মোহাম্মদ মিঠুন, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজসহ একাধিক ক্রিকেটার। এতে বিপিএলের একাধিক ম্যাচ স্থগিত হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে টুর্নামেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেয় বিসিবি।
পরবর্তীতে বিসিবি ও কোয়াবের বৈঠকের পর শর্তসাপেক্ষে খেলায় ফেরেন ক্রিকেটাররা।
এর মধ্যেই নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিসিবি এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের পর তিনি লিখিত জবাব জমা দেন, যা ডিসিপ্লিনি কমিটি সন্তোষজনক হিসেবে গ্রহণ করে।
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো নির্বাচিত পরিচালককে সহজে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া যায় না। মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, শৃঙ্খলাজনিত শাস্তি, দেউলিয়া হওয়া অথবা পরপর তিনটি বোর্ড সভায় অনুপস্থিত থাকলেই কেবল পরিচালকের পদ শূন্য ঘোষণা করা যেতে পারে। সে কারণেই নিয়ম অনুযায়ী নাজমুল ইসলাম তার অর্থ বিভাগের দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি নাজমুল ইসলাম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেললে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেন, যা ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। তার ওই মন্তব্যই শেষ পর্যন্ত বিপিএল বয়কট ও বড় ধরনের অস্থিরতার জন্ম দেয়।